Tuesday, April 16, 2024
বাড়িখবরশীর্ষ সংবাদ১৯৭৮ সালে রাজ্যে প্রথম সিপিএম সরকার ক্ষমতাশীন হয়ে কংগ্রেস দলের নেতাকর্মীদের খুন...

১৯৭৮ সালে রাজ্যে প্রথম সিপিএম সরকার ক্ষমতাশীন হয়ে কংগ্রেস দলের নেতাকর্মীদের খুন করার নীল নকশা তৈরি করতে শুরু করে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য ।আর তা শুরু হয় ওই বছরই প্রথম রাজনৈতিক খুন কংগ্রেস কর্মী নৃপেন্দ্র দেবনাথের খুনের মাধ্যমে।

বাসুদেব ভট্টাচার্যী খোয়াই ২৭ শে মার্চ……..ত্রিপুরা রাজ্যে দীর্ঘদিন কংগ্রেসদল ক্ষমতায় থাকার পর অবশেষে ১৯৭৮ সালে প্রথম সিপিএম দল ক্ষমতায় আসে।যদিও একটি কথা সত্যি এই সিপিএম সরকার ক্ষমতায় আসার জন্য অনেক লড়াই সংগ্রাম করেছে।নিজেদের দল এবং দলের বিভিন্ন সংগঠনকে শক্তি শালী করতে শহর থেকে গ্রাম পাহাড়ে তাদের দলের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখতে ব্যাপক লড়াই সংগ্রামের মাধ্যমে অবশেষ রাজ্যের গণদেবতারা ১৯৭৮ সালে সিপিএম দলকে ক্ষমতায় আনে।আর তাদের স্লোগান ছিল যে এই দল গরীব মেহনতী মানুষের জন্য এবং গরিবদের সরকার।তাদের সেই শ্লোগানে বশীভূত হয়ে তৎকালীন রাজ্যের গরিব মেহনতী মানুষেরা সিপিএম দলটিকে ক্ষমতায় আনে।ক্ষমতায় আসার পরেই সিপিএম দল একটি কথা চিন্তা করে যে এই সিপিএম দলটিকে যখন রাজ্যবাসী ক্ষমতায় এনেছে তাই যেকোনোভাবেই হোক এই দলকে ক্ষমতায় থাকতে হবে দীর্ঘদিন।এর জন্য সাম দাম দণ্ডভেদ অর্থাৎ সব ধরনের পথ অবলম্বন করতে হবে।কারণ দীর্ঘদিনের কংগ্রেস দলকে হারিয়ে ক্ষমতায় এসেছে সিপিএম দল সেই ক্ষমতা হয়তো আগামী পাঁচ বছর পর চলে যেতে ও পারে সেই ভয়ে তারা একটি সিদ্ধান্তে চলে আসে যে রাজনৈতিক ক্ষমতায় টিকে থাকতে গেলে প্রথমে কংগ্রেস দলের নেতা ও উচ্চপদস্থ কর্মীদের তাদের পথ থেকে চিরতরে সরিয়ে দিতে হবে যেই চিন্তা সেই কাজ না হলে ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না।এরপর শুরু হলো সিপিএম দলের পক্ষ থেকে কংগ্রেস দলের নেতাদের চিরতরে সরানোর জন্য তৈরি হলো নীল নকশা যাতে করে কংগ্রেস দলের শক্তি এবং তাদের সংগঠনকে চিরতরে বিনষ্ট করে দেওয়া যায়।যেমন চিন্তা তেমন কাজ তৎকালীন সময়ে সিপিএম দল ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী হন নৃপেন চক্রবর্তী।উনি মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীনই রাজ্যের ইতিহাসে প্রথম কলঙ্ক জনক অধ্যায় শুরু হয় এবং রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথম রাজনৈতিক খুনের শিকার হন ১৯৭৮ সালের জুন বা জুলাই মাসে খেয়াই জাম্বুরা এলাকার নিবাসী একজন কট্টর কংগ্রেস কর্মী নৃপেন্দ্র দেবনাথ।তখন খোয়াই এর বিধায়ক ছিলেন সমীর দেব সরকার।এই দিন কোন এক রাজনৈতিক ঘটনা কে কেন্দ্র করে নৃপেন্দ্র দেবনাথ খোয়াই পুরান বাজার স্থিত খোয়াই থানাতে রিকসা করে যান দুপুরে।