বাসুদেব ভট্টাচার্যী খোয়াই প্রতিনিধি ৩০শে মে….. গত কয়েক দিন আগে তেলিয়ামুড়া থানার বহুল চর্চিত ফেন্সি-কাণ্ডে ধৃত চার পুলিশ কর্মীর ৫ দিনের পুলিশি রিমান্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ায় শনিবার দুপুরে তাদের পুনরায় খোয়াই জেলা ও দায়রা আদালতে সোপর্দ করা হয়। পাঁচ দিনের রিমান্ড চলাকালীন ক্রাইম ব্রাঞ্চের উদ্ধার করা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মামলার শুনানির পর আদালত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে।মাননীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতের বিচারপতি শর্মিষ্ঠা মুখার্জী মামলার মূল মাস্টারমাইন্ড তথা এস আই রাজেন্দ্র রিয়াংকে পুনরায় ৫ দিনের পুলিশ রিমান্ডের নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে, বাকি তিন অভিযুক্ত এস আই সম্পা দাস, তেলিয়ামুড়া থানার সেকেন্ড ওসি অজিত দেববর্মা এবং এ এস আই শচীন্দ্র দেববর্মাকে ১৩ দিনের জন্য জেল হাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১২ই জুলাই তাদের পুনরায় আদালতে তোলা হবে বলে জানা গেছে। সরকার পক্ষের আইনজীবী অভিজিৎ ভট্টাচার্য জানান, আগামী ১৩ দিন জেল হাজতে রেখেই এই তিন অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হবে।উল্লেখ্য, তেলিয়ামুড়া থানার নেশা বিরোধী অভিযানে আটক করা মাদক ও ফেন্সিডিলের একটি বড় অংশ সরকারিভাবে সিজ না করেই তা চোরাপথে বাইরে চড়া দামে বিক্রি করে দেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছিল এই পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগ সামনে আসতেই খোয়াই জেলার পুলিশ সুপার একটি বিশেষ তদন্তকারী টিম গঠন করেন। তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা মেলার পর তাৎক্ষণিকভাবে এই চারজনকে ক্লোজ ও পরে বরখাস্ত করা হয়। তেলিয়ামুড়া থানায় তাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট মামলা দায়ের করা হয়।পরবর্তীকালে রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশকের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার তুলে দেওয়া হয় ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে। ক্রাইম ব্রাঞ্চ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে গত ২৬শে মে খোয়াই জেলা ও দায়রা আদালতে সোপর্দ করে ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছিল, যা আদালত মঞ্জুর করে। সেই অনুযায়ী শনিবার দিনটি ছিল রিমান্ডের শেষ মেয়াদ। শেষে ক্রাইম ব্রাঞ্চের নতুন তথ্যের ভিত্তিতে আদালত এই চারজনের বিষয়ে পৃথক হেফাজতের নির্দেশ দিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা রাজ্যে ও পুলিশ মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।



