Friday, March 27, 2026
বাড়িখবরশীর্ষ সংবাদখোয়াই অফিস টিলা মনিপুরী বস্তি এলাকা থেকে এক বিরল প্রজাতির স্লো লরিস...

খোয়াই অফিস টিলা মনিপুরী বস্তি এলাকা থেকে এক বিরল প্রজাতির স্লো লরিস নামক বন্যপ্রাণী উদ্ধার।

বাসুদেব ভট্টাচার্যী খোয়াই ২৭ শে মার্চ…….বৃহস্পতিবার রাতে খোয়াই অফিস টিলা জাম্বুরা এলাকার ডি ডাব্লিউ এস অফিসের সামনে থেকে এলাকাবাসী একটি বিরল প্রজাতির স্লো লরিস নামক একটি বন্য প্রাণীকে উদ্ধার করে। এলাকাবাসীরা জানান প্রাণীটি ডি ডব্লিউ এস অফিসের সামনে খুব ধীর গতিতে গরিয়ে গরিয়ে চলতে থাকে। শেষে এলাকাবাসী বুঝতে পারে প্রাণীটি খুবই অসুস্থ, অবশেষে এই প্রাণীটিকে উদ্ধার করে বনদপ্তর কে খবর দিলে বনদপ্তরের কর্মীরা এসে প্রাণীটিকে নিয়ে যায়। এখানে লক্ষ্যনীয় বিষয় হচ্ছে এই ধরনের প্রাণীরা প্রায় সময় জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসছে লোকালয়ের উদ্দেশ্য। দেখা যাচ্ছে খোয়াই মহাকুমার অন্তর্গত বিভিন্ন এলাকার বনভূমি গুলি ব্যাপক হারে ধ্বংসের কারণে এই ধরনের প্রাণীরা নিজেদের বাঁচাতে লোকালয়ের উদ্দেশ্যে চলে আসছে খাদ্যের জন্য।কারণ এই ধরনের প্রাণীদের জন্য বনভূমি এলাকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে বাসস্থান ও খাদ্যের অভাবে তারা লোকালয়ের উদ্দেশ্যে চলে আসছে। তেমনি একটি ঘটনা দেখা গেল গত দুদিন আগে কল্যাণপুর এলাকায় জঙ্গল থেকে বেরিয়ে একটি উল্লুক লোকালয়ে চলে আসে। রাজ্যে যেভাবে বনভূমিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে জঙ্গল মাফিয়ারা তাতে করে আগামী কিছু। দিনের মধ্যে রাজ্য থেকে চিরতরে লুপ্ত হয়ে যাবে এই ধরনের বিরল প্রজাতির প্রাণীরা। আর এই য়ঢ়ধরনের প্রাণীরা প্রায় সময় জঙ্গল না থাকার কারণে শহরের দিকে চলে আসতে দেখা যাচ্ছে। আর এই ধরনের প্রাণীরা বিশেষ করে ইউকিলিপটাস গাছের পাতা খেয়ে তারা জীবন ধারণ করে। খোয়াই মহাকুমা এলাকার বিভিন্ন জঙ্গলে এক সময় এই গাছগুলি ছিল। কালের প্রভাবে এমনকি সড়ক তৈরি করতে গিয়ে এই ধরনের ইউকিলিপটাস গাছগুলিকে কেটে ফেলা হয়। যার ফলে স্লো লরিস নমক প্রাণীদের খাদ্যের অভাব ঘটে। যদিও এই প্রাণীরা অন্য গাছের লতা পাতা খেয়ে বাঁচতে পারে এরপরও তাদের প্রধান খাদ্য সেই ইউকিলিপ্টাস গাছের পাতা। এমনকি তারা এই গাছেই বেশিরভাগ বিচরণ করে থাকে।এই গাছের পাতা খেয়ে তারা শুধু জীবন নির্বাহ করে না প্রাণী গুলির শরীরের ঔষধ হিসাবে ও এই গাছের পাতা খুবই উপকার। তবে এসব প্রাণীদের ঘ্রাণ শক্তি প্রবল। তারা দূর থেকে জানতে পারে যে তাদের প্রধান খাদ্য ইউকিলিপটাস গাছ কোথায় রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতের এই ঘটনায় বোঝা যাচ্ছে এই স্লো লরিস নামক প্রাণীটি ইউকিলিপ্টাস গাছের পাতা খাবার উদ্দেশ্যে অফিস টিলা চত্বরে চলে আসে। কারণ অফিস টিলা এলাকায় সাধারণ বাড়ি