চুরির ঘটনা রুখতে এবার আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে আমতলী থানার পুলিশ। একের পর এক চুরির অভিযোগ সামনে আসতেই রাতদিন এক করে তদন্ত ও অভিযানে নেমেছে পুলিশ। গত কয়েকদিন ধরে ধারাবাহিক অভিযানে একাধিক সন্দেহভাজনকে আটক করে আদালতে পাঠানোর পাশাপাশি চুরি চক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। সম্প্রতি আমতলী থানা এলাকায় একটি বাড়িতে চুরির অভিযোগ সামনে আসার পরই তদন্ত শুরু করে আমতলী থানার পুলিশ। ঘটনার কিনারা করতে গোয়েন্দা পুলিশেরও সহযোগিতা নেওয়া হয়। এরপর বিভিন্ন সূত্র, তথ্য ও সন্দেহজনক ব্যক্তিদের গতিবিধির ওপর নজর রেখে শুরু হয় ধারাবাহিক অভিযান।
পুলিশের দাবি, তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর একের পর এক সন্দেহভাজন ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া যায়। তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হলে আমতলী থানা এলাকার বিভিন্ন চুরির ঘটনার সঙ্গে যোগসূত্র থাকার তথ্য সামনে আসে। একইসঙ্গে চুরি যাওয়া সামগ্রী উদ্ধারের জন্যও বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। এরই মধ্যে পূর্বে আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাতে আরও দুজনকে আটক করতে সক্ষম হয় আমতলী থানার পুলিশ। কাঠালতলী এলাকা থেকে বিশালগড়ের বাসিন্দা গৌরাঙ্গ দাস এবং জিরানিয়ার বাসিন্দা সৌরভ দাসকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এই দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চোরচক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও বেশ কয়েকজনের নাম সামনে আসতে পারে। বিশেষ করে চুরি হওয়া সামগ্রী কোথায় পাচার করা হয়েছে এবং এই চক্রের নেপথ্যে আরও কেউ রয়েছে কি না, সেই বিষয়ে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ।
চুরির ঘটনা প্রতিরোধে আমতলী থানা এলাকায় রাতের টহলদারিও আরও জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও নির্জন এলাকায় পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহজনক ব্যক্তিদের গতিবিধির ওপরও রাখা হচ্ছে বিশেষ নজর। পুলিশের এই ধারাবাহিক অভিযানে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। আমতলী থানার ওসি রানা চ্যাটার্জি জানান, চোরচক্রের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান আগামী দিনেও আরও জোরদার করা হবে। পূর্বে আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং নতুন করে আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। পুলিশের ধারণা, ধৃতদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে চুরির সঙ্গে জড়িত আরও ব্যক্তিদের সন্ধান পাওয়ার পাশাপাশি চুরি যাওয়া সামগ্রী উদ্ধারের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য মিলতে পারে। এখন তদন্তের মাধ্যমে চোরচক্রের কতটা গভীরে পৌঁছতে পারে আমতলী থানার পুলিশ, সেদিকেই নজর।