এবং থানার কাজ শেষ করে বারি ফেরার পথে ঐদিন বিকেল তিনটা থেকে সাড়ে তিনটা নাগাদ যখন রিকশা করে বাড়ি ফিরছিলেন তখন খোয়াই সরকারি দ্বাদশ শ্রেণি বালিকা বিদ্যালয় সংলগ্ন বর্তমানে হীরেন্দ্র সিনহা সরণি রাস্তার মুখে এলাকার কিছু সিপিএমের গুন্ডাবাহিনী নৃপেন্দ্র দেবনাথ এর রিস্কাকে আটক করে এবং রিক্সার চালককে মারধর করে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয় এবং সিপিএমের ঘাতক বাহিনী নিপেন্দ্র দেবনাথ কে চাকু দিয়ে উনার পেটে বেশ কয়েকটি আঘাত করে এবং লাঠি দিয়ে প্রচন্ড মারধর করে তাতে উনার পেটের ভুরুল বেরিয়ে আসে এবং রক্তাক্ত অবস্থায় নৃপেন্দ্র দেবনাথকে রাস্তায় ফেলে দিয়ে খুনিরা চলে যায় ঐ সরণির রাস্তা দিয়ে। যন্ত্রনায় কাতর নিপেন্দ্র দেবনাথ এর চিৎকারে এলাকার মানুষ সবই লক্ষ্য করে কে বা কারা এই নৃশংস হত্যা করেছিল।এরপর যদিও গুরুতর আহত নৃপেন্দ্র দেবনাথ কে দুজন এলাকাবাসী রিস্কা করে হাসপাতালে নিয়ে গেলও শেষ রক্ষা হয়নি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন নৃপেন্দ্র দেবনাথ। কিন্তু সেই হত্যার বিচার প্রায় দীর্ঘ ২৫ বছর চলে শেষে খুনিরা উপযুক্ত প্রমাণ আর অভাবে বেকসুর খালাস পেয়ে যায়।তখন থেকেই শুরু হলো সিপিএম দলের খুনের রাজনীতি যা চলে দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর একের পর এক কংগ্রেস কর্মীদের হত্যা করে। এই হত্যার পর মনে হয়েছিল বাঘের মুখে নরের রক্তের স্বাদ লেগেছে আর তাই ঘটতে থাকলো একের পর এক।এরপর কয়েক বছর যদিও কিছু হয়নি কিন্তু ১৯৮০ সালের জুনের দাঙ্গায় অলিখিতভাবে অনেক কংগ্রেস নেতা কর্মী খুন হয়ে গেছে জাতিগত দাঙ্গার নামে যা মানুষ হিসেব রাখতেই ভুলে গেছে।এরপর ১৯৮৮ সালে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে আবার ক্ষমতা ফিরে পায় তৎকালীন কংগ্রেস টিওজিএস জোট সরকার।ওরা কোনভাবে পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার পর গণদেবতা সিপিএমকে সরিয়ে ভুল করেছে ভেবে পুনরায় ১৯৯৩ সালে আবার সিপিএম দলকে ক্ষমতায় আনে।যেটা ছিল রাজ্যবাসী সব থেকে ভুলের কারণ যা প্রথমে ভাবতে পারেনি রাজ্যবাসী।তৃতীয়বার ক্ষমতায় এসে সিপিএম দল এক প্রকার উন্মাদ হয়ে গেছে শুরু হয় ক্ষমতা বলে ক্ষমতার অপব্যবহার আর তখন তারা বুঝতে পেরে গিয়েছিল যে দ্বিতীয়বার যখন ক্ষমতায় এসেছে এবার ২৫ থেকে ৩০ বছর ক্ষমতা ধরে রাখতে হবে আর তাই হয়েছিল।এর পর থেকেই শুরু হলো ত্রিপুরা রাজ্যে ক্রমান্বয়ে রাজনৈতিক হত্যা যা ১৯৭৮ সাল থেকে শুরু হয়ে চলে ২০০৯ সাল পর্যন্ত।অথচ দেখা গেছে তৎকালীন সময়ে ১৯৯১ সালে রাজ্যে কংগ্রেস সরকার থাকার পরও কংগ্রেস টিউজিএস জোট সরকারের এক নেতা খোয়াই রামচন্দ্র ঘাটের বাসিন্দা নির্মল দেববর্মা কে সেই বছর ১৯৯১ সালে খুন করা হয়।