Thursday, April 9, 2026
বাড়িখবরশীর্ষ সংবাদএ ডি সির নির্বাচনকে সামনে রেখে খোয়াই ১২ নং রামচন্দ্র ঘাট আসনের...

এ ডি সির নির্বাচনকে সামনে রেখে খোয়াই ১২ নং রামচন্দ্র ঘাট আসনের জন্য নির্বাচনী লড়াই করছেন ছয় জন প্রতিদ্বন্দ্বী।

বাসুদেব ভট্টাচার্যী খোয়াই ৯ই এপ্রিল……. এ ডি সি নির্বাচনের দামামা বাজতেই প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে লড়াই করতে মাঠে ময়দানে নেমে পড়ে। তারপর শুরু হয় প্রচার। এই প্রচারের মধ্যে দিয়ে একটা সময় প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল তাদের দলীয় প্রার্থীদের চয়ন করে মনোনয়নপত্র দাখিল করে ফেলে। এরপর শুরু হয় ঝড়ো ও প্রচার । তাতে করে দেখা গেছে প্রত্যেকটি রাজনীতির দল নির্বাচনী প্রচার করতে এবং দলীয় প্রার্থীদের জয়ী করতে উঠে পড়ে লাগে। তেমনিভাবে এ ডি সি নির্বাচনে খোয়াই রামচন্দ্র ঘাট ১২ নং আসনের জন্য এই নির্বাচনে লড়াই করছেন ছয়জন প্রার্থী। প্রত্যেকেই নির্বাচনী প্রচারের দিক দিয়ে কোন ধরনের খামতি না রাখে জনসভা, উঠানসভা, পথসভা, বাড়ি বাড়ি প্রচার থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের গাড়ি ও বাইক র‍্যালি করে রামচন্দ্র ঘাট এলাকা কে কাঁপিয়ে তুলেছে। তাতে করে নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে ততই নির্বাচনী পারদ বাড়তে শুরু করেছে। এই আসনের জন্য ৬ জন প্রার্থীই জয়ের আস্বাদ নিতে মরিয়া হয়ে ঝড়ো প্রচার তুলছেন। তারা সকলেই আশাবাদী যে এই আসন থেকে জয়ী হবেন । দেখা গেছে এই আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৩০ হাজার ৫১১ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছে ১৫ হাজার ২৪২ জন এবং মহিলা ভোটার রয়েছেন ১৫ হাজার ২৬০ জন। আর এই কেন্দ্রের জন্য ভোট কেন্দ্র রয়েছে মোট ৪১টি। তার মধ্যে এই কেন্দ্র সবথেকে কম ভোটার রয়েছেন ১ নং ভোট কেন্দ্র খ্যংড়া বাড়ি জে বি স্কুল, এবং সব থেকে বেশি ভোটার রয়েছে ২ নং ভোটকেন্দ্র বগাবিল হাই স্কুলে সেখানে মোট ভোটার সংখ্যা ১১৬৮ জন। এই রামচন্দ্র ঘাট আসনের নির্বাচনের জন্য যে ছয় জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এরা হলেন বিজেপি দলের প্রার্থী ডেবিট দেববর্মা, আই পি এফ টি দলের প্রার্থী স্বপন দেববর্মা, তিপরা মথা দলের প্রার্থী জেমস্ দেববর্মা, সি পি আই এম দলের প্রার্থী সমরেশ দেববর্মা, কংগ্রেস দলের প্রার্থী অমলেন দেববর্মা, নির্দল প্রার্থী গৌতম দেববর্মা। এই ৬ জন ১২ রামচন্দ্র ঘাট আসনের জন্য নির্বাচনে লড়াই করছেন। সবাই সবার বিরুদ্ধে লড়াই করলেও এখানে মূল লড়াইটি হচ্ছে বিজেপি বনাম তিপরা মথা দলের মধ্যে। অন্যদিকে নির্বাচনী বিশেষজ্ঞদের মত উক্ত দুই দলের পেচে পড়ে অন্য দলের ভোট ভাগাভাগি হওয়ার সম্ভাবনাকে একদম