Monday, February 26, 2024
বাড়িখবরশীর্ষ সংবাদবামপন্থী শিক্ষক কর্মচারী আন্দোলনের বরিষ্ঠ নেতা প্রদীপ সরকারের জীবনাবসেন বামপন্থী আন্দোলনের পরিসমাপ্তি।...

বামপন্থী শিক্ষক কর্মচারী আন্দোলনের বরিষ্ঠ নেতা প্রদীপ সরকারের জীবনাবসেন বামপন্থী আন্দোলনের পরিসমাপ্তি। শোকের ছায়া সর্বস্তরে

খোয়াই প্রতিনিধি ২৭ শে সেপ্টেম্বর….. অবশেষে ত্রিপুরা রাজ্যের বামপন্থী শিক্ষক কর্মচারী আন্দোলনের প্রাক্তন অগ্রণী নেতা প্রদীপ সরকারের জীবনাবসান ঘটল মঙ্গলবার বিকেলে।এই দিন খোয়াইয়ের গণকীস্থিত নিজের বাড়ীতেই তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ।টি জি টি এ এইচ বি রোড এর কেন্দ্রীয় কমিটির প্রথম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি।এর আগে টি জি টি এর খোয়াই বিভাগীয় কমিটির ও সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন দীর্ঘদিন।মৃত্যুকালে ওনার বয়স হয়েছিল চুয়াত্তর বছর।রেখে গেছেন স্ত্রী এক ছেলে ও এক মেয়ে সহ অন্যান্য পরিবার পরিজনদের।গত মাসখানেক ধরে শারীরিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন প্রদীপ সরকার।জানা যায় ওনার শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দেয় কিছুদিন ধরে।পরে হৃদযন্রের সমস্যা ও ধরা পড়ে।খোয়াই গণকী স্থিত বাড়ীতেই চিকিৎসা চলছিল।চল্লিশ বছরেরও বেশী সময় ধরে শিক্ষকতা করেছেন প্রদীপ সরকার।২০০৭সালে চাকুরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন।শিক্ষকতা করেছেন কমলপুরের একাধিক স্কুলে চাকুরি জীবনের শুরুতে।এরপর খোয়াইয়ের গৌরাঙ্গটিলা হাই স্কুল, সোনাতলা হাই স্কুল, গণকী হাই স্কুলে চাকুরি করেন।পরে টি জি টি এ এইচ বি রোড এর কেন্দ্রীয় কমিটির প্রথম সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হলে বদলী হন আগরতলার জয়নগর এলাকায় বি আর আম্বেদকর হাই স্কুলে।এরপর সেখান থেকেই অবসর গ্রহণ করেন।রাজ্যের ঐতিহাসিক শিক্ষক কর্মচারী আন্দোলনের এক জীবন্ত কিংবদন্তি ছিলেন তিনি।ছিলেন এক সাহসী নির্ভিক ও অকুতোভয় ব্যাতিক্রমী ব্যাক্তিত্বে মানুষ।আপোষহীন যোদ্বা ছিলেন তিনি সারা জীবন।গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সামনের সারিতে থেকে লড়াই সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন।শিক্ষক কর্মচারীদের নায্য দাবী দাওয়া আদায়ে ছিলেন সর্বদাই সেচ্চার।তৎকালীন সময় শচীন্দ্র লাল সিংহ ও সুখময় সেনগুপ্তের জমানায় শিক্ষক কর্মচারীদের বিভিন্ন ধর্মঘটে অসিম সাহসিকতার সাথে অংশ নিয়েছিলেন।আজীবন ছিলেন আদ্যোপান্ত বামপন্থী।শত্রুর কাছে কখনো মাথা নত করেন নি তিনি।বুক চিতিয়ে লড়াই করেছেন অধিকার রক্ষার স্বার্থে।
প্রদীপ সরকার ১৯৭১সালে সি পি আই এম এর সদস্যপদ লাভ করেন।চাকুরি থেকে অবসর গ্রহণ করার পর পার্টির সব লড়াই সংগ্রামে ওত প্রোতভাবে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন।মৃত্যুর সময়েও ছিলেন পার্টির খোয়াই সুভাষপার্ক অঞ্চল কমিটির সদস্য।এছাড়াও ছিলেন গভর্নমেন্ট পেনশনারস অ্যাসোসিয়েশন অব ত্রিপুরার খোয়াই মহকুমা ইউনিটের সভাপতিও।প্রদীপ সরকার ছিলেন একজন প্রবীণ সাহিত্যসেবী।ছিলেন প্রাবন্ধিক, গল্পকার, সুলেখক ও সাহিত্যিক।ছিলেন উপন্যাসিকও।বেশ কয়েকটি গ্রন্থের রচয়িতা এছাড়া তিনি ছিলেন বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী উনার হাতের আঙ্গুলে ছিল জাদু শুধু তাই না এক সময় সারা রাজ্যে ঘুরে ঘুরে দেওয়াল লিখন লিখতেন তিনি।ভাষা প্রকাশনী থেকে ওনার বিভিন্ন বই প্রকাশিত হয়েছে।ত্রিপুরা সংস্কৃতি সমন্বয় কেন্দ্রের সাথেও যুক্ত ছিলেন।
