সামনে দুর্গোৎসব। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবকে ঘিরে যখন রাজ্যজুড়ে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, তখনই অন্যদিকে বিভিন্ন এলাকায় চুরির ঘটনায় বাড়ছে উদ্বেগ। বাড়িঘর, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান কিংবা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান—বিভিন্ন জায়গায় চুরির অভিযোগ সামনে আসছে। এবার চোরের দাপট থেকে রেহাই মিলছে না গৃহপালিত পশুও। বিশেষ করে গরু চুরির ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে আগরতলা এনসিসি থানার অন্তর্গত পূর্ব চানমারি এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত দুই থেকে তিন মাস ধরে এলাকায় একের পর এক গরু চুরির ঘটনা ঘটছে। রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে চোরের দল বাড়ির গোয়ালঘর কিংবা আশপাশের এলাকা থেকে গরু নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। ফলে নিজেদের গৃহপালিত পশু রক্ষা করতে অনেকটাই আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বাসিন্দাদের দাবি, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে বাধ্য হয়ে রাত জেগে এলাকায় পাহারা দিতে হচ্ছে তাঁদের। একাংশ মানুষ পালা করে নৈশকালীন পাহারার ব্যবস্থা করলেও তাতেও পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না গরু চুরির ঘটনা বলে অভিযোগ।
স্থানীয়দের বক্তব্য, প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও গরু চুরির ঘটনা ঘটছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ তাঁদের। এর জেরে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পূর্ব চানমারির একাংশ বাসিন্দা। গো-পালনই বহু পরিবারের জীবিকা নির্বাহের অন্যতম অবলম্বন। ফলে একটি গরু হারানো মানে শুধু একটি গৃহপালিত পশু হারানো নয়, অনেক পরিবারের কাছে তা সরাসরি আর্থিক ক্ষতির কারণ। একের পর এক গরু চুরির ঘটনায় ইতিমধ্যেই বহু গো-পালক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। দুর্গাপূজার আগে চুরি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় এলাকায় উদ্বেগ আরও বাড়ছে। নিজেদের সম্পদ রক্ষায় রাত জেগে পাহারা দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে—এমন পরিস্থিতিতে পুলিশের আরও সক্রিয় ভূমিকার দাবি উঠেছে। পূর্ব চানমারি এলাকার বাসিন্দা ও ক্ষতিগ্রস্ত গো-পালকদের দাবি, দ্রুত গরু চুরির ঘটনাগুলির তদন্ত করে চক্রের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে হবে। পাশাপাশি এলাকায় রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করে চুরি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা। তবে গরু চুরির ঘটনাগুলিতে এখনও পর্যন্ত পুলিশি তদন্ত বা কোনও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি। স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না, এখন সেটাই দেখার।



