বাসুদেব ভট্টাচার্যী খোয়াই ১০ ই অক্টোবর….. গত কয়েক মাস ধরে খোয়াই মহকুমাজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোজ্যপণ্যসহ বিভিন্ন সামগ্রীর দাম দিন দিন লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পেলেও কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকায় রয়েছে খোয়াই মহকুমা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলি, তেমনই অভিযোগ উঠেছে সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে। দেখা গেছে বাজারে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারি না থাকায় নিজেদের ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণ করে কিছু মুনাফা খোর অসাধু ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে প্রতিনিয়ত ব সাধারণ মানুষের পকেটের ওপর বাড়ছে চাপ অভিযোগ খোয়াই মহকুমা শাসকের অধীনস্থ খাদ্য ও জনসংবরণ দপ্তরের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে অভিযান চালানো হলেও তা অনেক ক্ষেত্রেই লোক দেখানো অভিযানে পরিণত হচ্ছে। বিশেষ করে সুভাষ পার্ক ও তার সংলগ্ন বাজার এলাকায় ছোট ছোট চায়ের দোকানে অভিযান চালিয়ে গৃহস্থালির এল পি জি সিলিন্ডার ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, সেটিই যেন দপ্তরের প্রধান চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ একই সময়ে বড় বাজারগুলিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম কীভাবে নির্ধারিত হচ্ছে, ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি করছেন কি না সেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুলিতে কার্যকর নজরদারি কতটা রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ব্যবসায়ীদের দোকানে বিভিন্ন পণ্যের মূল্যতালিকা স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করার কথা। কিন্তু অভিযোগ, খোয়াইয়ের বহু দোকানেই সেই মূল্যতালিকা দেখা যায় না বা নেই ।ফলে ক্রেতারা অনেক সময় পণ্যের প্রকৃত মূল্য সম্পর্কে অবগত না হয়েই ব্যবসায়ীদের চাহিদামতো দাম দিতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে ছোট চায়ের দোকানদারদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো নিয়ে আপত্তি নেই সাধারণ মানুষের। কিন্তু এখানে প্রশ্ন উঠছে, একইভাবে বড় ব্যবসায়ীদের দোকানেও কি নিয়মিত ও কঠোরভাবে অভিযান চালানো হচ্ছে? যদি ছোট ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগ করা হয়, তাহলে বড় ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের কঠোরতা কেন দেখা যাচ্ছে না এই ধরনের প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে খোয়াইবাসীর মধ্যে।সাধারণ মানুষের অভিযোগ, একদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে অন্যদিকে বাজার নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনধরনের তৎপরতা নেই। তাতে এক শ্রেণির মুনাফা খোর ব্যবসায়ীরা নিজেদের মুনাফা বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন এবং তার সরাসরি বোঝা বহন করতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের।খোয়াইয়ের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন নাগরিকদের বক্তব্য, ছোট দোকানে অভিযান দেখিয়ে দপ্তরের দায়িত্ব শেষ করা চলবে না। বাজারে প্রকৃত মূল্য নিয়ন্ত্রণ, মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রির অভিযোগের বিরুদ্ধে নিয়মিত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রশাসনের নজরদারি যদি সত্যিই থাকে, তাহলে প্রতিদিন বাজারে পণ্যের দাম কেন লাগামছাড়া হচ্ছে তারও জবাব দিতে হবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্তৃপক্ষকে।এখন সাধারণ মানুষের একটাই প্রশ্ন ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর নজরদারি নয়, বড় ব্যবসায়ীদের বেআইনি মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধেও কি এবার কঠোর হাতে ব্যবস্থা নেবে খোয়াই প্রশাসন? নাকি সাধারণ মানুষের পকেট কাটার এই নিরন্তন খেলা কি চলতেই থাকবে চিরন্তন।



