রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও আধুনিক ও জনমুখী করে তুলতে পরিকাঠামোগত উন্নয়নের ধারাবাহিক প্রয়াস অব্যাহত রেখেছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হল নবনির্মিত এডি নগর আরবান পলিক্লিনিকের। একই সঙ্গে ভার্চুয়াল মাধ্যমে বিভিন্ন আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দিরের অধীন স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির নবনির্মিত ভবনেরও উদ্বোধন করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে ক্যাম্পের বাজার আরবান পলিক্লিনিকে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই পরিকাঠামোগত প্রকল্পগুলির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডঃ মানিক সাহা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিধায়িকা মিনারানী সরকার, রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, জেলাশাসক ডক্টর বিশাল কুমার-সহ স্বাস্থ্য দপ্তর ও প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিক এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। নবনির্মিত পলিক্লিনিক ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য, সুলভ এবং মানসম্মত চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে প্রাথমিক ও স্থানীয় স্তরে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডঃ মানিক সাহা রাজ্যের বর্তমান স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রাজ্যের প্রতিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। স্বাস্থ্য পরিষেবার মান ও পরিকাঠামো উন্নত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতি আস্থাও বাড়ছে বলে দাবি করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, একটা সময় রাজ্যের মানুষ উন্নত চিকিৎসার জন্য বহিরাজ্যে যেতে বাধ্য হতেন। কিন্তু বর্তমানে রাজ্যের মধ্যেই বিভিন্ন ধরনের উন্নত চিকিৎসা পরিষেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে চিকিৎসার জন্য বহিরাজ্যে যাওয়ার প্রবণতা অনেকটাই কমেছে। রাজ্যের মানুষ যাতে চিকিৎসার জন্য আর অন্য রাজ্যে যেতে বাধ্য না হন, সেই প্রবণতাকে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানান প্রফেসর ডঃ মানিক সাহা। সেই লক্ষ্যেই রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার কাজ অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান। এদিনের উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট এলাকায়ও উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। নতুন পরিকাঠামোর মাধ্যমে আগামী দিনে স্থানীয় বাসিন্দারা আরও উন্নত ও সহজলভ্য স্বাস্থ্য পরিষেবা পাবেন—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট মহলের।