উড়িয়ে দিচ্ছেন না। এই আসনে বিজেপি দলের হয়ে নির্বাচনের লড়াই করছেন এলাকার স্থানীয় উচ্চশিক্ষিত যুবক ডেবিট দেববর্মা। উনার বাড়ি খোয়াই রতনপুর এলাকায়। অন্যদিকে এই আসনে ডেবিটের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন তিপরা মথা দলের প্রার্থী জেমস্ দেববর্মা তিনিও এক শিক্ষিত যুবক উনার বাড়ি মান্দাই নগর গ্রামে। নির্বাচনের প্রচার বিষয়ে বিজেপি দলের প্রার্থী ডেভিড দেববর্মার সাথে বেশ কয়েকটি জায়গায় প্রচারের খবর নিতে গিয়ে দেখা যায় তিনি ভালো সাড়া পাচ্ছেন। এরপর এক সাক্ষাতে উনার প্রচার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান নির্বাচনী প্রচারে নেমে উনার নির্বাচনী কেন্দ্রের বিভিন্ন এলাকাতে ব্যাপকভাবে নির্বাচনী প্রচার করেছেন তিনি। নির্বাচনী প্রচার করতে গেলে যা যা করার দরকার উনার সাধ্যমত সেই ভাবে সমস্ত প্রচার করেছেন। তাতে করে স্থানীয় একজন প্রার্থী হিসেবে ব্যাপক পরিমাণ সমর্থন পাচ্ছেন। তিনি এও বলেন বাড়ি বাড়ি প্রচার এবং বিভিন্ন জায়গায় সমাবেশ করতে গিয়ে দেখতে পেয়েছেন অনেক তিপরা মথা দলের নেতা ও কর্মীরা উনার সাথে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। কারণ হিসেবে তিনি জানেন যে দলের কোন আদর্শ নেই , কোন লক্ষ্য নেই সেই দলের কর্মীরা বিভ্রান্তের মতন ছোট ছুটি করছে এবং যা খুশি তা করে বেড়াচ্ছে বিগত দিনের ক্ষমতায়। অন্যদিকে এলাকার সাধারণ মানুষের উন্নতির জন্য তৎকালীন এ ডি সির ক্ষমতা ধিন সরকার কিছুই করেনি যা সাধারণ জনজাতি ভাই-বোনেরা এখন যা স্পষ্ট বুঝতে পেরে গেছে।সেই সুবাদে তিনি আশাবাদী জয়ের জন্য। শুধু তাই না উনার প্রচারে দেখা গেছে তিনি বিভিন্ন জায়গায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বারবার একটা কথাই বলছেন যে একটি জাতীয় রাজনৈতিক দলের সাথে থেকে কাজ করলে এবং সেই দল ক্ষমতায় আসলে এলাকার মানুষ কি ধরনের সুবিধা পাবেন তাই ভোটারদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। এবং কেন্দ্রের বিজেপি সরকার উত্তর পূর্বাঞ্চল সহ বিভিন্ন এলাকার, বিশেষ করে জনজাতিদের জন্য যে ধরনের সুযোগ সুবিধা এবং পড়িকাঠমো তৈরি করে দিয়ে তাদেরকে আরো উন্নীতির শিখরে নিয়ে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করছেন সেগুলি বার বার তুলে ধরছেন। পাশাপাশি একজন বহিরাগত প্রার্থীর বিষয়ে ও আলোচনা করছেন যে বহিরাগত হয়ে কিভাবে এলাকার স্বার্থে তিনি কাজ করবেন। কারণ সময়মতো তিনি এলাকায় থাকবেন না ইত্যাদি ইত্যাদি। একই সাথে মথা দলের প্রার্থী জেমস্ দেববর্মা ও উনার এলাকায় প্রচারের ঝড় তুলেছেন তিনি একজন শিক্ষিত যুবক। শিক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি এই রামচন্দ্র ঘাট এলাকাটি আগে থেকেই তিপরা মথা দলের বিধায়ক হিসেবে