Friday, October 9, 2026
বাড়িখবররাজ্যদুর্গাপুজোর কাউন্টডাউন শুরু, ব্যস্ততা তুঙ্গে আগরতলার মৃৎশিল্পীদের

দুর্গাপুজোর কাউন্টডাউন শুরু, ব্যস্ততা তুঙ্গে আগরতলার মৃৎশিল্পীদের

শারদোৎসবের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। উৎসবের আমেজে মেতে ওঠার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বী বাঙালিরা। দুর্গাপুজোকে ঘিরে শহর থেকে গ্রাম—সর্বত্রই এখন প্রস্তুতির ব্যস্ততা। কোথাও তৈরি হচ্ছে চোখধাঁধানো মণ্ডপ, কোথাও চলছে আলোকসজ্জার পরিকল্পনা, আবার কোথাও শেষ মুহূর্তের কাজ সামলাতে দিনরাত এক করে দিচ্ছেন শিল্পী ও কারিগররা। এরই মধ্যে আগরতলার বিভিন্ন মূর্তিপাড়ায় ব্যস্ততা বেড়েছে কয়েক গুণ। দেবী দুর্গার মৃন্ময়ী রূপ ফুটিয়ে তুলতে এখন কার্যত দম ফেলার সময় নেই মৃৎশিল্পীদের। উৎসবের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রতিমা তৈরির কাজের গতি। শহরের কুমারটুলি-সহ বিভিন্ন মূর্তিপাড়ার কর্মশালায় শিল্পীরা ব্যস্ত রয়েছেন প্রতিমার শেষ মুহূর্তের কাজ নিয়ে। উদ্যোক্তাদের ভাবনা ও পুজোর পরিকল্পনা অনুযায়ী তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের প্রতিমা। কোথাও চলছে দেবীর মুখমণ্ডলে শেষ তুলির টান, কোথাও অলংকরণ ও রংয়ের কাজ। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিমা তৈরি করে মণ্ডপে পৌঁছে দেওয়ার তাগিদে শিল্পীদের এখন নাওয়া-খাওয়ারও যেন সময় নেই। বিশেষ করে বড় বাজেটের পুজো উদ্যোক্তাদের মণ্ডপ নির্মাণ ও প্রতিমা তৈরির প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। আগরতলা পুরনিগমের বিভিন্ন ওয়ার্ডের পাশাপাশি রাজ্যের নানা প্রান্তের পুজো কমিটির চাহিদা অনুযায়ী প্রতিমা নির্মাণ করছেন স্থানীয় শিল্পীরা। তাঁদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় ধীরে ধীরে খড়, মাটি ও অন্যান্য উপকরণের কাঠামো ধারণ করছে দেবী দুর্গা ও তাঁর পরিবারের মূর্তির রূপ।

তবে উৎসবের এই ব্যস্ততার আড়ালেও রয়েছে মৃৎশিল্পীদের নানা সমস্যা। প্রতিমা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় মাটি, খড়, বাঁশ, রং এবং অন্যান্য সরঞ্জামের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ সেই অনুপাতে প্রতিমার দাম বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না বলে সমস্যায় পড়ছেন শিল্পীরা। ফলে পরিশ্রম ও বিনিয়োগের তুলনায় লাভের পরিমাণ সীমিত থাকছে। স্বাভাবিকভাবেই এই পরিস্থিতি নিয়ে অনেক শিল্পীর মধ্যেই হতাশা রয়েছে। এর পাশাপাশি দক্ষ কারিগর ও শ্রমিকের অভাবও প্রতিমা তৈরির কাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাতে সময় কম থাকলেও পর্যাপ্ত কর্মীর অভাবে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করা কঠিন হয়ে পড়ছে অনেক কর্মশালায়। প্রতিমার চাহিদা, বাড়তি উৎপাদন খরচ এবং শ্রমিক সংকট—সব মিলিয়ে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে মৃৎশিল্পীদের। তবুও পেশার প্রতি ভালোবাসা, বংশপরম্পরায় চলে আসা ঐতিহ্য এবং দেবী দুর্গার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা তাঁদের কাজের প্রতি নিষ্ঠা অটুট রেখেছে। সীমিত লাভের মধ্যেও নিজেদের শিল্পসত্তা ও দক্ষতার মাধ্যমে প্রতিটি প্রতিমাকে আকর্ষণীয় করে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। তাঁদের হাতের ছোঁয়াতেই মাটির কাঠামো ধীরে ধীরে প্রাণবন্ত দেবীমূর্তিতে পরিণত হচ্ছে। দুর্গাপুজো শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলার শিল্প, সংস্কৃতি ও দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। আর এই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার অন্যতম কারিগর হলেন মৃৎশিল্পীরা। নানা আর্থিক সমস্যা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও তাঁদের নিরলস পরিশ্রমেই প্রতি বছর নতুন রূপে সেজে ওঠে দেবী দুর্গার প্রতিমা। তাই উৎসবের আনন্দে যখন মেতে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছে গোটা রাজ্য, তখন সেই আনন্দের নেপথ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন আগরতলার এই শিল্পীরা।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

nine + three =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য