ঘর থেকে শুরু করে ওই এলাকার বিভিন্ন অফিস চত্বরে এই ইউকিলিপ্টাস জাতীয় গাছটি প্রচুর রয়েছে। হয়তোবা তাই খাদ্য হিসেবে গাছের পাতা খেতে রাতের অন্ধকারে সেই প্রাণীগুলি এইসব জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসে ঐ গাছের সন্ধানে । জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসার ফলে প্রায় সময়ই জনসমক্ষে চলে আসে। এলাকার জনগণ বলছিল যখন তারা এই স্লো লরিস নামক বন্যপ্রাণীটি কে উদ্ধার করে তখন প্রাণীটি খুবই দুর্বল ছিল । যদিও এই ধরনের প্রাণীরা সহজে কাউকে আক্রমণ করে না তারপরও এলাকাবাসী বুঝতে পারে যে প্রাণীটি খুবই দুর্বল। তার নড়াচড়া করতে বেশ কষ্ট হচ্ছিল। এর থেকে বোঝা যাচ্ছে যে প্রাণীটি হয়তো সঠিক সময়ে খাবার খেতে পারছে না । আর খাবার খেতে না পাওয়ার কারণে এই প্রাণীটি দুর্বল হয়ে পড়ে। তবে প্রাণীটিকে উদ্ধারের পর একটি কথাই বোঝা যাচ্ছে বিভিন্ন জঙ্গলে তাদের প্রিয় খাদ্য গুলির অভাবের কারণে এইসব প্রাণীগুলো যেমন শহরের দিকে ধাবিত হচ্ছে পাশাপাশি লোকালয়ে আসার পর যখন সাধারণ জনগণ সেই প্রাণীগুলোকে উদ্ধার করে। এবং প্রত্যেকটি ঘটনায় দেখা গেছে এই ধরনের প্রাণীগুলি খুবই অসুস্থ অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে অনেকের ধারণা বনাঞ্চলের দিকে বিশেষ করে ইউকিলিপ্টাস গাছগুলি লুপ্ত হবার ফলে এই প্রাণীগুলির জীবন সংশয়ের দিকে এগোচ্ছে। তাই তারা নিজেদের বাঁচাতে যেসব এলাকায় ওই ধরনের গাছগুলি থাকে সেই দিকে তারা ধাবিত হয় সেটা অনেকবার প্রমাণিত হয়েছে। তারমধ্যে যে জায়গায় প্রাণীটিকে উদ্ধার করে জম্বুড়া এলাকাবাসী সেখানে পানিয় জলের দপ্তরের অফিসে এই ধরনের ইউকিলিপটাস গাছগুলি বেশ কয়েকটা রয়েছে। হয়তোবা সেই গাছগুলিতে খাদ্য সংগ্রহের জন্য বা সংগ্রহ করে ফিরে যাবার পথে জনসমক্ষে চলে আসে। তবে এই ধরনের প্রাণীগুলি আমাদের ত্রিপুরা রাজ্যের জন্য একটি সম্পদ যা বর্তমান পরিস্থিতিতে লুপ্ত হবার পথে। তাই এই ধরনের প্রাণীগুলিকে লুপ্ত হবার হাত থেকে আমরাই তাদেরকে বাঁচাতে পারি শুধু ছোট্ট একটা কাজের মাধ্যমে। এই ধরনের বন্যপ্রাণীরা যারা গাছের লতাপাতা খেয়ে জীবনধারণ করে ওই সমস্ত প্রাণী দের জন্য পুনরায় অভাগ বনাঞ্চল তৈরি করতে হবে পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের গাছপালা রোপন করা খুবই দরকার। তাতে প্রকৃতির ভারসাম্য যেমন সঠিক থাকবে পাশাপাশি এই ধরনের প্রাণীরা বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা পাবে। তাই আমাদের প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য পালা করে গাছ লাগাতে হবে বিশেষ করে যেসব জায়গায় বন ধ্বংস হয়ে গেছে সেই বনে বনাঞ্চল তৈরি করা গাছ লাগানোর মাধ্যমে।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

4 × 5 =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য