Tuesday, July 23, 2024
বাড়িখবরশীর্ষ সংবাদরক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকা ৭০ উর্ধ এক বৃদ্ধাকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেন...

রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকা ৭০ উর্ধ এক বৃদ্ধাকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেন খোয়াই এর সাংবাদিক সত্য রঞ্জন দেব।

বাসুদেব ভট্টাচার্যী খোয়াই ৫ই জুলাই….সাংবাদিকরা নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শুধু খবর সংগ্রহ করে খবর প্রকাশের কাজেই নিযুক্ত থাকে না তাদের এই পেশাগত কাজের পাশাপাশি সময় সুযোগে কিছু কিছু সামাজিক কাজও করে থাকে তাইতো বলে মানুষ মানুষের জন্য জীবন জীবনের জন্য ।এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই মানুষকে সমাজবদ্ধ জীব বলে আখ্যায়িত করেছেন বিভিন্ন কবি সাহিত্যিক ও দার্শনিকরা। তাই আজকাল আমরা অধিকাংশরাই নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত।অথচ অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা আজকাল একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে আজকের ভদ্র সমাজ ব্যবস্থাতে। অন্যদিকে একাংশ জনগণ রয়েছেন যারা কিছুটা হলেও সামাজিক দায়বদ্ধতাকে মান্যতা দিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মত দৃষ্টান্ত তৈরি করলেও একটা বৃহৎ অংশের মানুষ এই দায়বদ্ধতাকে মান্যতা দিতে চায় না কারণ এখানে কোন ধরনের পয়সা উপার্জনের রাস্তা নেই বলে। এমনই একটি ঘটনা ঘটল বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ৩০ মিনিট নাগাদ খোয়াই অফিস টিলা রোড স্থিত মাস্টার পারা সংলগ্ন এলাকার সড়কে সম্ভবত পশ্চিমা আদিবাসী অংশের একজন সত্তর উর্ধ্ব এক বৃদ্ধ লোক রাস্তায় বসে রয়েছে ওনার মাথা দিয়ে অনবরত রক্ত ঝরে যাচ্ছে অথচ এই রাস্তা ধরে শতশত খোয়াইয়ের শুভ বুদ্ধি সম্পন্ন জনগণ আসা যাওয়া করছে এবং ঘটনাস্থলের আশেপাশের স্থানীয় দোকানদাররা অসহায় বৃদ্ধের রক্ত ঝরা অবস্থা দেখছেন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে একটি লোকের ও এই বিষযটি দেখে সামান্য তম মায়া-মমতা জাগ্রত হলোনা তাদের হৃদয়ে বৃদ্ধ লোকটি কেন রক্তাক্ত। পাশাপাশি তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা কিন্তু না সবাই ছিল দাঁড়িয়ে তামশা দেখার জন্য।তখনই হঠাৎ এই রাস্তা ধরে খোয়াই সুভাষ পার্ক বাজারে আসার পথে আমাদের খোয়াই মহকুমার সাংবাদিক সত্য রঞ্জন দেব এই বিষয়টি লক্ষ্য করেন এবং বাইক থেকে নেমে সংশ্লিষ্ট স্থানে দাঁড়িয়ে রক্তঝরা অসহায় বৃদ্ধকে জিজ্ঞেস করলেন কিভাবে মাথা ফেটেছে এই কথা শুনে অসহায় বৃদ্ধ যেন কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেরে বললেন বাবু আমার মাথাটা ঘুরেগিয়ে আমি পরে গিয়েছিলাম তারপর অনেক সময় কিছু বলতে পারিনি। তারপর ঐ সাংবাদিক অসহায় বৃদ্ধকে ধরে রাস্তার মধ্যে থেকে নিয়ে গিয়ে রাস্তার কিনারায় বসান। এই কাজগুলি যখন করছিলেন সাংবাদিক তখন কিছু দূর থেকে খোয়াইয়ের আরেক বিশিষ্ট লোক তথা মানবাধিকার কমিশনের খোয়াই জেলা সভাপতি আশীষ মুখার্জি সাংবাদিকের উদ্দেশ্যে টিটকারি মেরে বলছেন মদ খেয়েছে মনে হয় অথচ বৃদ্ধ রাস্তায় যখন পড়েছিল এই মানবঅধিকার কমিশনের লোকটি কিন্তু বৃদ্ধের সামনে এসে একবারও দেখিনি উনার কি হয়েছে অথবা উনি মদ খেয়েছেন কিনা। ওই লোকটির ঐরকম উক্তি শুনে তখন ওই অসহায় বৃদ্ধ বলছে না বাবু আমি মদ খাইনি আমার মাথাটা ঘুরেছে বৃদ্ধের কথা সত্যি উনি মদ মত্ত ছিলেন না। অসহায় বৃদ্ধ ঠিক ভাবে তখন কথাও বলতে পারছিল না কারণ মাথা ঘুরে পরে গিয়ে হয়তো মাথায় আঘাত লাগার ফলে অনেকটা দিশাহীন হয়ে পড়েন।