Monday, July 20, 2026
বাড়িখবরশীর্ষ সংবাদসুকান্ত ভট্টাচার্য ছিলেন শ্রেণী চেতনার একজন শানিত কবি, তেমনটাই উক্তি করলেন সুকান্তের...

সুকান্ত ভট্টাচার্য ছিলেন শ্রেণী চেতনার একজন শানিত কবি, তেমনটাই উক্তি করলেন সুকান্তের জন্মশতবার্ষিকী অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা বিচার পতি শুভাশিস তলাপাত্র।

বাসুদেব ভট্টাচার্যী খোয়াই ১৯ শে জুলাই…… বলতে পারো বড়ো মানুষ মোটর কেন চড়বে ? গরীব কেন সেই মোটরের তলায় চাপা পড়বে? বলতে পারো বড়ো মানুষ ভোজের পাতে খায় দই লুচি মিষ্টি ? গরীবরা খায় খোলাম খুচি এ কী অনাসৃষ্টি? হিং টিং ছট পোকারা সব মাথার মধ্যে কামড়ায় বড়ো লোকের ঢাক তৈরি গরীব লোকের চামড়ায়? জন্ম শতবর্ষের অবিস্মরণীয় কবি সুকান্তের এসব হাজারো প্রশ্নের উত্তর মিলেনি আজো।একশো বছর পার হয়ে গেছে।কিন্তু আজো কবি সুকান্ত সমান প্রাসঙ্গিক আমাদের বৃহত্তর সামাজিক পরিমণ্ডলে।কিন্তু বিধির বিধানকে কে খন্ডন করতে পারে তাইতো দুরারোগ্য মারণ ব্যাধির কারনে মাত্র একুশ বছর বয়সে থামিয়ে দিয়ে দিল দিন বদলের কবির জীবনবাতী।আর আজো সুকান্তের জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠানমালায় ছুটে আসেন দলমত নির্বিশেষে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনেন আলোচকদের বক্তব্য।শনিবার কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য জন্মশতবর্ষ উদযাপন কমিটির আহ্বানে খোয়াইয়ে আয়োজিত আলোচনাসভায় উঠে এলো কবির কাব্যচর্চা ও তার কবিতার মূল প্রতিপাদ্য বিষয়গুলো।আলোচনাসভার মূখ্য আলোচক ছিলেন সাহিত্য সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক তথা উড়িষ্যা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি শুভাশিস তলাপাত্র।আলোচনাসভার বিষয়বস্তু ছিল ” বিপন্ন মানুষের কবি সুকান্ত”।কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মশতবর্ষ উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান ও প্রাক্তন পুরপিতা সুখেন্দু বিকাশ দে ছিলেন এই দিনের আলোচনাসভার সভাপতি।এছাড়াও মঞ্চে ছিলেন জন্মশতবর্ষ উদযাপন কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান রথীন্দ্রনাথ বিশ্বাস।স্বাগত ভাষণ দেন কমিটির আহ্বায়ক অরুণ পাল।কবির অবাক পৃথিবী অবাক করলে তুমি গানটি গেয়ে শোনান শিল্পী শেলী চক্রবর্তী।মুখ্য আলোচক শুভাশিস তলাপাত্রের উদ্দেশ্যে লেখা একটি শুভেচ্ছাপত্র পাঠ করেন কবি মনোজিত দত্ত।আলোচনাসভায় কবির জন্মশতবর্ষে আয়োজিত প্রবন্ধ ও চিঠি লেখা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে এদিন তুলে দেওয়া হয় পুরস্কার।সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে স্বপনপুরী অতিথি নিবাসের কনফারেন্স হলটি ছিল এই দিন কানায় কানায় পরিপূর্ণ।মূখ্য আলোচক শুভাশিস তলাপাত্র কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্যের জীবন, দর্শন ও তার কাব্যচর্চার বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক বিষয়ের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, কবি দিন বদলের ডাক দিয়েছিলেন।সমাজ বদলের ডাক দিয়েছিলেন।কবি তার জীবদ্দশায় বদলে যাওয়া দিন দেখে যেতে পারেন নি।কিন্তু আমরা এখনো সেই স্বপ্ন দেখি।একদিন সমাজ বদলাবে।আর কবিতায় সুকান্তের সেই হাজারো প্রশ্নের উত্তরও হয়তো একদিন মিলবে।কবি সুকান্ত তার উত্তরাধিকারী হিসেবে আমাদের ওপর এক বিরাট দায়িত্ব অর্পন করে গেছেন।সুকান্তের অসমাপ্ত লড়াই আজকেই থামবে না।তার কবিতার কলম থেমে গেলেও তার লড়াই থামে নি।সেই লড়াই সমানে চলবে।আর সেই লড়াই লড়তে হবে আমাদের।কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য তার কবিতায় হাজারো প্রশ্ন রেখে গিয়েছেন শুধু খেয়ালের বশে নয়।তার কবিতায় তিনি সমকালীন সমাজের এক বাস্তব ছবি ও চিত্র এঁকেছেন।ধনী গরিবের প্রভেদের বিষয়টি তুলে এনেছেন তার লেখনীর মধ্য দিয়ে।শোষণ ও সামাজিক বৈষম্যের ছবি তুলে ধরেছেন।সুকান্তকে বুঝতে হলে তার জীবনের দর্শন বুঝতে হবে।সুকান্ত তার কবিতায় কবির পরিচিতিকে প্রাধান্য দিতেন না।তিনি নিজেকে কমিউনিস্ট বিপ্লবী বলে ভাবতেন।শ্রেণী চেতনাকে খুব নিখুঁতভাবে তিনি তার কবিতায় তুলে এনেছেন।তিনি বলতেন যে, ” দুটি শ্রেণী যখন মুখোমুখি সম্মুখসমরে এসে হাজির হয়, তখনই কবির যাবতীয় দায় দায়িত্ব।দুটি শ্রেণীর মধ্যে একটিকে বেঁছে নিতে হবে।শুভাশিস তলাপাত্র বলেন, সামাজিক বৈষম্য, ঐক্য সংহতির চ্যালেঞ্জ, অন্যায়, অবিচার , ভ্রাতৃঘাতী দাঙ্গার আগুনের লেলিহান শিখা , ছিয়াত্তরের মন্বন্তর এসব বিষয় কিশোর সুকান্তের মনকে গভীরভাবে আলোড়িত করে তুলেছিল।পুঁজিবাদী শোষণ কীভাবে ফ্যাসিবাদী আধিপত্যের স্থান দখল করে নিতে পারে কবি সুকান্ত তা উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন।কবি নিজেকে জনতার কবি বলে ভাবতেন।মেজবৌদি অর্থাৎ রেণুবৌদিকে লেখা চিঠিতে কবি নিজেই সেকথা লিখেছেন।সুকান্ত ছিলেন যুগের সৃষ্টি ও যুগের স্রষ্টা।এক কথায় যুগ যুগান্তের কবি।তিনি ছিলেন বিপ্লবের কবি।জন জাগরণের কবি।বিপ্লবের স্বপ্ন দেখে গেছেন আজীবন।ক্ষুব্ধ ও বুভুক্ষু মানুষের চেতনাকে শানিত করে গেছেন তার কবিতার মধ্য দিয়ে।তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, কোন বিতর্ক দিয়ে ফ্যাসিবাদী বিপদের মোকাবিলা করা যায় না।প্রতিরোধের ব্যারিকেড গড়ে তুলতে হয়।সুকান্ত বলতেন, একজন কবিকে সত্য ও মানুষের প্রতি আস্থা রাখতে হয়।মানুষ যখন নিজেকে বিপন্ন বোধ করে তখন কবিকে সেই বিপন্ন মানুষের পাশে এসে দাঁড়াতে হয়।সুকান্তের কাব্যচর্চা ও সাহিত্য আমাদের এই শিক্ষাই দেয় যে, কবি এমনি এমনি তৈরি হয়না।প্রকৃতি ও প্রেম আপনা আপনি কবিতায় আসে না।অভিঘাত থেকে আসে অনুভূতি।আর অনুভূতি জন্ম দেয় সামাজিক দায়বদ্ধতার কাব্যচর্চার।বাংলার কৃষক আন্দোলন , বিশেষ করে তেভাগার আন্দোলন কিশোর কবি সুকান্তকে আলোড়িত করেছিল। তিনি বলেন, সুকান্ত ছিলেন সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মীয় মৌলবাদ আর বিচ্ছিন্নতাবাদের বিরুদ্ধ চেতনার কবি।নিজেই বলতেন যে, যে শ্রেণীর মানুষকে বাঁচার জন্য লড়তে হয়, অধিকারের জন্য লড়তে হয়, আমি সেই শ্রেণীর কবি। শুভাশিস তলাপাত্র বলেন, আজ সমাজের সভ্যতা সংস্কৃতি ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে এসে উপনীত হয়েছে।কৃষক জমি হারাচ্ছে।সে ফসলের নায্য দাম থেকে বঞ্চিত।কাজের সুযোগ নেই বেকার যুবকদের সামনে।রাষ্ট্র তার স্বীয় কর্তব্য পালন করছে না।এই অবস্থায় আমরা যারা আলোর পথ যাত্রী তাদের সামনে আজ এক বিরাট দায়িত্ব।কবি সুকান্তের জীবনাদর্শ ও তার কাব্যচর্চায় উৎসারিত দায়বদ্ধতায় অনুসারী হয়ে বিপন্ন মানুষের লড়াইয়ের সহযোদ্ধা হতে হবে।সুকান্ত আমাদের সামনে একটি আয়নার মতো।সেই আয়নায় নিজেই নিজেকে দেখতে হবে।নবজাতকের কাছে কবির দৃঢ় অঙ্গীকার ছিল ” প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল, এ বিশ্বকে শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি”। বলেছিলেন, ” তারপর হবো ইতিহাস”।কবি সুকান্তের স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ব সম্পাদন করতে হবে আমাদের।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

5 × four =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য