রাজ্যের ৬০ ঊর্ধ্ব প্রবীণ নাগরিকদের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি পরিষেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে নানা ধরনের সমস্যা ও হয়রানির অভিযোগ তুলে তাঁদের সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানালেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন জানিয়ে তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডক্টর মানিক সাহাকে লিখিত চিঠি দিয়েছেন। রবিবার আগরতলার প্রদেশ কংগ্রেস ভবনে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে পাঠানো ওই চিঠির বিষয়বস্তু তুলে ধরেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। চিঠিতে আশীষ কুমার সাহা উল্লেখ করেন, রাজ্যের বহু প্রবীণ নাগরিক তাঁদের প্রাপ্য বিভিন্ন অধিকার ও সরকারি পরিষেবা সহজে গ্রহণ করতে পারছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে জীবনধারণের বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাজ্যের একটি বড় অংশের মানুষ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আদিবাসী ও মহিলাদের মধ্যেও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পরিষেবা পেতে সমস্যা ও হয়রানির ঘটনা রয়েছে।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির দাবি, ভারত সরকারের প্রচলিত নিয়ম ও ব্যবস্থার আওতায় এই সমস্যাগুলির অনেকটাই সহজে সমাধান করা সম্ভব। তাই রাজ্য সরকার যাতে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে দ্রুত ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়, সেই আবেদন জানানো হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। চিঠিতে ৬০ ঊর্ধ্ব সমস্ত প্রবীণ নাগরিককে উপযুক্ত সরকারি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে একটি সচিত্র পরিচয়পত্র দেওয়ার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। তাঁর মতে, এই ধরনের পরিচয়পত্র থাকলে প্রবীণ নাগরিকদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এর মধ্যে ডাকঘর ও ব্যাংকে স্থায়ী আমানতসহ অন্যান্য জমাকৃত অর্থের ক্ষেত্রে বিশেষ সুদের সুবিধা, নির্দিষ্ট পরিমাণ আয় পর্যন্ত কর বা আয় সংক্রান্ত ছাড়, রেল, বিমান এবং অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি পরিবহনে যাত্রী ভাড়ায় ছাড় দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবায় বিশেষ ছাড় এবং বৃদ্ধাশ্রম বা প্রবীণ সেবা কেন্দ্রগুলিতে ন্যূনতম খরচে থাকার সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও চিঠিতে প্রস্তাব রাখা হয়েছে বলে জানান আশীষ কুমার সাহা।
প্রস্তাবিত প্রবীণ নাগরিক পরিচয়পত্র প্রদানের ক্ষেত্রে বয়সের প্রমাণপত্র, দেশের বৈধ নাগরিকত্বের স্বীকৃত প্রমাণপত্র এবং রাজ্যে বসবাসের স্বীকৃত প্রমাণপত্রকে বিবেচনায় রাখা যেতে পারে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির বক্তব্য, বয়সের কারণে যাতে কোনও প্রবীণ নাগরিক সরকারি পরিষেবা বা তাঁদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে। এখন মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব নিয়ে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকেই নজর থাকবে প্রবীণ নাগরিকদের।



