Monday, May 20, 2024
বাড়িখবরশীর্ষ সংবাদস্ত্রীর পরকীয়ার মীমাংসার পর বাড়ি ফিরে স্বামীর দায়ের আঘাতে রক্তাক্ত স্ত্রী। তা...

স্ত্রীর পরকীয়ার মীমাংসার পর বাড়ি ফিরে স্বামীর দায়ের আঘাতে রক্তাক্ত স্ত্রী। তা দেখে হৃদরোগে মৃত্যু হল আহত গৃহবধূর বাবার।

খোয়াই প্রতিনিধি ১৩ই মে…. স্ত্রীর পরকীয়া স্বভাবের জন্য বিবাদ স্বামী স্ত্রীর মধ্যে সেই বিবাদের মীমাংসা বৈঠকের পরই স্বামীর দায়ের কোপে রক্তাক্ত স্ত্রী। ঘটনা দেখে হৃদরোগে মৃত্যু শ্বশুরের । শেষে পুলিশের জালে অভিযুক্ত স্বামী। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার দুপুরে খোয়াই থানাধীন উত্তর দুর্গানগর এলাকার পুর পরিষদের ১ নং ওয়ার্ডে। অভিযুক্ত স্বামীকে জালে তুলেছে মহিলা থানার পুলিশ।শেষে আহত গৃহবধূকে খোয়াই জেলা হাসপাতাল থেকে দ্রুত আগরতলায় জি বি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।তার মাথায় বিরাট ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে।বারোটি সেলাই লেগেছে মাথায়।ঘটনার বিবরণে জানা যায় আজ থেকে বছর দেড়েক আগে খোয়াই থানাধীন উত্তর দূর্গানগরের প্রয়াত অনুকূল সাহার ছেলে অনুপ সাহা ৩০ এর সাথে পূর্ব আগরতলা থানাধীন শানমুড়া এলাকার বাসিন্দা নিরুলাল দাসের মেয়ে জয়া দাস ২২ এর সাথে সামাজিক ভাবে বিয়ে হয়।বিয়ের পর মাস কয়েক ভালোভাবেই কাটছিল এর পরেই শুরু হয় স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বিবাদ।স্বামী অনুপ তার স্ত্রী জয়া পরকীয়া প্রেমে আসক্ত বলে সন্দেহ করতো।তা নিয়ে একসময় তুমুল দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হয় স্বামী স্ত্রীর মধ্যে।সন্দেহের বশে প্রায়শই স্বামী অনুপ তার স্ত্রী জয়াকে মারধোর করতো বলে অভিযোগ।আর কয়েক দিন বাদে বাদেই স্ত্রী স্বামী দ্বারা শারীরিক নিগৃহীত হয়ে বাবার বাড়ীতে চলে যেতো।এ নিয়ে এলাকায় স্থানীয় মাতব্বর গোছের লোকদের মধ্যস্থতায় একাধিকবার মীমাংসা বৈঠক বসে।কিন্তু প্রতিবারই মীমাংসা বৈঠকের পর কয়েকদিন ভালোভাবে কাটলেও আবার একই ঘটনার পুণরাবৃত্তি।অর্থাৎ স্ত্রীর ওপর স্বামীর শারীরিক ও মানসিক নির্য্যাতন ক্রমান্বয়ে চলতেই থাকে।সোমবার দুপুরেও স্বামীর বাড়ীতে আবার একদফা মীমাংসা বৈঠক বসে।বৈঠকে জয়ার বাবা অর্থাৎ অনুপের শ্বশুর সহ শ্বশুরবাড়ির আরো বেশ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে, আপাততঃ কয়েকদিনের জন্য জয়া দাস তার বাবার বাড়ীতে গিয়ে থাকবে।পরে স্বামীর মতিগতি পরিবর্তিত হয়ে শুভবুদ্ধির উদয় হলে স্বামী নিজেই তার স্ত্রীকে নিয়ে আসবে।পাঁচজনের মীমাংসা বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৈঠকের পর স্ত্রী জয়া দাস যখন বাবারবাড়ীর লোকজনদের সাথে বাবার বাড়ীতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল তখনই রণচণ্ডী মূর্তি ধরে স্বামী অনুপ সাহা উত্তেজিত অবস্থায় আচমকাই পেছন দিক থেকে এসে তার স্ত্রী জয়া দাসের মাথায় সজোরে দায়ের কোপ বসিয়ে দেয়।রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে জয়া।ঘটনার বীভৎসতা দেখতে পেয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন জয়ার বাবা অর্থাৎ অনুপের শ্বশুর নিরুলাল দাস।রক্তাক্ত জয়া দাস ও তার বাবা নিরুলাল দাসকে এলাকাবাসী খোয়াই জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নিরুলাল দাস ৫৮ কে মৃত বলে ঘোষণা করেন।মারাত্মক আহত অবস্থায় জয়া দাসকে মাথায় বারোটি সেলাই দেওয়ার পর তাকে দ্রুত আগরতলায় জি বি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।পুলিশ অভিযুক্ত স্বামী অনুপ সাহাকে গ্রেপ্তার করেছে।ঘটনায় খোয়াই জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।উল্লেখ্য যে, অনুপ ও জয়ার পাঁচ মাসের একটি শিশু সন্তান রয়েছে বলেও জানা যায় এই বিষয়ে মহিলা থানার পুলিশ অনুপের বিরুদ্ধে মামলা নিয়েছে বলে জানা যায় এবং রাতেই আসামিকে আদালতে তোলা হবে বলে জানান মহিলা থানার পুলিশ।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য