রাজধানী আগরতলা শহরে ফের অটো চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বাড়িঘর, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান কিংবা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান—এর পাশাপাশি এবার ব্যস্ত শহরের রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখা যানবাহনও যেন চোরেদের নিশানায়। একের পর এক অটো চুরির ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে। সম্প্রতি জনবহুল ভিআইপি এলাকা কৃষ্ণনগর থেকে টিএনজিসিএলের এক কর্মীর অটো চুরির ঘটনায় তদন্তে নেমে পুলিশ চুরি যাওয়া অটো উদ্ধার করে দুইজনকে আটক করেছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শহরে ফের অটো চুরির অভিযোগ উঠল। এবার ঘটনাস্থল একেবারে ফাঁড়ি থানার নাকের ডগায়। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল রাতে বটতলা মহাশ্মশানের সামনে। জানা গেছে, বটতলা এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় অটোচালক এক ব্যক্তি নিকট আত্মীয়ের শেষকৃত্যে যোগ দিতে বটতলা মহাশ্মশানে যান। সেই সময় তিনি নিজের অটোরিকশাটি রাস্তার পাশে রেখে শ্মশানের ভিতরে যান। শেষকৃত্যের কাজ শেষ করে বাইরে বেরিয়ে এসে তিনি দেখতে পান, যেখানে অটোটি রেখে গিয়েছিলেন সেখানে আর অটোটি নেই। মুহূর্তেই মাথায় হাত পড়ে অটোচালকের। আশপাশের এলাকায় দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজি করেও অটোর কোনও সন্ধান মেলেনি। পরে বিষয়টি জানানো হয় বটতলা আউটপোস্টে। এরপর পশ্চিম আগরতলা থানায় গিয়ে অটোচালক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
সবচেয়ে বড় বিষয়, চুরি যাওয়া অটোরিকশাটি ওই পরিবারের আয়ের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। প্রতিদিন অটো চালিয়েই সংসারের খরচ জোগাড় করেন তিনি। তার উপর ঋণ নিয়ে অটোরিকশাটি কিনেছিলেন ওই অটোচালক। প্রতি মাসে প্রায় সাত হাজার টাকা ঋণের কিস্তি দিতে হয় তাঁকে। অটোর আয়ের উপর নির্ভর করে সংসারের দৈনন্দিন খরচ চালানোর পাশাপাশি রয়েছে স্ত্রীর চিকিৎসার ব্যয়। ফলে আচমকা অটোরিকশাটি চুরি হয়ে যাওয়ায় কার্যত চরম আর্থিক সমস্যার মুখে পড়েছেন তিনি। অটো না থাকায় একদিকে যেমন রোজগার বন্ধ হয়ে গিয়েছে, অন্যদিকে ঋণের কিস্তি ও চিকিৎসার খরচ কীভাবে সামলাবেন, তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি। অটোচালকের দাবি, পুলিশ দ্রুত চুরি যাওয়া অটোরিকশাটি উদ্ধার করুক এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিক। একইসঙ্গে শহরে পরপর অটো চুরির ঘটনায় পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে পুলিশি নজরদারি আরও বাড়ানোরও দাবি উঠছে। এদিকে ঘটনার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত চুরি যাওয়া অটোর কোনও সন্ধান মেলেনি। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এখন দেখার বিষয়, অভিযোগের সূত্র ধরে চুরি যাওয়া অটোরিকশাটি কত দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হয় এবং এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের পুলিশ শনাক্ত করতে পারে কি না। আপাতত পুলিশের পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন অটোচালক ও তাঁর পরিবার।



