ত্রিপুরার বন, জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদকে আরও বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিল রাজ্য বন দপ্তর। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় পরিচালিত বন দপ্তরের উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্পের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে। গান্ধীগ্রামস্থিত প্রকৃতি ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ওয়েবসাইটটির উদ্বোধন করেন রাজ্যের বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বন দপ্তরের পিসিসিএফ আর কে শ্যামল, দপ্তরের অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরা। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করার পাশাপাশি নতুন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজকর্ম সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বন দপ্তর সূত্রে জানা যায়, নতুন এই ওয়েবসাইটে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় পরিচালিত ‘এলিমেন্ট’ প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। প্রকল্পের অগ্রগতি, ল্যান্ডস্কেপ ও ইকোসিস্টেম ম্যানেজমেন্ট সংক্রান্ত তথ্য, বন সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ—সবকিছুই ধীরে ধীরে এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মানুষের সামনে তুলে ধরা হবে। এর ফলে রাজ্যের বন ও পরিবেশ সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে সাধারণ মানুষ যেমন তথ্য জানতে পারবেন, তেমনই ত্রিপুরার বনসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তারও একটি স্বচ্ছ চিত্র সামনে আসবে। প্রকল্পের অগ্রগতি ও বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য তুলে ধরার ক্ষেত্রেও ওয়েবসাইটটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় পরিচালিত এই প্রকল্পকে ত্রিপুরার বন ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আধুনিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি, প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের মাধ্যমে রাজ্যের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকেও কাজে লাগানোর লক্ষ্য রয়েছে এই ধরনের উদ্যোগের।
ওয়েবসাইট উদ্বোধনের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা বলেন, রাজ্যের প্রাকৃতিক ও গণসম্পদকে কীভাবে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যায় এবং সেই সম্পদের সঙ্গে কীভাবে ব্যবসায়িক সম্ভাবনাকে যুক্ত করা যায়, তা নিয়ে বন দপ্তর ও বিশ্বব্যাংক যৌথভাবে কাজ করছে। মন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদকে শুধু সংরক্ষণ করলেই হবে না, তার সঠিক ও টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করাও জরুরি। গণসম্পদকে কাজে লাগিয়ে মানুষের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করা এবং একইসঙ্গে প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখার লক্ষ্যেই বন দপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে সমন্বয় করে কাজ চলছে বলে জানান তিনি। নতুন ওয়েবসাইট প্রসঙ্গে বনমন্ত্রী আরও বলেন, এর মাধ্যমে ত্রিপুরার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বনসম্পদ এবং জীববৈচিত্র্যের বিভিন্ন দিক এখন আরও সহজে বিশ্বের মানুষের সামনে তুলে ধরা সম্ভব হবে। অর্থাৎ রাজ্যের প্রকৃতিকে শুধু ত্রিপুরা বা দেশের মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে ডিজিটাল মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিসরে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হলো। বন দপ্তরের এই উদ্যোগে একদিকে যেমন প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে সাধারণ মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছবে, তেমনই ত্রিপুরার বন ও প্রাকৃতিক সম্পদের সম্ভাবনাকেও বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে। বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় প্রকল্পটি আগামী দিনে রাজ্যের বন ব্যবস্থাপনা, ইকোসিস্টেম সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলেই আশা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকল্পের কার্যক্রম যত এগোবে, নতুন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তার অগ্রগতি ও বিভিন্ন উদ্যোগের তথ্যও মানুষের সামনে তুলে ধরা হবে। ফলে বন দপ্তর, প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তথ্যের আদান-প্রদান আরও সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।



