আসন্ন দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও বিভিন্ন শ্রেণির কর্মীদের জন্য উৎসব অগ্রিম এবং উৎসব অনুদান বাড়ানোর ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য এই সুবিধা ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডি-সহ বিভিন্ন শ্রেণির সরকারি কর্মীরা সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত উৎসব অগ্রিম পাবেন। পাশাপাশি অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও হোমগার্ডদের জন্য ৫ হাজার টাকা এবং আশা কর্মীদের জন্য ২ হাজার টাকা উৎসব অগ্রিম নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে প্রায় ১ লক্ষ কর্মচারী উপকৃত হবেন বলে জানা গেছে। দুর্গাপূজার আগে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা হিসেবে এই উৎসব অগ্রিম সরকারি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হয়ে উঠবে। শুধু উৎসব অগ্রিম নয়, এবার উৎসব অনুদানের পরিমাণও বৃদ্ধি করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় বিভিন্ন শ্রেণির কর্মীদের উৎসব অনুদান ৩০০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। গ্রুপ-সি, গ্রুপ-ডি, ডিআরডব্লিউ এবং পেনশনভোগীদের উৎসব অনুদান ২,১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২,৪০০ টাকা করা হয়েছে।
অন্যদিকে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, হোমগার্ড, এসপিও-সহ কয়েকটি শ্রেণির কর্মীদের উৎসব অনুদানের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ২,৬১০ টাকা। ফলে দুর্গাপূজার আগে বিভিন্ন শ্রেণির কর্মী ও পেনশনভোগীদের জন্য আর্থিক সুবিধার পরিমাণ বাড়ল। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, উৎসব অনুদানের জন্য রাজ্য সরকারের মোট ব্যয় হবে প্রায় ৪৭ কোটি ১৬ লক্ষ টাকা। এই সুবিধার আওতায় প্রায় ১ লক্ষ ৪৮ হাজার ৫০১ জন কর্মচারী এবং ৮৫ হাজার ৯১৬ জন পেনশনভোগী ও পারিবারিক পেনশনভোগী উপকৃত হবেন। এদিকে উৎসব অগ্রিম বাবদ রাজ্য সরকারের প্রায় ১৮৩ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা ব্যয় হবে বলে জানা গেছে। অর্থাৎ দুর্গাপূজার আগে একদিকে উৎসব অগ্রিম, অন্যদিকে বাড়তি উৎসব অনুদান—দুই ক্ষেত্রেই সরকারি কর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণির কর্মীদের জন্য আর্থিক সুবিধা বাড়াল রাজ্য সরকার। দুর্গাপূজার মরশুমে বাজার ও পারিবারিক খরচ সামলাতে এই অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা কর্মীদের জন্য কতটা সহায়ক হয়, এখন সেটাই দেখার।



