বাসুদেব ভট্টাচার্যী খোয়াই ১০ই জুলাই…… ২০১৮ সালে নির্বাচনে রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার গঠন হবার পর থেকেই একটা জিনিস লক্ষ্য করা যাচ্ছে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তর গুলি সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের রূপরেখা, এবং বিভিন্ন প্রকল্পগুলিকে নিয়ে সাধারণ জনগণের জন্য সরকার কি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে তার রূপরেখা কি তা প্রচারে আনতে নারাজ। আর তাতে করে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প গুলি যাতে জনসমক্ষে প্রচারে না আসে সেই দিকে লক্ষ্য রেখে বিভিন্ন দপ্তরের এক শ্রেণীর আধিকারিকরা সাংবাদিকদের ব্রাত্য রেখেই তারা বিভিন্ন ধরনের মিটিং এমনকি রিভিউ মিটিং পর্যন্ত চালিয়ে যায়। এই বিষয়ে বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে জানা যায় সরকারি প্রকল্পের লাখো কোটি টাকা বিভিন্ন দপ্তরে আসে সেই টাকা গুলি সাধারণ জনগণের মধ্যে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। কিন্তু এখানে লক্ষ্য করা যাচ্ছে কোটি টাকার লোভ সরকারকে ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা গুলিকে বিভিন্ন আধিকারিকরা নয়ছয় করে নিজেদের আখেট গোছাতে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। যদি ওই ধরনের প্রকল্পের সন্ধান সাংবাদিকরা জেনে ফেলে অথবা বিশাল অংকের টাকার হিসাব চেয়ে বসে তখন আখেট গোছানো আধিকারিকরা তার সেই হিসেব সঠিকভাবে দিতে পারবে না বলেই প্রতি নিয়ত সাংবাদিকদের ইচ্ছে করে তারা ব্রাত্য রাখেন। তেমনি এক ঘটনা ঘটালো খোয়াই জেলার মৎস দপ্তরের আধিকারিক বিজয় ঘোষ শুক্রবার নিজ দপ্তরে। এখানে মহাকুমার তিনটি ব্লক তথা খোয়াই আর ডি ব্লক, পদ্মবিল আর ডি ব্লক, তুলশিখর আর ডি ব্লকের আধিকারিক সহ জেলাস্তুরের বিভিন্ন প্রতিনিধিদের নিয়ে মৎস্য বিভাগের এক রিভিউ মিটিং করলেন। এই দপ্তরে মৎস্য চাষীদের জন্য সরকার বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে টাকা দেবার অথবা টাকা দিয়ে মাছের রেনু চাষ করাসহ বিভিন্নভাবে চাষীদের স্বনির্ভর করার জন্য সাহায্য করে থাকে, যার অর্থের পরিমাণ বিশাল। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে জেলা মৎস্য দপ্তরের আধিকারিক বিজয় ঘোষ শুক্রবার নিজ দপ্তরে একটি রিভিউ মিটিং করেন তাও তিনটি ব্লকের আধিকারিক সহ খাশ লোকদের নিয়ে। আর তাতে করে খোয়াই মহাকুমা জুড়ে গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে সরকারি প্রকল্পের প্রচার মৎস্য দপ্তরের আধিকারিক না করার উদ্দেশ্যে এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে ধারণা প্রকাশ করে। কারণ এখানে আখেট গোছাতে গেলে তিনটি ব্লকের আধিকারিক ছাড়া জেলার যে সমস্ত প্রতিনিধিরা ছিল তাদের সাথে এক ধরনের যোগ সাজসে কিভাবে সরকারি প্রকল্পের টাকা কমবেশি খরচ দেখিয়া নয় ছয় করা যায় সেই উদ্দেশ্যেই ছিল এই রিভিউ মিটিংটি বলে অনেকেই ধারণা করছেন। গোপন সূত্রে এও জানা যায় জেলা মৎস্য দপ্তরের আধিকারিক বিজয় ঘোষ এই ধরনের কান্ড আরো অনেক ঘটিয়েছে। শুধু তাই না উনার দপ্তরে কান পাতলে অনেক ধরনের টাকা নয় ছয়ের ঘটনার খবর শোনা যায় বলে জানা যায়। এখানে পরিতাপের সাথে বলতে হচ্ছে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকরা সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা গুলি কিভাবে জনসমক্ষে পৌঁছানো যায় তার জন্য সংবাদ মাধ্যমের সাহায্যের নেয়। কারণ তারা সেই কাজ জনসাধারণের জন্য প্রচারের মাধ্যমে করে থাকে। তাতে করে সরকারের প্রকল্পের কাজগুলি জন সম্মুখে চলে আসলে সরকারের কাজের ছবিটাও পরিষ্কার থাকে অর্থাৎ সরকার বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে জনসাধারণের জন্য কাজ করছে সেটাই প্রমাণিত হয়। কিন্তু একশ্রেণীর ঘুষখোর আধিকারিক রয়েছে যারা নিজেদের আখেট গোছাতে প্রতিনিয়ত সংবাদ মাধ্যমকে এড়িয়ে চলে। এর মানে দাঁড়ালো সাধারণ জনগণের জন্য সরকারের প্রকল্পের সুবিধাগুলি জনসমক্ষে যাতে প্রচার না হয় সেই লক্ষ্যে তারা কাজ করে যার বাস্তবত উধাহরণ হলো জেলা মৎস্য দপ্তরের আধিকারিক বিজয় ঘোষ। আর তিনি যাদেরকে নিয়ে মিটিংটা করেছেন এবং যাদের সাথে করেছেন বিশেষ করে ওনার খাস লোকেরা কি তাহলে সরকারের হয়ে প্রচার করবেন সেই প্রশ্নটা উঠতে শুরু করেছে। এই মিটিং থেকে অথবা দপ্তরের কোন লাভালাভের প্রশ্ন রয়েছে বলেই মহকুমার সাংবাদিকরা ব্রাত্য। আর এই ধরনের আধিকারিকদের জন্য আগামী দিন কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পগুলি মুখ থুবরে পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। আর সমস্ত কিছু জেনেও যদি রাজ্য সরকার এই ধরনের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ না করে তাহলে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের মূল্যায়ন আগামী দিন জনগণই করবে।



