বাসুদেব ভট্টাচার্যী খোয়াই ২৪শে মে…..আজ আইনের রক্ষকই ভক্ষকের ভূমিকায় তাইতো অজিত, রাজেন্দ্র ও সুকান্তদের কারনে বর্তমানে কলন্কিত রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর তাতে চারিদিকে উঠেছে ছি ছি রব। অন্যদিকে “আইনের রক্ষক নাকি অপরাধের পাহারাদার?”অন্যদিকে এই ঘটনায় তেলিয়ামুড়া থানা’কে ঘিরে এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ঘুরছে এমনই বিস্ফোরক প্রশ্ন। বিশেষ সূত্র মারফত খবর এই যে টাকার নেশায় বুদ হয়ে থানার একাংশ পুলিশ কর্তারা এখন অপরাধ দমনের বদলে অপরাধীদের ‘ম্যানেজ’ করতেই বেশি ব্যাস্ত থাকতে দেখা যায়। লক্ষ লক্ষ টাকার অবৈধ বিলেতি মদ ভর্তি আটক গাড়িকে ছেড়ে দেওয়া থেকে শুরু করে মামলা চাপা দেওয়া সবকিছুতেই নাকি চলছে মোটা অঙ্কের টাকার খেলা!
বিশেষ সূত্রের খবর অনুযায়ী জানাযায় গত ১৭ মে তেলিয়ামুড়া থানাধীন গামাইবাড়ি এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ বিলেতি মদ সহ TR01-BV-0637 নম্বরের একটি গাড়ি আটক করে পুলিশ। কিন্তু রহস্যজনক ভাবে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সেই গাড়ি’কে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে মোটা অঙ্কের বিনিময়েই গাড়িটিকে ছেড়ে দেয় তেলিয়ামুড়া থানার একাংশ পুলিশ কর্তারা।
আর এখানেই শেষ নয়! ঘটনার মাত্র তিন দিনের মাথায়, অর্থাৎ গত ২০ মে একই গাড়ি ফের তেলিয়ামুড়া মহারানীপুর এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ ফেন্সিডিল জাতীয় নেষা দ্রব্য সহ আটক হয় ঐ গাড়িটি ।যা নিয়ে এখন ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে গোটা তেলিয়ামুড়া মহকুমা জুড়ে।বিশিষ্ট সূত্রের দাবি আগরতলার এক সাংবাদিক পরিচয়ধারী এবং কুখ্যাত মাদক পাচারকারি মাফিয়া তেলিয়ামুড়া থানার এক সাব-ইন্সপেক্টরের কাছে গোপন খবর পাঠায় যে মহারানীপুর এলাকায় বিপুল পরিমাণ ফেন্সিডিল পাচারের প্রস্তুতি চলছে। সেই খবরের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রায় ২২০০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। কিন্তু সূত্রের মারফত খবর পুলিশের অভিযানের মাঝেই সুযোগ বুঝে আরও প্রায় ৫০০০ বোতল ফেন্সিডিল পাচার করে দেয় সেই সাংবাদিক পরিচয়ধারী ঐ মাদক পাচারকারি মাফিয়া! যার সঙ্গে তেলিয়ামুড়ার গৌরাঙ্গটিলা এলাকার এক যুবকের যোগসূত্রও উঠে এসেছে বলে সূত্রের খবর।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হল, আগরতলার ওই তথাকথিত সাংবাদিক দীর্ঘদিন ধরে গাড়িতে প্রেস স্টিকার লাগিয়ে তেলিয়ামুড়া এলাকায় অবাধে ঘোরাফেরা করলেও থানায় একাধিকবার অভিযোগ জানানোর পরও কোনো ব্যাবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং প্রশ্ন উঠছে তাহলে কি ‘প্রেস’ স্টিকারই হয়ে উঠেছিল মাদক পাচারের লাইসেন্স?এদিকে অভিযানের দিন ফেন্সিডিল বোঝাই ইকো গাড়ির পাশাপাশি প্রেস স্টিকার লাগানো একটি ওয়াগনআর গাড়িও আটক করা হয়। এরপরই সামনে আসে আরও বিস্ফোরক ঘটনা। সূত্রের দাবি, ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২২০০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার হলেও সরকারি নথিতে মাত্র ৬০০ বোতল দেখানো হয়! থানা সুত্রে খবর, থানার একাংশ “ঘুষখোর খাঁকি বাহিনী”র মদতেই বাকি বোতল ফেন্সিডিল গোপনে বিক্রি করে দেওয়া হয় তেলিয়ামুড়ার কিছু নেশাসেবীর কাছে। যার সম্পূর্ণ তথ্য প্রমান রয়েছে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে।
ঘটনার খবর জেলা পুলিশ সুপারের কানে পৌঁছাতেই নড়েচড়ে বসে খোয়াই জেলা পুলিশ সুপার বোগাটি জগদ্দীশ্বর রেড্ডি। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তেলিয়ামুড়া থানার সেকেন্ড ওসি ইন্সপেক্টর অজিত দেববর্মা, সাব-ইন্সপেক্টর রাজেন্দ্র রিয়াং এবং কনস্টেবল সুকান্ত দেব’কে অনির্দিষ্টকালের জন্য পুলিশ লাইনে রাখা হয়েছে এবং এস.পি পোটাপ করা হবে তাদের বিরুদ্ধে।
অন্যদিকে, গোটা ঘটনার পর থেকেই গৌরাঙ্গটিলা এলাকার অভিযুক্ত যুবক গা ঢাকা দিয়েছে। ফলে প্রশ্ন আরও ঘনীভূত হচ্ছে যে পুলিশের ছত্রছায়া না থাকলে এত বড় মাদক চক্র কি আদৌ চালানো সম্ভব?
২০১৮ সালে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর “দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের যে বার্তা দেওয়া হয়েছিল, তেলিয়ামুড়া থানা’কে ঘিরে ওঠা এই বিস্ফোরক অভিযোগ সেই দাবিকেই বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।এখন দেখার মুখ্যমন্ত্রীর স্বরাষ্ট্র দপ্তর এই ঘটনায় কতটা কঠোর ভূমিকা গ্রহণ করে, নাকি সবকিছুই আবারও ধামা চাপা পড়ে যায় টাকার অন্ধকারের আড়ালে সেইদিকে তাকিয়ে গোটা খোয়াই জেলার মানুষ।



