ভারী বৃষ্টিপাতের জেরে বন্যার কবলে আড়ালিয়া, চন্দ্রপুর ও বলদাখাল এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ। গতকাল টানা ভারী বৃষ্টির ফলে বলদাখালসহ বিভিন্ন নদী ও খালের জলস্তর হঠাৎ বৃদ্ধি পায়। জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় জল ঢুকে পড়ে। প্লাবিত হয়ে পড়ে একাধিক বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট। পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতি হওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয়দের মধ্যে। বন্যার জলে শুধু বাড়িঘরই নয়, জলমগ্ন হয়ে পড়ে গবাদি পশু রাখার স্থানও। ফলে নিজেদের পাশাপাশি গবাদি পশুদের নিয়েও বিপাকে পড়েন এলাকার বাসিন্দারা।
জল ঢুকে পড়ে আড়ালিয়া, পঞ্চবটি ও বাজার সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকাতেও। কোথাও বাড়ির উঠান, আবার কোথাও বসতবাড়ির ভেতর পর্যন্ত জল প্রবেশ করায় দুর্ভোগ চরমে ওঠে। জলমগ্ন হয়ে পড়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাও। এর ফলে ব্যাহত হয় স্বাভাবিক যান চলাচল ও জনজীবন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রবল বৃষ্টির পর নদী ও খালের জল দ্রুত বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি আচমকাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অনেক পরিবার নিরাপদ স্থানে যাওয়ার সুযোগও পাননি। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের উদ্যোগে জলমগ্ন এলাকা থেকে বাসিন্দাদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়। ইতিমধ্যেই জলমগ্ন এলাকার বহু মানুষ শরণার্থী বা আশ্রয় শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। প্রশাসনের তরফে উদ্ধারকাজের পাশাপাশি আশ্রয় নেওয়া মানুষদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
বন্যার কারণে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সমস্যায় পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও দিনমজুররাও। জলমগ্ন হয়ে পড়ায় স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হয়েছে। বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও পরিস্থিতির কারণে প্রভাবিত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এদিকে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে জেলা প্রশাসন। জলস্তর ও বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্ধার ও ত্রাণকাজ আরও জোরদার করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। ভারী বৃষ্টির জেরে হঠাৎ তৈরি হওয়া এই বন্যা পরিস্থিতিতে নতুন করে জলস্তর কতটা বাড়ে, আর কত দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়—এখন সেদিকেই নজর রয়েছে আড়ালিয়া, চন্দ্রপুর ও বলদাখাল এলাকার বাসিন্দাদের।



