Monday, September 7, 2026
বাড়িখবররাজ্যভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচন ঘিরে উত্তপ্ত রাজনীতি, মনোনয়ন জমা দিতে বাধার অভিযোগে রাজপথে...

ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচন ঘিরে উত্তপ্ত রাজনীতি, মনোনয়ন জমা দিতে বাধার অভিযোগে রাজপথে সিপিআইএম

দেশের শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনে অবশেষে এডিসি এলাকার ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে রাজ্য নির্বাচন দপ্তর। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে চলেছে গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচন। নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ব্লকে রাজনৈতিক দলগুলির মনোনীত প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আর এই মনোনয়ন পর্বকে কেন্দ্র করেই সামনে আসছে একের পর এক অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ। বিশেষ করে বিরোধী সিপিআইএমের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, বিভিন্ন এলাকায় তাদের মনোনীত প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। শাসকদল বিজেপি এবং মথার বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তুলেছে সিপিআইএম। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে শাসকদলের পক্ষ থেকে কোনও বক্তব্য এখানে উল্লেখ করা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে অভিযোগের প্রতিবাদে এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে সোমবার আগরতলার রাজপথে নামে সিপিআইএমের পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা কমিটি। দলের অভিযোগ, ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য বামফ্রন্ট প্রার্থীরা প্রস্তুতি নিলেও বেশ কিছু এলাকায় তাঁদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে দেওয়া হচ্ছে না।

এই অভিযোগকে সামনে রেখে সোমবার পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা শাসকের কার্যালয়ে গণডেপুটেশনের কর্মসূচি নেয় সিপিআইএম। এদিন আগরতলা মেলার মাঠ থেকে দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের একটি মিছিল বের হয়। বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে মিছিলটি পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা শাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে জমায়েত হয়। সেখানে আয়োজিত জমায়েতে দলীয় নেতৃত্ব ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাঁদের অভিযোগ ও দাবিগুলি তুলে ধরেন। পরে সিপিআইএম পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা কমিটির সম্পাদক রতন দাসের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল জেলাশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরে একটি স্মারকলিপিও প্রদান করা হয়। সিপিআইএমের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের রয়েছে। সেই অধিকার যাতে কোনওভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রশাসনের। মনোনয়নপত্র দাখিল থেকে শুরু করে ভোটগ্রহণ পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে যাতে প্রার্থীরা নিরাপদ পরিবেশ পান, সেই বিষয়েও প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন বলে দাবি করেছে দলটি।

এদিনের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আয়োজিত জনসমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন বাম নেতৃত্ব। সমাবেশে সিআইটিইউর রাজ্য সভাপতি মানিক দে, সম্পাদক শংকর প্রসাদ দত্ত, জনজাতি নেতৃত্ব রাধাচরণ দেববর্মা-সহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য রাখেন। বাম নেতৃত্বের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মাঠের বাইরে রাখার কোনও চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁদের দাবি, গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রেখে প্রত্যেক রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। একইসঙ্গে মনোনয়ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে যে সমস্ত বাধার অভিযোগ উঠেছে, সেগুলি প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যদিকে, ২৮ সেপ্টেম্বরের ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক তৎপরতা বেড়েছে। ব্লকে ব্লকে মনোনয়ন দাখিলের পাশাপাশি শুরু হয়েছে প্রচার ও নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণের প্রস্তুতি। এই পরিস্থিতিতে মনোনয়ন পর্বকে কেন্দ্র করে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ আগামী দিনে আরও কতটা রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি করে, সেটাই এখন দেখার। তবে সিপিআইএমের এই গণডেপুটেশনের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট, ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচন শুধু স্থানীয় স্তরের ভোট হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকছে না—এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে রাজ্যের বৃহত্তর রাজনৈতিক সমীকরণও। অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন শেষ পর্যন্ত কী ভূমিকা নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

three × one =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য