বিধানসভা থেকে কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মনকে বহিষ্কারের ঘটনায় এবার সরব হলো প্রদেশ কংগ্রেস। এই সিদ্ধান্তকে অন্যায় এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা। তাঁর দাবি, প্রয়াত ডিআইজি অনুরাগ ধ্যানকরের অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে বিধানসভায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলার পরই সুদীপ রায় বর্মনের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছে কংগ্রেস।
বিধানসভায় কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মনকে বহিষ্কারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। সোমবার আগরতলা প্রদেশ কংগ্রেস ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করে এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা। তাঁর অভিযোগ, বিধানসভায় গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলার কারণেই সুদীপ রায় বর্মনের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কংগ্রেসের দাবি, এই সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে এবং এর মাধ্যমে বিরোধী বিধায়কের বক্তব্য রাখার অধিকার খর্ব করার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বলেন, প্রয়াত ডিআইজি অনুরাগ ধ্যানকরের অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে বিধানসভায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছিলেন সুদীপ রায় বর্মন। বিশেষ করে কথিত সুইসাইড নোট নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি সেটি কেন প্রকাশ্যে আনা হয়নি এবং গোটা ঘটনায় তদন্তের ক্ষেত্রে কোনও গাফিলতি হয়েছিল কি না, তা নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন তিনি। কংগ্রেসের অভিযোগ, এই বিষয়গুলি বিধানসভায় তুলে ধরার পরই সুদীপ রায় বর্মনের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিরোধী দলের একজন নির্বাচিত বিধায়কের প্রশ্ন তোলার অধিকারকে এভাবে খর্ব করা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন আশীষ কুমার সাহা।
এদিন প্রয়াত ডিআইজি অনুরাগ ধ্যানকরের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। গোটা ঘটনার সঠিক তদন্তের স্বার্থে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও জানান তিনি। একইসঙ্গে সুদীপ রায় বর্মনের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস। কংগ্রেস নেতৃত্বের বক্তব্য, এই ঘটনায় পিছিয়ে না গিয়ে সত্য উদঘাটনের দাবিতে রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিকভাবে লড়াই চালিয়ে যাবে দল। প্রয়াত ডিআইজি অনুরাগ ধ্যানকরের মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে আগামী দিনে আন্দোলন আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে প্রদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে। তবে কংগ্রেসের এই অভিযোগ এবং মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবির বিষয়ে এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকার বা শাসকদলের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে এই ইস্যুতে আগামী দিনে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।



