বাসুদেব ভট্টাচার্যী খোয়াই ১৭ই মে….. অভিভাবকহীন খোয়াই শহরের জনগণ বর্তমান সময়ে কিছু ব্যভিচারকারী ব্যবসায়ীদের কারণে বাজারে জিনিস ক্রয় করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত প্রতারনার শিকার হচ্ছেন। তেমনি এক ঘটনা ঘটলো শনিবার রাতে খোয়াই মৎস্য বাজারে খোয়াই সুভাষ পার্ক স্থিত মৎস্য বিপণিতে এক মৎস্য ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ওজনে কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। একজন ক্রেতার দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ইলেকট্রনিক জাতীয় ওজন পরিমাপের মেশিন দিয়ে কারচুপি করে সাধারণ গ্রাহকদের প্রতিনিয়ত প্রতারিত করে আসছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা রাতে এক ক্রেতা ৪০০ টাকা কেজি দরে ৫০০ গ্রাম মাছ কিনতে যান। সেই সময় তিনি ইলেকট্রনিক ওজন পরিমাপক মেশিনে লক্ষ্য করেন,যে আগে থেকেই মৎস্য ব্যবসায়ীর ওজন পরিমাপের মেশিনে আগে থেকেই প্রায় ১৫ থেকে ২০ গ্রাম ওজন বাড়ানো ছিল। এতে সন্দেহ হওয়ায় মৎস ক্রেতা বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানান। ক্রেতার অভিযোগ, প্রতিবাদ করতেই সংশ্লিষ্ট মৎস্য ব্যবসায়ী তথা কর্ণ দাস তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার শুরু করেন। পরে ওই ক্রেতা খোয়াই সুভাষ পার্ক পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে মৌখিক অভিযোগ দায়ের করে আসেন। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, মৎস , সবজি, ভুশিমাল এবং মাংস বাজারে এই ধরনের ওজনে কারচুপির ঘটনা নতুন নয় । এই ধরনের কারচুপি প্রতিনিয়ত বাজারে দেখা যায় বলে অনেক গ্রাহক এই অভিযোগটি করেন।এবং এই ধরনের কারচুপির ফলে প্রতিদিনই সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অন্যদিকে খোয়াইয়ের ওজন পরিমাপ দপ্তরের কর্মীরা কুম্ভ নিদ্রায় আশ্রিত। ওজন পরিমাপ দপ্তর নামক একটি দপ্তর যে খোয়াইতে রয়েছে সেটাই খোয়াই এর সাধারণ মানুষ জানে না। না জানার কারণ ও রয়েছে। সাধারণ গ্রাহকদের অভিযোগ গত এক দশকের মধ্যে খোয়াই মহকুমার ওজন পরিমাপ দপ্তরের কর্মীরা খোয়াই শহরের কোন বাজারে পরিদর্শন করতে দেখা যায়নি। এমনকি বাজারের প্রত্যেকটি দোকানের ওজন পরিমাপের ইলেকট্রনিক্স মেশিন এবং ওজন পরিমাপের দাঁড়িপাল্লা ও তার পাথর পরীক্ষা করতে দেখা যায়নি। আর সেইসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করার কারণে খোয়াই মহকুমা বিভিন্ন বাজারের বেশিরভাগ অসাধু ব্যবসায়ীরা তাদের ওজন পরিমাপের পাল্লায় প্রতিনিয় কারচুপি করে যাচ্ছেন। আর তাতে প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ জনগণ। এই প্রতারণা করার জন্য ব্যবসায়ীরা কিছু দৈহিক বলে, কিছু রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে, এবং কিছু ব্যবসায়ী নিজেদের পয়সার ক্ষমতা দেখিয়ে প্রতিনিয়ত খোয়াই শহরের বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকদের লুটে খাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। এমনিতেই তো বাজারের সমস্ত জিনিসপত্র দাম আকাশছোঁয়া। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে অনেক অসাধু ব্যবসায়ীরা যদি নিজেদের আখের গোছাতে সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত ঠকিয়ে যাচ্ছে।এখন দেখার বিষয় খোয়াই মহকুমা শাসক এবং ওজন ও পরিমাপ দপ্তর এই অভিযোগের তদন্ত করে ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রতারণা রুখতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে সেটাই দেখার বিষয়।



