প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশাসনিক জীবনের ২৫ বছর পূর্তি এবং তাঁর জন্মদিনকে স্মরণীয় করে তুলতে দেশজুড়ে চলছে মাসব্যাপী ‘সেবা সংকল্প অভিযান’। এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ কর্মজীবন, জনসেবা এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের বার্তা সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার আগরতলায় আয়োজিত হলো ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’। রাজ্যজুড়েও এদিন শাসক দলের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে মূল অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় আগরতলা শিশু উদ্যানে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডক্টর মানিক সাহা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, আগরতলা পৌরনিগমের মেয়র দীপক মজুমদার, বিধায়ক রতন চক্রবর্তী, বিধায়ক মিনা রানী সরকার, পশ্চিম জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীলসহ দলীয় নেতৃত্ব ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। পরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডক্টর মানিক সাহা বলেন, ‘সেবা সংকল্প অভিযান’কে শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক কর্মসূচি হিসেবে দেখলে এর মূল উদ্দেশ্যকে বোঝা যাবে না। মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়া, জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করা এবং সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প ও পরিষেবার সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অন্ধকার দূর করে চারদিকে আলোর পথ দেখায় একটি প্রদীপ। ঠিক একইভাবে সমাজের পিছিয়ে থাকা এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনে আশার আলো পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই ধরনের সেবামূলক কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। সরকারি উদ্যোগ ও উন্নয়নের বার্তা শুধু শহরাঞ্চলে সীমাবদ্ধ না রেখে গ্রাম থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার উপর গুরুত্ব দেন তিনি। তিনি বলেন, সেবা ও উন্নয়নের এই বার্তা রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দিতে হবে। শহর থেকে গ্রাম, গ্রাম থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চল—সমাজের কোনও অংশ যেন সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত না থাকে, সেটাই হওয়া উচিত সবার লক্ষ্য। বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার স্বপ্নের কথাও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, এই লক্ষ্য শুধুমাত্র সরকারের একার পক্ষে অর্জন করা সম্ভব নয়। দেশের প্রতিটি মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং আত্মবিশ্বাসের উপরই এই বৃহৎ লক্ষ্য বাস্তবায়নের সাফল্য নির্ভর করছে। মানিক সাহা বলেন, মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি না হলে কোনও উন্নয়ন কর্মসূচিই তার কাঙ্ক্ষিত সাফল্যে পৌঁছাতে পারে না। তাই প্রধানমন্ত্রী বারবার সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে চলার কথা বলছেন। মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সরকারি কাজকে আরও দ্রুত এবং কার্যকরভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চিন্তাভাবনাই সামনে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে ‘বিকশিত ভারত’-এর বিস্তৃত ধারণাও। তিনি বলেন, বিকশিত ভারত বলতে শুধু অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে বোঝায় না। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সামাজিক ন্যায়, সমতা, উন্নতমানের শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রসার, প্রযুক্তির অগ্রগতি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সংরক্ষণ এবং পরিবেশের সুরক্ষা। সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নের মাধ্যমেই প্রকৃত অর্থে একটি বিকশিত ভারত গড়ে তোলা সম্ভব বলে মত প্রকাশ করেন তিনি। সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প ও পরিষেবার সুফল সমাজের একেবারে প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উপরও জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, উন্নয়নের মূল স্রোতে সমাজের পিছিয়ে থাকা মানুষদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কোনও ব্যক্তি বা কোনও অংশের মানুষ যাতে উন্নয়নের যাত্রায় পিছিয়ে না পড়েন, তা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। এদিনের ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’র মধ্য দিয়ে মূলত মানুষের কাছে সেবা, জনকল্যাণ এবং উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বানই সামনে আসে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশাসনিক জীবনের ২৫ বছর পূর্তিকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তেও একাধিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। সেবা সংকল্প অভিযানের মাধ্যমে সরকারি প্রকল্প ও পরিষেবার সুবিধা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনে এই উদ্যোগের মাধ্যমে আরও বেশি মানুষকে উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যেই কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানানো হয়।