রয়েছেন রঞ্জিত দেববর্মা। তাই জেমস্ দেববর্মার জন্য এলাকায় প্রচার করাটা একটা বাড়তি পাওনা ওনার জন্য। তাতে করে এলাকার বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা ও জেমস্ দেববর্মার প্রচারের সঙ্গী হয়েছেন বিভিন্ন জায়গায়। তাছাড়া ও দেখা গেছে ২০১১ সালে এ ডি সির নির্বাচনে এই আসন থেকে জয়ী হয়েছিলেন সোহেল দেববর্মা। কিন্তু চলতি নির্বাচনে সোহেল দেববর্মাকে তার দল টিকিট দেয়নি এই নির্বাচনে লড়াই করার জন্য। তাতে করে সোহেল দেববর্মার অনুরাগীরা একপ্রকার ক্ষোব্দ হয়ে রয়েছে। সোহেল দেববর্মার অনুরাগীদের সাথে কথা বলে তাদের ক্ষোভের বিষয়টি নিয়ে জানা যায় যে রামচন্দ্র ঘাট এলাকার মতন জায়গা থেকে যখন সোহেল দেববর্মা ২০১১ সালে বিপুল ভোটে জয়ী হয় এবং এই এলাকার তার মান্যতা রয়েছে সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে এ বছর দল একপ্রকার সোহেল দেববর্মাকে কোণঠাসা করে দিয়েছে। আর তাতে করে এবার কার নির্বাচনের প্রার্থী জেমস দেববর্মার প্রচারে সোহেল দেববর্মাকে তেমন একটা চোখে পড়েনি। এখানে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতামত সোহেল দেববর্মা কে টিকেট না দেওয়ার কারণে তার প্রভাব জেমস দেববর্মার উপর পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করছে। অন্যদিকে এই আসনে লড়াই করছেন সি পি আইএম দলের প্রার্থী সমরেশ দেববর্মা পাগলা বাড়ি এলাকার বাসিন্দা হবার সুবদে রামচন্দ্র ঘাট এলাকায় প্রচারে নেমেছেন উনার মতে এলাকায় ভালোই সাড়া পাচ্ছেন। কিন্তু বিজেপি ও তিপরা মথা দলের চাপে অনেকটা কোন ঠাসা। দুই দলের কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায় উভয় দল সি পি আই এমকে এক প্রকার ত্যাজ্য করে দিয়েছে। এর পরও সি পি আই এম দল প্রচার করে চলেছে পাশাপাশি অনেক জায়গায় তারা সঠিকভাবে প্রচার করতে পারছেনা এরপরও দল আশাবাদী পাহাড়ের মানুষ তাদেরকে ভোট দেবে বিগত দিনের ইতিহাসকে স্মরণ রেখে। কারণ গত পাঁচ বছরে এই এলাকার জনজাতিদের জন্য কোন কাজ করেনি তিপরা মথা দল।কারণ এই এলাকায় বামফ্রন্ট দুটি যুগ কাটিয়েছেন নির্বাচনী লড়াইয়ের ক্ষেত্রে এই অভিজ্ঞতার নিরিখে এই দলের প্রার্থী সমরেশ দেববর্মা আশাবাদী। অন্যদিকে এই আসনে কংগ্রেস দলের হয়ে লড়াই করছেন অমলেন দেববর্মা নতুন মুখ রাজনৈতিক প্রচারের দিক দিয়ে তারা খুবই দুর্বল কারণ তাদের সংগঠনিক শক্তি একেবারে নেই বললেই চলে। এরপর ও বলা যায় যেহেতু নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সে জায়গায় দাঁড়িয়ে তারা তাদের মটো নিয়ে প্রচার করছেন বিগত দিনের ইতিহাস কে মুছে দিয়ে এলাকায় কংগ্রেস দল জয়ী হবে এই আশায় ব্যাপক প্রচার করছেন কংগ্রেস দলের প্রার্থী অমলেন দেববর্মা।