Saturday, April 18, 2026
বাড়িখবরশীর্ষ সংবাদঅবশেষে খোয়াই মহকুমার দুটি আসনেই বিশাল ভোটের ব্যবধানে জয়ী তিপ্রা মথা দ্বিতীয়...

অবশেষে খোয়াই মহকুমার দুটি আসনেই বিশাল ভোটের ব্যবধানে জয়ী তিপ্রা মথা দ্বিতীয় স্থানে বি জে পি: তৃতীয় স্থানে সি পি আই এম দল।

বাসুদেব ভট্টাচার্যী খোয়াই ১৭এপ্রিল…….এ ডি সি নির্বাচনের ফলাফলে খোয়াই মহকুমার দুটি আসনেই বিশাল ভোটের ব্যবধানে জয় করে নিল তিপরা মথা দলের দুই আসনের প্রার্থীরাএই ।দুটি আসনেই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বি জে পি,আর তৃতীয় স্থানে রয়েছে সি পি আই এম দলের প্রার্থীরা।৯ নং আসন আশারামবাড়ী ও হালাহালি কেন্দ্রের আসনে বিজয়ী হয়েছেন তিপ্রা মথা দলের প্রার্থী প্রশ্মিত দেববর্মা।তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বি জে পি দলের প্রার্থী অনন্ত দেববর্মাকে ১১হাজার ৬৬০ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।বিজিত প্রার্থী অনন্ত ববর্মা গত ২০২১ সালের নির্বাচনে এই আসন থেকে তিপ্রা মথা দলের প্রার্থী হয়ে এখান থেকে জয়ী হয়েছিলেন।পরে তিনি নির্বাহী সদস্যও হয়েছিলেন।কিন্তু সদ্য সমাপ্ত হওয়া এ ডি সি নির্বাচনের মুখে তিনি দলের সাথে সংশ্রব ছিন্ন করে বি জে পি দলে যোগ দিয়ে রাতারাতি প্রার্থী পদও লাভ করেন।এই আসনে এবার তৃতীয় স্থানে রয়েছেন সি পি আই এম দলের প্রার্থী করিম দেববর্মা। অন্যদিকে ১২ নং আসন রামচন্দ্রঘাট কেন্দ্রের আসনটিতেও জয়ী হন তিপরা মথা দলের প্রার্থী জেমস্ দেববর্মা।তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বি জে পি দলের প্রার্থী ডেভিড দেববর্মাকে ১৮হাজার ১৮৭ টি ভোটের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেন।এই আসনে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন সি পি আই এম দলের প্রার্থী সমরেশ দেববর্মা।এই দুটি আসনে ভোটপ্রাপ্তির সংক্ষা হল ৯ নং আসন আশারামবাড়ী ও হালাহালি কেন্দ্রের মোট প্রদত্ত ভোট ২৭৯২৬।তাতে
তিপ্রা মথা দলের প্রশ্মিত দেববর্মা পেয়েছে ১৭,৭৯৬টি ভোট বি জে পি দলের অনন্ত দেববর্মা পেয়েছে ৬,১৩৬টি ভোট
সি পি আই এম দলের প্রার্থী করিম দেববর্মা পেয়েছে ২৭৭১টি ভোট
আই পি এফ টি দলের প্রার্থী মনিময় দেববর্মা পেয়েছে ৬৮২টি ভোট কংগ্রেস দলের প্রার্থী প্রনব দেববর্মা পেয়েছে ২৭২টি ভোট
নির্দল প্রার্থী বীরমোহন দেববর্মা ভোট পান ৯৩টি এবং নোটায় ভোট যায়:১৭৬টি । এখানে উল্লেখ্য যে, এই আসনে পোস্টাল ভোট পড়েছে ২৭৮টি।এর মধ্যে তিপরা মথার প্রার্থীর পক্ষে গেছে ২২৬টি ভোট।বি জে পি প্রার্থী পেয়েছে ২২টি এবং সি পি আই এম প্রার্থীর পক্ষে যায় ২৬টি ভোট।এছাড়াও আই পি এফ টি প্রার্থী ২টি ও কংগ্রেস প্রার্থী ১টি ভোট পায়।১টি পোস্টাল ভোট পড়েছে নোটায়।
১২ নং আসন রামচন্দ্রঘাটের
মোট প্রদত্ত ভোট-২৫,৫৪৫টি।
তাতে জেমস্ দেববর্মা তিপ্রা মথা দলের হয়ে ভোট পায় ২০৮৩৭টি
ডেভিড দেববর্মা বি জে পি দলের হয়ে ভোট পায় ২৬৫০টি
সমরেশ দেববর্মা সি পি আই এম দলের হয়ে ভোট পায় ৯৩৪টি স্বপন দেববর্মা আই পি এফ টি দলের হয়ে ভোট পায় ৬৭৯টি
অমলেন দেববর্মা কংগ্রেস দলের প্রার্থী হয়ে ভোট পায় ২০৮টি
গৌতম দেববর্মা নির্দল প্রার্থী হিসেবে ভোট পায় ১২৬টি এবং
নোটায় ভোট পরে ১১১ টি।

