দেশের শীর্ষ আদালতের নির্দেশে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে চলেছে এডিসি এলাকার ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচন। নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় রাজনৈতিক প্রচার তুঙ্গে। প্রচারের শেষ লগ্নে একে অপরকে টেক্কা দিতে জোরদার কর্মসূচি চালাচ্ছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। তবে এখনও পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারকে কেন্দ্র করে কোনও হিংসাত্মক ঘটনার খবর সামনে আসেনি। শান্তিপূর্ণভাবেই প্রচারপর্ব চলছে বলে জানা গেছে। এই আবহেই আসন্ন ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিজেপি, আইপিএফটি ও মথার জোটকে ফের নিশানা করলেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জোটের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে একাধিক অভিযোগ তোলেন। জিতেন্দ্র চৌধুরীর দাবি, বিজেপি, আইপিএফটি ও মথা বর্তমানে ‘দেউলিয়ার রাজনীতি’ করছে। একসময় যাদের গ্রামীণ এলাকার মানুষ ব্যাপকভাবে সমর্থন করেছিলেন, এবার নির্বাচনে সেই মানুষরাই তাঁদের জবাব দেবেন বলে দাবি করেন তিনি।
নির্বাচনী জোট প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা বলেন, নতুন করে মথা ও বিজেপির মধ্যে জোট হয়েছে। দিল্লিতে জোটের পর রাজ্যে এসে নেতারা একাধিক দফায় বৈঠক করলেও এখনও পর্যন্ত দুই দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী প্রচারে দেখা যাচ্ছে না বলে দাবি তাঁর। এমনকি নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও জোটের পক্ষ থেকে সরকারি কার্যালয় ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন জিতেন্দ্র চৌধুরী। তাঁর আরও দাবি, কিছু নেতৃত্বের ছবি বাজারে ছেড়ে দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। জোটের নেতারা কেন একসঙ্গে প্রচারে নামতে পারছেন না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, মথা ও বিজেপি নেতারা একসঙ্গে প্রচারে গেলে কাকে ভোট দেওয়ার আবেদন করবেন, তা নিয়েই তাঁদের মধ্যে সমস্যা রয়েছে। ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচনে আসন বণ্টন নিয়েও জোটের বিরুদ্ধে সরব হন বিরোধী দলনেতা। তাঁর অভিযোগ, মথা ও বিজেপি মিলে প্রায় অর্ধেক আসন ‘জবরদখল’ করেছে এবং অন্যদের মনোনয়নপত্র দাখিলের সুযোগ দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, যেসব আসনে ভোটগ্রহণ হতে চলেছে, তার প্রায় ৮০ শতাংশ আসনে বামপন্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বলে দাবি করেন তিনি। এদিন জিতেন্দ্র চৌধুরী আরও দাবি করেন, আসন্ন ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচনে রাজ্যের মানুষ পরিবর্তন চাইছেন। তাঁর কথায়, ত্রিপুরার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন একটি হাওয়া বইতে শুরু করেছে এবং নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর তার প্রতিফলন দেখা যাবে। তবে বিরোধী দলনেতার তোলা অভিযোগগুলির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিজেপি, আইপিএফটি ও মথার পক্ষ থেকে এদিন কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলির প্রচার যত শেষ পর্বের দিকে এগোচ্ছে, ততই এডিসি এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে।



