Wednesday, September 23, 2026
বাড়িখবররাজ্যথানার অদূরেই জুয়ার আসরের অভিযোগ, মানবজীবনে জুয়ার অভিশাপ নিয়েও উঠছে প্রশ্ন

থানার অদূরেই জুয়ার আসরের অভিযোগ, মানবজীবনে জুয়ার অভিশাপ নিয়েও উঠছে প্রশ্ন

জুয়া শুধু একটি বেআইনি কার্যকলাপ নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বহু পরিবারের আর্থিক অনিশ্চয়তা, পারিবারিক অশান্তি এবং সামাজিক অবক্ষয়ের অভিযোগ। রাতারাতি অর্থ উপার্জনের আশায় অনেকেই জুয়ার নেশায় জড়িয়ে পড়েন। এরপর ধীরে ধীরে সঞ্চয় হারানো থেকে শুরু করে ঋণের বোঝা, পারিবারিক অশান্তি এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন—বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই খোদ পূর্ব আগরতলা থানার অদূরে প্রকাশ্যে জুয়ার আসর বসার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। আগরতলার মোটরস্ট্যান্ড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট বোর্ডকে কেন্দ্র করে জুয়ার কারবার চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয় সূত্রের। স্থানীয়দের দাবি, পূর্ব আগরতলা থানার থেকে মাত্র কয়েকশো মিটার দূরে নিয়মিত এই জুয়ার আসর বসে। সূত্রের দাবি, ‘টিংকু’র বোর্ডকে কেন্দ্র করেই চলছে এই কথিত জুয়ার কার্যকলাপ। অভিযোগ, দিনের পর দিন এইভাবে জুয়ার আসর চললেও তা বন্ধ করার ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বিষয়টি থানার ওসিকে ফোনে জানানো হলেও প্রথমদিকে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ দেখা যায়নি। পরে বিষয়টি উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের জানানো হলে এলাকায় পুলিশি তৎপরতা শুরু হয় বলে দাবি সূত্রের।

পরবর্তীতে জুয়ার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনকে আটক করার চেষ্টা করা হলেও ঘটনাস্থল থেকে জুয়ার টাকা কিংবা কথিত বোর্ড উদ্ধার হয়নি বলে জানা গেছে। তবে কিছু সামগ্রী পুলিশ নিয়ে যায় বলে সূত্রের দাবি। জুয়ার আসরকে ঘিরে শুধু আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নই নয়, এর সামাজিক প্রভাব নিয়েও উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা। তাঁদের বক্তব্য, জুয়ার নেশায় জড়িয়ে পড়ে অনেক মানুষ উপার্জনের টাকা হারাচ্ছেন। কেউ কেউ ধারদেনায় জড়িয়ে পড়ছেন বলেও অভিযোগ। এর প্রভাব পড়ছে পরিবারের উপরও। সংসারে অশান্তি, অর্থনৈতিক সংকট এবং পারিবারিক সম্পর্কের অবনতির মতো সমস্যার পেছনে জুয়ার নেশা অনেক সময় বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে মনে করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে জনবহুল এলাকায় প্রকাশ্যে জুয়ার আসর বসলে নতুন প্রজন্মের উপরও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাঁদের। এলাকার তরুণদের জুয়ার প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে। তাই শুধু জুয়ার বোর্ড বন্ধ করাই নয়, এই ধরনের বেআইনি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত মূল ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

এদিকে, পূর্ব আগরতলা থানার ওসি কৃষ্ণধন সরকারের বিরুদ্ধে জুয়ার কারবারিদের কাছ থেকে নিয়মিত আর্থিক সুবিধা নেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তার কোনও স্বাধীন প্রমাণ এই মুহূর্তে পাওয়া যায়নি। ফলে এই অভিযোগকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার আগে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। ওসি বা পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, থানার এতটা কাছেই যদি দীর্ঘদিন ধরে জুয়ার আসর বসার অভিযোগ সত্যি হয়, তাহলে তা পুলিশের নজর এড়িয়ে গেল কীভাবে? অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন? আর যদি পুলিশি অভিযান হয়ে থাকে, তাহলে জুয়ার টাকা বা বোর্ড উদ্ধার হলো না কেন—এসব প্রশ্নের উত্তরও এখন খুঁজছে স্থানীয় মহল। জুয়া মানুষের জীবনে শুধু অর্থের ক্ষতি করে না, এর প্রভাব গিয়ে পড়তে পারে পরিবার, সামাজিক সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপরও। তাই এই ধরনের কার্যকলাপ বন্ধে পুলিশি নজরদারির পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এখন দেখার বিষয়, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ প্রশাসন কতটা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে এবং মোটরস্ট্যান্ড এলাকায় কথিত জুয়ার এই কারবারের সঙ্গে কারা যুক্ত, তা কতটা সামনে আসে। অভিযোগের সত্যতা এবং পুলিশের ভূমিকা—দুই বিষয়েই তদন্তের ফলাফলের দিকেই এখন নজর রয়েছে।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

12 − six =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য