এবং এই বছরই নির্মল দেববর্মার খুনের ছয় মাসের মাথায় ওনারই আরেক রাজনৈতিক সহপাঠী বন্ধু তথা একজন শিক্ষক গোপাল দেববর্মা সদ্য বিয়ে করে বউকে বাড়িতে নিয়ে যাবার পথে সিপিএম দলের আততায়ীরা রাস্তায় গুলি করে উনাকে হত্যা করে রামচন্দ্র ঘাট এলাকাতেই।এরপর ১৯৯৩ সালে কংগ্রেস দল ক্ষমতা থাকাকালীন ওই বছর ১৪ই জানুয়ারি অর্থাৎ বেরা ঘর বা বুড়ি ঘরের দিন পিকনিকের রাতে খোয়াই দুর্গানগর এলাকার কংগ্রেস কর্মী তথা শিক্ষক বাদল দেব কে এলাকার সিপিএম এর ঘাতক বাহিনীরা খুন করে নদীর চরে ফেলে দেয়। এবং বাদল দেবের বাড়ি ঘরে একসময় আগুন লাগিয়ে দেয় বাদল দেবের পরিবারের লোকেরা আত্মরক্ষার খাতিরে খোয়াই দুর্গানগর এলাকা থেকে পালিয়ে শিলচর এবং গৌহাটিতে চলে যায়।অথচ বাদল দেবের বাবা বকুল রঞ্জন দেব ছিলেন একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী।অবশেষে ১৯৯৩ সালে সিপিএম পুনরায় ক্ষমতা ফিরে পেয়ে এই পরিবারের উপর চালায় অ মানুসিক অত্যাচার ভিটেমাটি ছাড়া করে বাদল দেবের সমস্ত পরিবারকে।সিপিএম দল তৃতীয়বার ১৯৯৩ সালে ক্ষমতায় এসে এক বছরের মাথায় ১৯৯৪ সালের ৬ই মার্চ তৎকালীন রাজ্য কংগ্রেস দলের সহ-সভাপতি ৩২ বছরের টগবগে যুবক দীপঙ্কর নাথ শর্মার নেতৃত্বে কংগ্রেস দল নতুন করে উজ্জীবিত হতে শুরু করেছিল মাত্র আর তখনই সিপিএম দলের রক্ত পিপাসু সিংহের দলের জিভ লক লক করছিল দীপঙ্কর নাথ শর্মাররক্ত খাবার জন্য।কারণ দীপঙ্কর নাথ শর্মা যদি মাথা তুলে দাঁড়ায় তাহলে ওনার এক ডাকে রাজ্য কংগ্রেস দল পুনরায় ক্ষমতায় আসতে পারে এমনকি খোয়াই আসনটিতে ও জিতে যেতে পারে নির্বাচনে প্রার্থী হলে।তাই উঠতি নেতাকে যেকোনোভাবে আটকাতে হবে অন্যদিকে সিপিএম দলের লাল দুর্গ হিসেবে পরিচিত খোয়াই এর আসনটি হাতছাড়া হতে পারে বিধায়ক সমীর দেব সরকারের হাত থেকে।সেই ভয়ে তৈরি হলো নীল নকশা দীপঙ্কর নাথ শর্মাকে হত্যার জন্য যদিও কংগ্রেস দলে অনেক নেতারাই হাত মিলিয়ে ছিল সিপিএম দলের রক্ত পিপাসু সিংহের দলের সাথে।এরপর ১৯৯৪ সালের ৬ই মার্চ কংগ্রেস নেতা ক্ষিতীশ ভৌমিকের এক ফোনে দীপঙ্কর নাথ শর্মা বাড়ি থেকে বেরিয়ে কংগ্রেস ভবনে আসবে তাই স্কুটার নিয়ে দুর্গানগর হয়ে বনকরের উপর দিয়ে সাথে আরেকজনকে নিয়ে বনকর এলাকার কাঠের ব্রিজটি অতিক্রম করতেই পূর্ব নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘাতকরা বীজের শেষে অন্ধকার জায়গায় ঘাপটি মেরে বসে ছিল কখন এই রাস্তা দিয়ে তিনি আসবেন। ঐ দিন রাত আটটা নাগাদ দীপঙ্কর নাথ শর্মা ব্রিজটি পার হতেই ঘাপটি মেরে বসে থাকা ঘাতকাহিনীরা হামলে পরে দীপঙ্কর নাথ শর্মার উপর এবং চাকু, দা লাঠি ইত্যাদি দিয়ে মেরে হত্যা করে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে ঘাতক বাহিনীরা নদীপথে পালিয়ে যায়।এরপর যা ঘটল মৃত্যুর মুখ থেকে আর ফিরে আসেনি দীপঙ্কর নাথ শর্মা।অন্যদিকে সিপিএম দলের পরিকল্পনা সার্থক হয় ।তবে এখানেই সিপিএম দলের নর খাদক রক্ত পিপাসুরা থেমে থাকেনি তাদের জিভে নরের রক্তের সাথে লেগে গেছে আরও রক্ত খাইতে চাইছে ।