এখানে উল্লেখ্য যে, এই আসনে প্রদত্ত বৈধ পোস্টাল ভোটের সংখ্যা ২৮৮টি।
তার মধ্যে ২৬১টি ভোট গেছে তিপরা মথার অনুকূলে।১৪টি ভোট গেছে বি জে পি দলের পক্ষে,৭টি ভোট পেয়েছে সি পি আই এম প্রার্থী,২টি ভোট পড়েছে নোটায়।এই হল খোয়াই মহকুমার দুটি আসনের ফলাফল।তবে এর জন্য খোয়াই মহকুমা প্রশাসনকে ব্যাপক ব্যাগ পেতে হয়েছে। দেখা গেছে ১২ নং আসন রামচন্দ্র ঘাট এলাকায় ভোট গণনা শুরুর এক ঘন্টার মাথায় কোন এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার বিজেপি দলের প্রার্থী ডেবিট দেববর্মার সাথে খোয়াই পদ্মবিল ব্লকের ভিডিও অমিত জমাতিয়ার সাথে বাক বিতন্ডা শুরু হয় ইনফ্লুয়েন্ছ করার জন্য শেষে রিটার্নিং অফিসার অমিত জমাতিয়াকে গণনা কেন্দ্র থেকে বের করে দেন। তাতে করে প্রায় ঘন্টা দেরেক ভোট গণনা স্থগিত থাকে। আর এই ঘটনার খবর প্রকাশ হতে তিপরা মথা দলের কর্মীরা উত্তেজিত হয় তিনটি বেরিকেড ভেঙ্গে খোয়াই জেলা শাসকের কার্যালয়ের সামনে চলে আসে। পরিচিত তখন এমন রূপ নেই যে জেলা প্রশাসনকে পরিস্থিতি সামলাতে ব্যাপক ব্যাগে পেতে হয়। মথা দলের কর্মীদের সাথে উপস্থিত ছিল তাদের এলাকার বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা উনাকে জেলাশাসক ও জেলা পুলিশ সুপার মিলে আশ্বস্ত করেন পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে উত্তেজিত না হওয়ার জন্য এরপর মথার সমর্থকরা শান্ত হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বসে পড়েন। অন্যদিকে রামচন্দ্র ঘাট আসনের গণনা কেন্দ্রের ভিতরে দফায় দফায় বাগবিতান্ডা শুরু হবার কারণে গননার কাজে বেশ কিছু সময় ব্যাঘাত ঘটে। তাতে সারা রাজ্যে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গণনা হলেও খোয়াই ছিল তার ব্যতিক্রম । সারা রাজ্যের চোখ ছিল খোয়াই মহকুমার দিকে। তবে সমস্ত ঘটনার সত্যতা যাচাই করে সির দ্বারা সোজা রেখে খোয়াই মহকুমার সাংবাদিকরা সমস্ত সত্য খবর প্রকাশ করে। যার ফলে সমস্ত দলগুলি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সমস্ত দিকটা সত্যভাবে বিচার করতে সক্ষম হয়। যার ফলে গণনা কেন্দ্রের বাইরের অস্থির পরিস্থিতিকে সামাল দিতে বেশিরভাগ অংশের কাজটা সাংবাদিকদেরই করেছিল । আর এই কথাটাই গণনা শেষে মহকুমা শাসক তথা রিটার্নিং অফিসার নির্মল কুমার ঝাঁ প্রেস মিটে অকপটে সাংবাদিকদের এই কাজের ব্যাপক প্রশংসা করেন। তিনি এও বলেন প্রশাসনের সাথে সাংবাদিকরা যদি পাশাপাশি না থাকতো বা পরিস্থিতির মোকাবেলায় এগিয়ে না আসতো তাহলে গননা কেন্দ্রের পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ রূপ নিতে পারতো বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি গণনা কেন্দ্র পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের অবদানকে তিনি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানান।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

five × five =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য