রাজ্যে পুর ও নগর সংস্থার নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি নির্বাচন দপ্তর। তবে খুব শীঘ্রই নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হতে পারে, এমন সম্ভাবনাকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাংগঠনিক তৎপরতা আরও জোরদার করতে মন্ত্রী, বিধায়ক ও জেলা নেতৃত্বকে নিয়ে বৈঠক করল প্রদেশ বিজেপি। বুধবার রাজ্য অতিথিশালায় প্রদেশ বিজেপি সভাপতি তথা বিধায়ক অভিষেক দেবরায়ের পৌরোহিত্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত ছিলেন অসম ও ত্রিপুরার সংগঠন মহামন্ত্রী রবীন্দ্র রাজুজী, রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, টিঙ্কু রায় ও সুধাংশু দাস-সহ সদর শহর ও গ্রামীণ জেলার বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্ব এবং জনপ্রতিনিধিরা। বৈঠকে আসন্ন পুর ও নগর সংস্থার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের সাংগঠনিক প্রস্তুতি, প্রচার পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এর আগের দিন মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে শাসক দলের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর বুধবারের এই বৈঠককে নির্বাচনী প্রস্তুতির ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
৩১ অক্টোবর আগরতলায় বিজেপির প্রতিবাদ মিছিল :-
বৈঠকে আগামী ৩১ অক্টোবর বিরোধীদের কথিত কার্যকলাপের প্রতিবাদে আগরতলায় মিছিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রদেশ বিজেপি সভাপতি অভিষেক দেবরায়। ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা বন্ধ করো’—এই স্লোগানকে সামনে রেখেই কর্মসূচি পালন করবে দল। বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দেবরায় অভিযোগ করেন, বিরোধীরা উস্কানি ও গুজব ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই ধরনের কার্যকলাপ চালানো হচ্ছে। এর প্রতিবাদ জানাতেই নিন্দা মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচিতে বহু মানুষের অংশগ্রহণের আশাও প্রকাশ করেন তিনি।
এসএআর ইস্যুতে বিরোধীদের নিশানা :-
এদিন এসএআর-এর মর্যাদা সংক্রান্ত দাবির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রদেশ বিজেপি সভাপতি। তাঁর দাবি, এই বিষয়টি মোট ১২ বার উত্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে কেন্দ্রে কংগ্রেসের শাসনকালে ১০ বার এবং ত্রিপুরায় সিপিএমের শাসনামলে একবার বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই ইস্যুতে পূর্ববর্তী সিপিএম সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি বিরোধীদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগও আনেন দেবরায়। রাজ্যে পুর ও নগর সংস্থার নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক নির্ঘণ্ট প্রকাশের অপেক্ষায় থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলির প্রস্তুতি যে ক্রমশ গতি পাচ্ছে, বিজেপির সাম্প্রতিক বৈঠক ও প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।