এরপর সাংবাদিক সত্য রঞ্জন দেব যখন জিজ্ঞেস করেন ওই বৃদ্ধ কে যে ডাক্তারের কাছে যাবে কিনা এই কথা শুনে সেই বৃদ্ধ স্বস্তি নিঃশ্বাস ফেলে বলেন বাবু আমাকে নেবেন ডাক্তারের কাছে। তখন ওই সাংবাদিক পুলিশ এবং অগ্নি নির্বাপক দপ্তরকে ফোন করলে পুলিশ এবং অগ্নি নির্বাপক দপ্তরের কর্মীরা এসে ঐ অসহায় বৃদ্ধকে খোয়াই জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায় চিকিৎসার জন্য পাশাপাশি তাদের পেছনে পেছন সেই সাংবাদিকও যায় এবং হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করিয়ে দেন। এখানে লক্ষণীয় বিষয় হল পুলিশ এবং অগ্নি নির্বাপক দপ্তরের কর্মীরা যখন অসহায় বৃদ্ধকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য ঘটনাস্থলে পৌঁছান তখন আশেপাশের লোকজন সহ পথ চালিত শতাধিক জনতা জড়ো হয়ে যায় ঘটনাস্থলে তামাশা দেখার জন্য। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে ও তাদের জন্য একটু সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়াতে পয়সা খরচ হয় না ভালো একটি মন মানসিকতার পরিচয় লাগে যা করে দেখিয়েছেন এক সাংবাদিক।অথচ খোয়াই শহরকে সাংস্কৃতিকের শহর বলা হয় তার মানে এই শহরের লোকেরা খুবই শুভ বুদ্ধি সম্পন্ন লোক আর তাদের কাছে থেকে এরকম আচরণ খোয়াই বাসীর জন্য খুবই লজ্জা জনক যা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর অন্যদিকে কোন মানুষ সম্বন্ধে না জেনে না বুঝে কোন উক্তি করাও ঠিক না। রাস্তায় পড়ে গেলেই যে কোন ব্যক্তি মদ মত্ত হয়ে পড়ে গেছে এমন ধারণা করাটাও ঠিক না। আর যদিও মদোমত্ত ব্যক্তিও যদি ও হয় আমরা সমাজের শুভবুদ্ধি সম্পন্ন জীব মানুষ হিসাবে আর কিছু করি আর না করি অগ্নি নির্বাহ দপ্তর এবং পুলিশকে খবর দিলে ওরা এসে সেই ব্যক্তিকে পুলিশ বেঁধে নিয়ে যাবে না। অসহায় রক্তাক্ত বৃদ্ধ যখন রাস্তার মধ্যেখানে বসেছিল খোয়াইয়ের সবথেকে ব্যস্ততম রাস্তা এই অফিস টিলা যেকোনো সময় আরো বড় ঘটনা ঘটে যেতে পারত। অথচ খোয়াই শুভবুদ্ধি সম্পন্ন লোকের মধ্যে একজন সেখানে ছিলেন যিনি মানব অধিকার কমিশনের খোয়াই জেলার সভাপতি আশীষ মুখার্জি যিনি ঘটনাটি দেখে দূর থেকে টিপ্পন করছিলেন অথচ একবার এগিয়ে এসে দেখলেন না ঘটনাটা কি হয়েছে।এই ধরনের ছোট মানসিকতা ও স্বার্থান্বেষী মানুষকে দিয়ে মানব অধিকার কমিশনের লোকেরা উনার মতন এক ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিয়ে রেখেছেন খোয়াই জেলাতে অথচ নিজের চোখের সামনে ঘটনাটি ঘটে যাওয়ার পরও সাহায্যের জন্য একটু হাত বাড়ান নি ।এই ধরনের ছোট মানসিকতার লোকেরা মানব অধিকার কমিশনের জন্য কি কাজ করবে তা বলা বাহুল্য এদের মতন মানুষদেরকে দিয়ে সমাজের কোন ভালো কাজে আশা করা যায়না ওরা সমাজের ক্ষতি ছাড়া কিছুই করতে পারবেনা যা প্রমাণ হয়ে গেল বৃহস্পতিবার রাতে।যাই হোক সর্বশেষে একটা কথাই বলতে হয় মানুষ মানুষের জন্য এর জন্যই সাংবাদিক সত্য রঞ্জন দেব একজন মনুষ্যত্বের কাজ করলেন যার জন্য খোয়াই বাসি উনাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

7 − 2 =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য