হৃদরোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়লেও বিশ্বজুড়ে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বেড়ে চলেছে। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং মানসিক চাপসহ নানা কারণ হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তাই হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সচেতনতা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের উপরই বিশেষজ্ঞরা বারবার গুরুত্ব দিচ্ছেন। হৃদরোগ প্রতিরোধ এবং হৃদযন্ত্রের সুস্থতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই প্রতি বছর ২৯ সেপ্টেম্বর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব হার্ট ডে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় ওয়ার্ল্ড হার্ট ফেডারেশন ২০০০ সালে এই দিবসের সূচনা করে। এবছরও নানা সচেতনতামূলক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার পালিত হয় বিশ্ব হার্ট ডে। এবারের বার্তা ছিল—‘সুস্থ হৃদয়, সুস্থ আগামী’। বিশ্ব হার্ট ডে উপলক্ষে আগরতলা সরকারি মেডিকেল কলেজ ও জিবিপি হাসপাতালের উদ্যোগেও আয়োজন করা হয় বিশেষ সচেতনতামূলক কর্মসূচির। হৃদরোগের ঝুঁকি, প্রতিরোধ এবং হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখার বিভিন্ন উপায় সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করাই ছিল এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডক্টর প্রদীপ ভৌমিক-সহ অন্যান্য চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। কর্মসূচিতে বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে হৃদরোগ প্রতিরোধে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়ামের পাশাপাশি পুষ্টিকর এবং সুষম খাবার গ্রহণ করতে হবে। একইসঙ্গে তামাক ও ধূমপান সম্পূর্ণভাবে পরিহার করা এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার দিকেও নজর দিতে হবে। এদিন লাইফস্টাইল মডিফিকেশন কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। নিয়মিত ব্যায়াম, পরিমিত ও সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং ক্ষতিকর অভ্যাস থেকে দূরে থাকার মাধ্যমে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে সচেতন করা হয়। পাশাপাশি হৃদরোগের ঝুঁকি রয়েছে এমন ব্যক্তিদের সময়মতো স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং কোনও শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার উপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশ্ব হার্ট ডে-র এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শুধু হৃদরোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি নয়, প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলার বার্তাও দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতন জীবনযাপন ও সময়মতো স্বাস্থ্য পরীক্ষা হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।



