Wednesday, October 7, 2026
বাড়িখবররাজ্যজ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির ঘটনায় সরব আশীষ সাহা, পুলিশের ভূমিকার নিন্দা

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির ঘটনায় সরব আশীষ সাহা, পুলিশের ভূমিকার নিন্দা

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও গ্রেপ্তারের দাবিকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির আন্দোলন অব্যাহত। এই পরিস্থিতির মধ্যেই দিল্লিতে আন্দোলনরত বিরোধী দলের সাংসদদের পুলিশের বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এবার এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস। বুধবার আগরতলার প্রদেশ কংগ্রেস ভবনে এক যোগদান কর্মসূচির পর আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলন থেকে দিল্লির ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা। এদিনের কর্মসূচিকে ঘিরে প্রদেশ কংগ্রেস ভবনে ছিল রাজনৈতিক তৎপরতা। যোগদান কর্মসূচির মাধ্যমে পুরনো দলে ফিরলেন একসময়ের সক্রিয় মহিলা কংগ্রেস নেত্রী পান্না দেব। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে ফের কংগ্রেসে যোগ দেন তিনি। পাশাপাশি আরও কয়েকজন এদিন কংগ্রেসের পতাকা হাতে তুলে নেন। তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দলে স্বাগত জানান বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন।

পরে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহার উপস্থিতিতে সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তাঁর পাশে ছিলেন যুব কংগ্রেস সভাপতি নীলকমল সাহা এবং প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী। সাংবাদিকদের সামনে মূলত দিল্লিতে বিরোধী সাংসদদের আন্দোলন ঘিরে পুলিশের ভূমিকা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে কংগ্রেস নেতৃত্ব। আশীষ কুমার সাহা অভিযোগ করেন, জনস্বার্থের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধী দলের সাংসদদের আন্দোলন করার যে সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে, বর্তমানে সেই অধিকারও খর্ব করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, বিরোধীরা কোনও ইস্যুতে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ বা আন্দোলনে নামলেই প্রশাসনকে ব্যবহার করে সেই আন্দোলন দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রশ্ন তুলে বিরোধী দলগুলি দেশজুড়ে আন্দোলনে নেমেছে। বিশেষ করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও গ্রেপ্তারের দাবিকে সামনে রেখে এই আন্দোলন চলছে বলে দাবি করেন তিনি। আশীষ সাহা বলেন, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী দলের নেতারা যখন প্রকাশ্যে এই দাবিতে আন্দোলন করছেন, তখন সেই আন্দোলনকে কীভাবে থামিয়ে দেওয়া যায়, সেই চেষ্টা চলছে। তাঁর অভিযোগ, বিরোধীদের গণতান্ত্রিক কর্মসূচিকে নিয়ন্ত্রণ করতে আরক্ষা প্রশাসনকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

দিল্লিতে বিরোধী দলের সাংসদদের সঙ্গে পুলিশের আচরণের অভিযোগ প্রসঙ্গে আশীষ সাহা বলেন, এই ধরনের ঘটনা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁর দাবি, জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে বিরোধীদের আন্দোলন করার অধিকার রয়েছে। কিন্তু সেই অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়েও যদি বাধার মুখে পড়তে হয়, তাহলে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশের ভোটারদের ভোটাধিকার সংক্রান্ত বিষয়কে সামনে রেখে বিরোধী দলগুলি আন্দোলনে নেমেছে। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্নগুলি বিরোধীরা তুলছে, সেগুলির উত্তর দেওয়ার পরিবর্তে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির অভিযোগ, দিল্লির ঘটনায় বিরোধী সাংসদদের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার যে ছবি সামনে এসেছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তাঁর দাবি, সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার প্রশ্নে বিরোধী দলগুলির কণ্ঠস্বর যাতে স্তব্ধ না হয়, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আশীষ সাহা বলেন, বিরোধী দলের সাংসদদের সংসদীয় ও গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে। জনস্বার্থের প্রশ্নে তাঁরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাতেই পারেন। সেই অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক বাধা তৈরি করা বা পুলিশকে ব্যবহার করে আন্দোলন দমন করার চেষ্টা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে দাবি করেন তিনি।

দিল্লির ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে আশীষ সাহা বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার জন্য বিরোধীদের আন্দোলনের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান পরিস্থিতি দেশে গণতন্ত্রের পরিসর নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করছে। এদিকে, একই দিনে কংগ্রেসের যোগদান কর্মসূচি ঘিরেও রাজনৈতিক তাৎপর্য দেখা যায়। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে পুরনো দলে ফিরে আসা পান্না দেবকে ঘিরে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ দেখা যায়। পাশাপাশি আরও কয়েকজনের কংগ্রেসে যোগদানের ঘটনায় সংগঠনের শক্তি বৃদ্ধির বার্তা দিতে চেয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব। সব মিলিয়ে, একদিকে দলবদল ও নতুন করে কংগ্রেসে যোগদানের কর্মসূচি, অন্যদিকে দিল্লিতে বিরোধী সাংসদদের আন্দোলন ঘিরে পুলিশের ভূমিকার অভিযোগ—দুই বিষয়কে সামনে রেখেই বুধবার সরব হলো ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস। দিল্লির ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছে, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার প্রশ্নে তারা আন্দোলনের পক্ষে রয়েছে।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

one × one =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য