এই এলাকায় অন্যান্য দলগুলি প্রচারে গিয়ে বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয়েছে সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে কংগ্রেস দলের প্রার্থীদেরকে এই পরিস্থিতির শিকার হতে হয়নি। অন্যদিকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে প্রচার করছেন গৌতম দেববর্মা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ।সোনারাই পাড়ার বাসিন্দা নির্দল প্রার্থী হিসেবে নতুন মুখ তারাও এলাকার বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট সভা করে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে বিজেপির সড়িক দল আই পি এফ টি, এই দলের প্রার্থী স্বপন দেববর্মা কল্যাণপুর সোনাছড়ি এলাকার বাসিন্দা। তিনিও ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছেন। উনার সঙ্গ দিচ্ছেন প্রাক্তন বিধায়ক প্রশান্ত দেববর্মা যার ফলে তিনিও একটি বাড়তি প্রচার পাচ্ছেন। বিভিন্ন জায়গায় বাজার সভা উঠোন সভা , ছোট ছোট জন সমাবেশ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের প্রচার চালাতে গিয়ে তারা সারা পাচ্ছেন বলে জানান। অন্যদিকে স্বপন দেববর্মা এও বলেন বিজেপির শরিক দল হওয়ার কারণে প্রচারে কিছু বাড়তি হাওয়া পাচ্ছেন এবং জনসমর্থন ও তাদের পেছনে রয়েছে বলে তিনি জানেন। সেই নিরিখে তিনি আশা ব্যক্ত করেন সমস্ত দলকে পিছনে ফেলে আই পি এফ টি দল এই নির্বাচনে জয়ী হবে। এই নির্বাচনী পরিক্রমায় প্রত্যেকটি দল ও সেই দলের প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী প্রচারের ক্ষেত্রে কি ধরনের সারা পেয়েছেন সেটাই প্রতিবেদক এর কাছে তুলে ধরেন এবং তাদের সাথে সাক্ষাৎকার ও তাদের প্রচারের ভিত্তিতে একটি জিনিস পরিষ্কার হয়ে উঠে আসছে যে ১২ নং রামচন্দ্র ঘাট আসনের জন্য যে ৬ জন প্রার্থী নির্বাচনী লড়াই করছেন তারা সেই আসন থেকে জয়যুক্ত হওয়ার জন্য কেউ কারোর জন্য এক ইঞ্চি জায়গা ছাড়তে নারাজ। তাদের কথা অনুযায়ী বোঝা যায় তারা প্রত্যেকে জয়ী হতে চায় নিজ নিজ জায়গায় দাঁড়িয়ে। তবে এ ডি সি নির্বাচনে ১২ নং আসন রামচন্দ্র ঘাট এলাকায় এবার নির্বাচনের লড়াই হচ্ছে খুবই কঠিন। সবদিক দিয়ে যে জিনিসটা বুঝা গেল সেটা হচ্ছে এই আসনে মূল লড়াইটা হচ্ছে বিজেপি বনাম তিপরা মথার দলের মধ্যে। আর অন্য যারা রয়েছে তারা এই দুই দলের গ্যারাকলে পড়ে অন্যান্য দলের ভোটাররা তাদের ভোটকে বিভাজিত করতে পারে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয় ১২ ই এপ্রিল গণদেবতা তাদের পবিত্র ভোট কোন দলের প্রার্থীর পক্ষে ভোট দান করেন, এবং এই ফলাফলের আশায় বসে থাকতে হবে আগামী ১৭ই এপ্রিলের জন্য।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

nineteen + two =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য