আবার সেই পুনরাবৃত্তি ১৯৯৬ সালের কোন এক রাত এগারোটা নাগাদ একটি অনুষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে খোয়াই অফিস টিলা নিবাসী কংগ্রেস কর্মী খিতীন্দ্র গোপকে বর্তমানে খোয়াই জেলা পুলিশ সুপারের অফিস কার্যালয়ের পেছনে সিপিএমের ঘাতক বাহিনীরা রামদা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে খিতীন্দ্র গোপকে এভাবে চলতে থাকলো একের পর এক খুন।এরপর ১৯৯৮ সালে খোয়াই পূর্বগনকি এলাকার বাসিন্দা তথা তৎকালীন সময়ের উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যান দুর্গা মোহন শুক্ল বৈদ্যকে নিজ বাড়িতে গুলি করে হত্যা করে ঘাতক বাহিনীরা।এরপর দীর্ঘ ১১ বছর ঘাতকাহিনীরা চুপ করে বসেছিল এত রক্ত খাবার পর মনে হয়েছিল তাদের রক্ত খাওয়ার পিপাসাটা কমেছে কিন্তু না ঠিক ১১ বছরের মাথায় সেই রক্ত পিপাসু সিংহের দল গর্ত থেকে বেরিয়ে আসল পুনরায় কংগ্রেস কর্মীদের রক্ত খাওয়ার জন্য ২০০৯ সালে।এই বছরই ২০শে সেপ্টেম্বর গভীর রাতে ঘুম থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে গলার কন্ঠনালী কে ফাটিয়ে হত্যা করল খোয়াই পহরমূড়া এলাকার তৎকালীন ক্ষমতাশীল সিপিএম আমলের ওই এলাকার কংগ্রেস দলের প্রধান সুধাংশু সুরঞ্জন পাল তথা সুধা পাল এলাকার দাপটে কংগ্রেস নেতাকে খুন করে বাড়ি থেকে কিছু দূরে একটি বাউন্ডারির পাশে ঠেশ দিয়ে বসিয়ে রাখে ঘাতকরা এরপর খুন হন জুনিয়র কলোনির মেলকাবাড়ি এলাকার টিউ জি এস কর্মী পদ্ম দেববর্মা ।এইভাবে একের পর এক কংগ্রেস দলের নেতাদের খুন করে কংগ্রেস দলের শক্তিকে দুর্বল করে দেওয়াই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য আর তার পেছনে মাস্টারমাইন্ড হিসেবে কাজ করেছে তৎকালীন খোয়াই এর বিধায়ক সমীর দেব সরকার ।উনার মত ও দলের বিরুদ্ধে যারাই গেছে তাদেরকে এই জগত থেকে চির বিদায় দিয়েছে।শুধু খুন নয় খুনের পাশাপাশি সিপিএম দলের ক্যাডার বাহিনীরা কংগ্রেস দলের নেতা কর্মীদের দিনের পর দিন অস্বাভাবিক নির্যাতন করে পরিশেষে রাজ্য ছাড়াও করেছে।অথচ এই সিপিএম দলই গরীব মেহনতি মানুষের সরকার বলে দিব্যি ২৫টি বছর রাজত্ব করেছে গরিব মানুষের উপর অত্যাচার করে।এই ভাবেই খোয়াই মহকুমার বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে লাল দুর্গে পরিণত করেছিল যেখানে একবার কেউ আসলে আর ফিরে যেতে পারত না। দিনের পর দিন রাজ্যের মানুষের উপর অমানুষিক নির্যাতন করার ফলে এক সময় রাজ্যের জনগণ সিপিএম দলের ওপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে দলটিকে ছুঁড়ে ফেলার জন্য চিন্তা ভাবনা করতে শুরু করে।এবং আস্তে আস্তে কিভাবে দলটিকে সরানো যায় সেই চিন্তা করতে থাকে সেই সুযোগটা পায় ২০১৮ সালে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের কারণে।এবং ২৫ বছরে ক্ষমতাশীল সিপিএম দলকে উৎখাত করে বিজেপি দল ক্ষমতায় আসে বিজেপি আইপিএফটি জোট সরকার হিসেবে।