বিশালগড়ে চাঞ্চল্যকর গুলিকাণ্ডে এখনও পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে কুখ্যাত সমাজদ্রোহী তথা মনের সহযোগী দুষ্কৃতী রণবীর দেবনাথ। তাকে গ্রেফতার করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে দাবি পুলিশের। তবে স্থানীয় মানুষ সেই দাবিকে সহজভাবে মেনে নিতে পারছেন না। একাংশের দাবি, পুলিশ চাইলে সবই করতে পারে। যেখানে জিরানিয়া ফেনসিডিল মামলায় বহিরাজ্যউত্তরপ্রদেশ ও কলকাতাথেকে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে, সেখানে রণবীরকে ধরতে না পারা নিয়ে নানা সন্দেহ উঁকি দিচ্ছে জনমনে।
এ নিয়ে জনমনে জোরালো হচ্ছে নানা জল্পনাএর পেছনে কি আর্থিক লেনদেন, নাকি রাজনৈতিক মদত রয়েছে? এছাড়া রণবীর গোষ্ঠীর আরও কয়েকজন যুবক নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করলেও তাদের গ্রেফতারে পুলিশ সক্রিয় নয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
নির্বাচনের দোহাই দিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টাও করছে পুলিশএমন অভিযোগও রয়েছে।
অন্যদিকে, এই গুলিকাণ্ডে পুলিশ ইতিমধ্যেই চারজনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের মধ্যে রয়েছে বিশালগড় আমবাগান এলাকার যুবক শুভম সাহা, এসডিএম অফিস সংলগ্ন এলাকার কুখ্যাত সমাজদ্রোহী রণবীর সরকার ওরফে মন, এবং আরও দুই যুবক। তবে এই গ্রেফতার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, আটক চারজনের মধ্যে তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দুর্বল, বিশেষ করে শুভম সাহার বিরুদ্ধে থানায় পূর্বে কোনো মামলা নেই।
অপরদিকে, ‘মন’-এর বিরুদ্ধে গত কয়েক বছরে চুরি, ছিনতাই, অপহরণ, মাদক কারবার, তোলাবাজি-সহ একাধিক সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে পূর্বেও সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই গুলিকাণ্ডে থানায় দুটি মামলা নথিভুক্ত হয়েছেনম্বর ২৪ ও ২৭। ২৪ নম্বর মামলায় মনকে। এবং ২৭ নম্বর মামলায় শুভমকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজত শেষে গত বৃহস্পতিবার অভিযুক্তদের আদালতে তোলার কথা থাকলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শুনানি সম্পন্ন হয়। পরদিন বিচারপতি রায় ঘোষণা করে মন ব্যতীত বাকিদের ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন এবং মনকে ১৩ এপ্রিল স্বশরীরে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নতুন একটি মামলায় মনকে অভিযুক্ত
করার জন্য আদালতের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। আদালত বিষয়টি বিবেচনা করে নির্ধারিত দিনে সিদ্ধান্ত জানাবে। এদিকে আদালত সূত্রে খবর, মনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশ রয়েছে। ইতিমধ্যেই সরকার পক্ষের হয়ে বিশেষ আইনজীবী দল গঠন করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মোট ১৭টি মামলার নথি আদালতে পেশ করা হয়েছে, যার মধ্যে একাধিক ১০৭ ধারার মামলা রয়েছে। আইনজীবীদের মতে, একাধিক ১০৭ ধারার মামলা থাকলে নাসা (গুচ্ছক) ধারা প্রয়োগের সম্ভাবনাও থাকে। অতীতে বিশালগড় এলাকায় মনের প্রভাব ছিল ব্যাপক। চুরি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, জমি দখলবিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি জাতীয় সড়কে পণ্যবাহী গাড়ি আটকিয়ে লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একসময় রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে সে প্রায় অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছিল। পুলিশের সঙ্গে সমঝোতার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে, যা এলাকায় ‘ওপেন সিক্রেট’ বলে পরিচিত। তবে বর্তমানে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে জানা গেছে। মাফিয়ামুক্ত এলাকা গড়ার লক্ষ্যে পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র দপ্তর সক্রিয় হয়েছে। ইতিমধ্যেই তার বিরুদ্ধে নাসা ধারা প্রয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং আরও একটি মামলায় তাকে অভিযুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, বিশালগড় গুলিকাণ্ডকে ঘিরে উত্তেজনা এখনো তুঙ্গে। মূল অভিযুক্ত রণবীর দেবনাথের গ্রেফতারই এখন প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।



