বাসুদেব ভট্টাচার্যী খোয়াই ৫ই জুন…… রাজ্যের পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক গুলি নিজেদের কোষাগারকে ফাঁপিয়ে তুলতে অর্থাৎ ব্যাপক পরিমাণে কয়েকশো কোটি টাকা মুনাফা কামানোর উদ্দেশ্যে রাজ্যের হাজার হাজার পেনশন ভোগীদের ডি আর আত্মসাৎ করে নিয়েছে গত তিন মাস ধরে বলে খবরের প্রকাশ।রাজ্য সরকারের পেনশন ভোগী এবং পারিবারিক পেনশন ভোগীদের মহার্ঘ ভাতা তথা ডি,আর প্রদানের ক্ষেত্রে ইতিহাস গড়তে চলেছে রাজ্যের নেতৃত্বকারী পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক। রাজ্যের সরকারি কর্মচারীরা এপ্রিল ও মে মাসের বেতনের সাথেই ৪১শতাংশ মহার্ঘ ভাতা পেয়ে গেছে। অথচ একই যাত্রায় পৃথক ফল ঘটে চলেছে প্রবীর নাগরিক তথা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রাপ্য পেনশন ও পারিবারিক পেনশন ভোগীদের ক্ষেত্রে। এখানে ঘটে যাওয়া ঘটনা হলো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সর্বশেষ ৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা (পেনশন ভোগিদের ক্ষেত্রে অর্থাৎ মহার্ঘ্য খয়রাতি) ঘোষণার দিন রাজ্য সরকারী পেনশন ভোগীদের সর্বমোট সংখ্যা ছিল ৮১ হাজার ১৯জন। রাজ্যে অবস্থিত প্রায় প্রত্যেকটি ব্যাংক থেকে এদের পেনশন বিতরণ করা হয়ে থাকে । রাজ্যের লিডিং ব্যাংক হিসেবে পরিচিত পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত পেনশন প্রাপকদের সংখ্যা সর্বাধিক। অপরদিকে স্টেইট ব্যাংক সহ অন্যান্য সব ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এপ্রিল ও মে মাসের প্রাপ্য উল্লিখিত দুই মাসের ৫ শতাংশ মহার্ঘ খয়রাতি অর্থাৎ ডি আর নিয়ম অনুযায়ী পেনশনের সঙ্গে একত্রে প্রধান করলেও মুনাফা খোর নেতৃত্বকারী পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক সেই পথে আজও হাঁটেনি। প্রবীণ পেনশন ভোগিরা এই পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের দরজায় দরজায় হেঁটে এবং ধরনা দিয়েও তাদের সাথে ঘটে যাওয়া বঞ্চনার কথার কোন ধরনের সদোত্তর পায়নি। শেষে ক্ষুব্ধ পেনশন ভোগিরা শেষ আশ্রয় তাদের নিজ নিজ সংগঠনের স্থানীয় কর্মকর্তাদের উপর তাদের ক্ষোভ আছড়ে পড়ে। তাদের বক্তব্য ডি আর নিয়ে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের কর্তৃপক্ষ একই ধারায় তাদের প্রতি বঞ্চনা অব্যাহত রেখেছে। বিগত সময়ে ৩ শতাংশ ডি আর প্রধানকালেও এই বিলম্বিত প্রয়াসে তারা প্রতিনিয়ত বঞ্চনার ইতিহাস গড়ে তুলেছে। অন্যদিকে ওয়াকিবহল ক্ষুব্দ পেনশন ভোগীদের বক্তব্য রাজ্য সরকারের মঞ্জুরকৃত ডি আর এর অর্থরাশি ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ এভাবেই নিজেদের প্রতিষ্ঠানে জমিয়ে রেখে নিজেরা যেমন মুনাফা কামাচ্ছে পাশাপাশি ব্যাংক থেকে ঋণ নেবার গ্রাহকদের উচ্চ হারে সুদের লভ্যাংশ অর্জন করতে ব্যস্ত যা তারা কখনোই করতে পারে না। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পরিষেবার কর হিসেবে রাজ্য সরকারের কাছ থেকেতো বিশাল অংকের অর্থ কামাই করছেই, অন্যদিকে আবার পেনশন ভীদের বঞ্চিত করে ব্যাংকের তৃতীয় পক্ষের ঋণ গ্রহীতাদের কাছ থেকে ব্যাপক হারে চড়া সুদ নিয়ে তাদের কামাই বাণিজ্য দেদার চালিয়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত পেনশন প্রাপকদের আরেকটি প্রশ্ন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ প্রতি কিস্তিতে পেনশন ভোগিদের ঠকিয়ে কত পরিমান অর্থ নিজেদের বার্ষিক মুনাফার অংশ হিসেবে কামিয়ে নেবার কৌশল কাজে লাগাচ্ছেন। প্রবীর নাগরিকি ও পেনশন ভোগীরাও ভালোভাবে অবগত যে এ রাজ্যে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন পেনশন মনজুরের সিলিং যথাক্রমে ১ লক্ষ ৫ হাজার ৭২০ এবং ৭ হাজার ২০ টাকা। সিংহভাগ পেনশনভীদের পেনশন বিতরণের দায়িত্বে এই পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক এর অধীনে বলেই সহজে অনুমেয় যে ই ব্যাংক প্রতি কিস্তিতে পেনশনদের মোটা প্রাপ্য অংক একত্রে বিতরণ না করে কি পরিমান বিশাল পরিমাণে অর্থ মুনাফার জন্য তাদের কোষাগারে যোগ করে চলেছে। তাইতো গত ২৯শে মে ত্রিপুরা রাজ্যের সিনিয়র সিটিজেন এন্ড পেনশনার্স সংঘের উদ্যোগে খোয়াই জেলার সভাপতির নেতৃত্বে ১০ জনের এক প্রতিনিধি দল খোয়াই শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের শাখা প্রবন্ধকের হাতে এই মর্মে একটি স্মারক লিপি উনার হাতে তুলে দিয়ে আলোচনা টেবিলে মিলিত হলে এ বিষয়ে খোয়াই পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের শাখা প্রবন্ধক উনার অজ্ঞতা এবং অক্ষমতা প্রকাশ করেন। তবে তিনি জানান বিষয়টি উনার সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের নজরে আনবেন। সৌজন্যতা বসত তিনি স্মারকলিপির প্রতিলিপি জেলায় অবস্থিত তাদের প্রতিটি শাখা প্রবন্ধকের কাছে পৌঁছে দেন। অপরদিকে সংঘের পক্ষ থেকে এই প্রতিলিপি নাগপুর স্থিত প্রধান কার্যালয় ও রাজ্য সভাপতি কেও অবহিত করেন। পাশাপাশি খোয়াই জালা শাসক ও সমাহর্তাকেও এই লিপি লিপি তুলে দিয়ে উপযুক্ত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে আবেদন জানান তারা। এখন দেখার বিষয় অভিযুক্ত পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অচিরেই পেনশন ভোগীদের বঞ্চনা নিরাশনে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করে। অন্যদিকে রাজ্য সরকারের অর্থ দপ্তরই বা এই বিষয়ে কতটুকু সদর্থক ভূমিকা গ্রহণ করে পেনশন প্রাপকদের জন্য সেই দিকে তাকিয়ে রয়েছে তারা।