অন্যদিকে লাল দৈর্ঘ্য হিসেবে পরিচিত খোয়াই মহাকুমার লাল দুর্গে ফাটল ধরায় বিজেপি একের পর এক যোগদান সবার মাধ্যমে তাতে করে এক প্রকার শূন্যস্থানে নিয়ে নিয়ে আসে সিপিএম দলকে।যদিও ২০১৮ এবং ২০২৩ এর নির্বাচনে খোয়াই এর আসনটি ধারাবাহিক ভাবে সিপিএম ধরে রাখে।এরপরও কিন্তু সেই দলের ভীত নাড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি।অন্যদিকে সমীর দেব সরকার বিধায়ক থাকাকালীন ওনার কথায় ছিল শেষ কথা ,আর উনার মৃত্যুর পর একের পর এক বাম দুর্গে আঘাত করে ভেঙ্গে দিয়েছে বিজেপি ।তৎকালীন সিপিএম দলের দাপুটে নেতা সমির দেব সরকারের কথায় খোয়াইয়ের লোকজন উঠবস করত ।আর সেই সমীর দেব সরকারের নিজ ঘরে বিজেপি দল মিটিং করেছে ২০২৩ সালে নির্বাচনের সময়কালে ।২০১৮ তে রাজ্য থেকে সিপিএম দল বিদায় নেবার পর ২০২৩ সালে পুনরায় ক্ষমতায় আসার জন্য তাদের চির শত্রু কংগ্রেস দলের সাথে হাত মিলিয়ে ক্ষমতায় আসতে চেয়েছিল যা তিপুরা বাসি মেনে নেয়নি।কারন এত বছর ধরে কংগ্রেস দলের নেতা কর্মীরা একের পর এক খুন হয়েছে যাদের বিচারের বাণী আজও নিভৃতে কাঁদে সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে কংগ্রেসের আঁতাত তার জন্য সঠিক জবাবও রাজ্যবাসী দিয়েছে ২০২৩ সালের নির্বাচনে। তাতে এখানে একটি জিনিস স্পষ্ট যে সিপিএমের সাথে কংগ্রেস দলের যে অবৈধ প্রেম ছিল তা প্রকাশ পায় ২০২৩ সালে দীর্ঘ ৩০ বছর পর।কারণ ১৯৯৩ সালে কংগ্রেসকে হারিয়ে সিপিএম ক্ষমতায় আসে।এর পিছনে কারণ হিসেবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলেন সিপিএমের সাথে কংগ্রেসের তৎকালীন কিছু নেতাদের গোপন চুক্তির ভিত্তিতেই ওই নির্বাচনে পরাজয় ঘটে কংগ্রেসের।আর তাতে করে কোনদিন কংগ্রেস দলটিঘুরে দাঁড়াতে পারিনি কিছু স্বার্থান্বেষী কংগ্রেস নেতাদের কারণে।আর সেই গোপন আঁতাত প্রকাশ পেল ২০২৩ সালে নির্বাচনের যা রাজ্যবাসী ৩০ বছর পর বুঝতে পেরেছিল।আর তাতে করে বিরোধী দলের আসন থেকে ছিটকে যায় সিপিএম দল বিরোধী দলে চলে আসে ত্রিপরা মথা।এত পুরনো একটি রাজনৈতিক দলের এমন চরম দুর্দশা হবে রাজ্যবাসী এমন কি সিপিএমের নেতারাও ভাবতে পারেনি তাইতো আজ এই দলে অস্তিত্ব বিপর্যয়ের মুখে।নিরীহ কংগ্রেস কর্মীদের হত্যার অভিশাপ বহন করে চলেছে বলে পুরনো কংগ্রেস দলের অনেক নেতা কর্মীরা এই মন্তব্য করেন খুন হয়ে যাওয়া কংগ্রেস কর্মীদের পরিবারের লোকেরা।অথচ এই নয়টি খুনের সঠিক বিচার আজ সঠিকভাবে হয়নি।এমন খুন হয়ে যাওয়া কংগ্রেস কর্মীদের পরিবার গুলি না পেয়েছে সঠিক বিচার না পায়েছে দল বা সরকারিভাবে কোন ধরনের সুযোগ সুবিধা।শুধু পেয়েছে নিজের ঘরের লোকদের মৃত্যুর যন্ত্রণা। তাইতো এতগুলি খুনের বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে আজও !!

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য