২০১৮সালে সরকার পরিবর্তনের পর থেকে একাধিকবার গেরুয়া বাহিনীর আক্রমণের মুখে পড়লে ও ভয়ে নিজেকে ঘরবন্দি করে রাখেননি কোনদিন ।প্রতিদিন সকালে স্কুটার চালিয়ে পার্টির খোয়াই মহকুমা দপ্তরে এসে দুপুর পর্য্যন্ত কাটিয়েছেন পার্টি অফিসে।পরে শারীরিক অসুস্থতার জন্য স্কুটার চালাতে বারণ করেন পার্টির কর্মীরা।এর পরেও রিক্সা বা অটো এমনকি টমটমে চেপেও আসতেন পার্টি অফিসে।মাস কয়েক আগে বিছানায় শয্যাশায়ী হওয়ার আগেও প্রতিদিন আসতেন পার্টি অফিসে।প্রদীপ সরকারের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে পার্টির বিভিন্ন স্তরের নেতা কর্মীরা ঐদিন ছুটে যান গণকী স্থিত ওনার বাড়ীতে।অনেকেই খবর পেয়ে ভীড় জমান হাসপাতালে।সন্ধ্যায় মরদেহ নিয়ে আসা হয় পার্টির মহকুমা দপ্তরে।এখানে মরদেহ পার্টির পতাকায় আবৃত করেন সি পি আই এম এর মহকুমা সম্পাদক পদ্ম কুমার দেববর্মা ও জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আলয় রায়।মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন পদ্ম কুমার দেববর্মা, আলয় রায়, রাজ্য কমিটির সদস্য নির্মল বিশ্বাস, জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য পলাশ ভৌমিক, ডি ওয়াই এফ আই এর রাজ্য সম্পাদক নবারুণ দেব, টি জি টি এ এইচ বি রোড এর বিভাগীয় সম্পাদক দুলাল আচার্য্য , এস এফ আই এর বিভাগীয় সম্পাদক নারায়ন দাস, ডি ওয়াই এফ আই এর বিভাগীয় সম্পাদক গৌতম পাল, ক্ষেতমজুর ইউনিয়নের বিভাগীয় সম্পাদক নন্দলাল গোপ, কৃষক সভার বিভাগীয় সম্পাদক মনোজ দাস, টি ওয়াই এফ এর বিভাগীয় সভাপতি বীরেশ দেববর্মা, পেনশনারস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে প্রান্তি কুমার দেব ও কুমুদ দাস, তপশিলী সমন্বয়ের মহকুমা সম্পাদক উদয় কৃষ্ণ দাস, জি এম পি এর পক্ষে রবীন্দ্র দেববর্মা, নারী সমিতির পক্ষে নীলবানু বেগম, সংস্কৃতি সমন্বয় কেন্দ্রের পক্ষে অসীম দেব প্রমুখ।প্রদীপ সরকার ছিলেন সি পি আই এম এর তাত্বিক নেতা।মার্কসবাদ লেনিনবাদ গভীরভাবে আত্মস্থ করেছিলেন তিনি।সারা জীবন ওই আদর্শেরই অনুশীলন করেছেন এবং হৃদয়ে ধারণ করেছেন।তিনি সর্বদা সব ঘটনাকে মার্কসবাদ লেনিনবাদের ধারায় ব্যাখ্যা করতেন।
জানা যায় প্রদীপ সরকার মরণোত্তর দেহদান করে গেছেন।রাতেই পার্টির নেতা কর্মীরা সহ পাড়ার যুব কর্মীরা ও পরিবারের লোকজন তার মরদেহ নিয়ে আগরতলা সরকারী মেডিকেল কলেজের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে গেছেন।প্রদীপ সরকারের মৃত্যুতে সি পি আই এম এর খোয়াই মহকুমা কমিটি গভীর শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে।শোক প্রকাশ করেছে টি ই সি সি এইচ বি রোড, টি জি টি এ এইচ বি রোড এর খোয়াই বিভাগীয় কমিটিও।এছাড়াও শোক জানিয়েছে গভর্ণমেন্ট পেনশনারস অ্যাসোসিয়েশন অব ত্রিপুরার খোয়াই মহকুমা ইউনিটও।শোক প্রকাশ করেছে ত্রিপুরা সংস্কৃতি সমন্বয় কেন্দ্রের খোয়াই বিভাগীয় কমিটিও।প্রদীপ সরকার উনার সাহিত্যচর্চার জন্য রাজ্য সরকারের বিভিন্ন পুরষ্কারেও ভূষিত হয়েছিলেন। তবে বামফ্রন্টের এমন একজন কিংবদন্তি কর্মচারী নেতাকে হারিয়ে দলের যেমন অনেক ক্ষতি হয়েছে তেমনি দলটি আজ শোকোস্তব্ধ।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য