দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস এবং ক্লাবের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও নানা সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির আয়োজন করল আগরতলার কৃষ্ণনগরস্থিত সংহতি ক্লাব। শনিবার ক্লাব প্রাঙ্গণে আয়োজিত হয় এক মহতী রক্তদান শিবির। তবে শুধু রক্তদানেই সীমাবদ্ধ থাকেননি উদ্যোক্তারা। মানবিকতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে একইসঙ্গে আয়োজন করা হয় মরণোত্তর দেহদান, মরণোত্তর চক্ষুদান এবং আধার নিবন্ধন শিবিরের। একসঙ্গে একাধিক জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা দিবস ও ক্লাবের প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপন করা হয়। এদিনের অনুষ্ঠানে উদ্বোধক ও প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডা. মানিক সাহা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের স্বামী শুভকরানন্দ মহারাজ সহ অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা।
রক্তদান শিবিরে স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন বহু মানুষ। পাশাপাশি মরণোত্তর দেহ ও চক্ষুদানের মতো মহৎ উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজের মানুষের মধ্যে মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তা তুলে ধরা হয়। আধার নিবন্ধন শিবিরেরও আয়োজন থাকায় সাধারণ মানুষ একসঙ্গে একাধিক পরিষেবা গ্রহণের সুযোগ পান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা। একইসঙ্গে বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিরোধীরা রাজ্যের শ্রমিক-কর্মচারীদের বিভিন্ন বিষয়কে সামনে রেখে ফের আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অথচ তাঁর অভিযোগ, অতীতে শ্রমিক-কর্মচারীদের স্বার্থের ক্ষতি করার জন্য বিরোধীরাই দায়ী। তিনি আরও বলেন, একসময় মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে যে সুন্দর সম্পর্ক ও ব্যবস্থাপনা ছিল, তা নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনের সময় শ্রমিকদের প্রাণহানি ঘটলেও নেতারা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করেছেন বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর প্রশ্ন, যারা নিজেদের সময়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য কিছু করতে পারেননি, তারা কীভাবে দেশের উন্নয়ন করবে?
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক বছরে দেশ ও রাজ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘লাখপতি দিদি’ গড়ে তোলার লক্ষ্যের কথাও তুলে ধরেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ত্রিপুরায় ইতিমধ্যেই ১ লক্ষ ৮ হাজার মহিলা ‘লাখপতি দিদি’ হয়েছেন। পাশাপাশি রাজ্যে প্রায় চার লক্ষ স্বসহায়ক দল গড়ে উঠেছে বলেও জানান তিনি। গ্রাম ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, সরকারের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পের ফলে রাজ্যের গ্রামাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এসেছে। সাধারণ মানুষ এখন স্বস্তির সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিরোধীদের উদ্দেশে রাজনৈতিক কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের মানুষ যখন উন্নয়নের সুফল পাচ্ছেন, তখন বিরোধীরা সেই উন্নয়নের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে। তবে তাদের মোকাবিলা করার পথও সরকারের জানা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। স্বাধীনতা দিবসের আবহে সংহতি ক্লাবের রক্তদান, মরণোত্তর দেহদান, চক্ষুদান ও আধার নিবন্ধনের মতো একাধিক কর্মসূচি এদিন সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অনন্য বার্তা বহন করে। স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্যকে সামনে রেখে মানবসেবার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান উপস্থিত অতিথিরা। ক্লাব কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও ভবিষ্যতে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি আরও বিস্তৃতভাবে চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দেওয়া হয়।



