বহুল আলোচিত প্রগতিশীল ইনফ্রা প্রজেক্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড চিটফান্ড মামলায় গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণা করল আগরতলার সিবিআই বিশেষ আদালত। মামলায় সংস্থার তিন শীর্ষ আধিকারিককে ৬ বছরের কারাদণ্ড ও ৩ লক্ষ টাকা করে জরিমানার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। রাজ্যে বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থা বা চিটফান্ড কেলেঙ্কারির একাধিক মামলার বিচার প্রক্রিয়া এখনও চলছে। সেই ধারাবাহিকতায় শনিবার আগরতলার সিবিআই বিশেষ আদালত প্রগতিশীল ইনফ্রা প্রজেক্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড সংক্রান্ত একটি মামলায় তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করে।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন সংস্থার সিএমডি অরিন্দম দাস, অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ডিরেক্টর দীপশিখা দাস চক্রবর্তী এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর পরিতোষ দাস। ২০০৯ সাল থেকে কৈলাসহরে সংস্থাটির কর্পোরেট অফিস পরিচালিত হচ্ছিল। গ্রাহকদের জমা টাকার দ্বিগুণ মেয়াদপূর্তির প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে আগরতলা, শান্তিরবাজার, উদয়পুরসহ বিভিন্ন এলাকায় এবং অসমের বরাক উপত্যকাতেও শাখা বিস্তার করে সংস্থাটি। কিন্তু ২০১১ সালের পর থেকে গ্রাহকদের মেয়াদপূর্তির টাকা ফেরত দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ২০১২ সালে সংস্থার আধিকারিকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। তদন্ত শেষে সিবিআই আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।
দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের পর সিবিআই বিশেষ আদালতের বিচারক দেবাশীষ কর শনিবার রায় ঘোষণা করেন। আদালত ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২০-বি ধারায় ৫ বছরের কারাদণ্ড ও ১ লক্ষ টাকা জরিমানা, ৪২০ ধারায় ৫ বছরের কারাদণ্ড ও ১ লক্ষ টাকা জরিমানা এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষ আইনের ধারায় ৬ বছরের কারাদণ্ড ও আরও ১ লক্ষ টাকা জরিমানা ধার্য করেন। এছাড়াও আদালত সংস্থাটির বিরুদ্ধেও রায় ঘোষণা করে এবং কোম্পানিকে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করার নির্দেশ দেয়। মামলায় অভিযোগ ছিল, প্রগতিশীল ইনফ্রা প্রজেক্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে।
দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই চিটফান্ড মামলার রায়ে ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। একই সঙ্গে বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর বার্তাও দিল সিবিআই বিশেষ আদালত।



