রাজধানী সংলগ্ন এলাকায় ফের চুরির ঘটনায় বড়সড় সাফল্য পেল আমতলী থানার পুলিশ। চারিপাড়া এলাকা থেকে এক কুখ্যাত চোরকে আটক করেছে পুলিশ। ধৃতের নাম মালু মিয়া। পুলিশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন চুরির ঘটনার সঙ্গে তার যোগসূত্র রয়েছে। ধৃতের কাছ থেকে একাধিক চুরি যাওয়া সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে বলেও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি এলাকায় একের পর এক চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর চুরির ঘটনাগুলির তদন্তে নামে আমতলী থানার পুলিশ। তদন্তের পাশাপাশি বিভিন্ন সূত্র মারফত তথ্য সংগ্রহ করতে থাকে পুলিশ। এরই মধ্যে পুলিশের কাছে নির্দিষ্ট তথ্য আসে চারিপাড়া এলাকায় মালু মিয়ার উপস্থিতি সম্পর্কে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই আমতলী থানার পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানে চারিপাড়া এলাকা থেকে মালু মিয়াকে আটক করা হয়। পরবর্তী সময়ে তার কাছ থেকে বিভিন্ন চুরির ঘটনায় খোয়া যাওয়া বেশ কিছু সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আমতলী থানার ওসি রানা চ্যাটার্জী জানান, নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধৃত ব্যক্তি একাধিক চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে তথ্য উঠে এসেছে। তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া সামগ্রীগুলি কোথা থেকে চুরি করা হয়েছিল, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের দাবি, মালু মিয়ার বিরুদ্ধে অতীতেও চুরির অভিযোগ রয়েছে। ফলে তার আগের কোনও চুরির ঘটনার সঙ্গে যোগ রয়েছে কি না, সেই বিষয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে উদ্ধার হওয়া প্রতিটি সামগ্রী শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। কোন কোন চুরির ঘটনায় ওই সামগ্রীগুলি খোয়া গিয়েছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করার চেষ্টা চলছে।তদন্তকারীদের অনুমান, ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে চুরির আরও বেশ কিছু ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে। শুধু মালু মিয়াই নয়, তার সঙ্গে চুরিচক্রের আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কি না, সেই বিষয়েও তদন্ত চালাচ্ছে আমতলী থানার পুলিশ।
আমতলী থানার ওসি রানা চ্যাটার্জী জানান, ধৃত মালু মিয়াকে রবিবার আদালতে পেশ করা হবে। প্রয়োজনে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চুরি সংক্রান্ত আরও তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি চুরিচক্রের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে। চারিপাড়া এলাকা থেকে কুখ্যাত চোর আটকের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয়দের মধ্যে। তবে শহরতলি ও রাজধানী সংলগ্ন এলাকায় একের পর এক চুরির ঘটনা রুখতে পুলিশের নজরদারি ও অভিযান আরও কতটা জোরদার হয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।



