Sunday, September 20, 2026
বাড়িখবররাজ্যনাবালিকা অপহরণের অভিযোগ পুলিশের অভিযানের আগেই মেয়েটিকে নিয়ে জঙ্গলে পালাল অভিযুক্ত, তল্লাশি...

নাবালিকা অপহরণের অভিযোগ পুলিশের অভিযানের আগেই মেয়েটিকে নিয়ে জঙ্গলে পালাল অভিযুক্ত, তল্লাশি চালিয়েও মেলেনি হদিশ

নাবালিকা অপহরণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার তদন্তে এবার অভিযুক্তের বাড়িতে অভিযান চালাল আমতলী থানার পুলিশ। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নাবালিকা মেয়েটিকে সঙ্গে নিয়ে গভীর জঙ্গলের দিকে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত যুবক বলে অভিযোগ। দীর্ঘক্ষণ ধরে এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালিয়েও শেষ পর্যন্ত অভিযুক্ত ও নাবালিকার কোনও সন্ধান পায়নি পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে তেলিয়ামুড়া থানার অন্তর্গত খাশিয়ামঙ্গল দয়ারামপাড়া এলাকায়। জানা গেছে, প্রায় ১০ দিন আগে আমতলী থানার অন্তর্গত কাঞ্চনমালা এলাকার ১৪ বছরের এক নাবালিকা মেয়েকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করার অভিযোগ ওঠে তেলিয়ামুড়া থানা এলাকার খাশিয়ামঙ্গল দয়ারামপাড়ার বাসিন্দা রবি দেববর্মার ছেলে জনি দেববর্মার বিরুদ্ধে। ঘটনার পর নাবালিকার বাবা আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত জনি দেববর্মার বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা দায়ের করা হয় বলে জানা গেছে। এরপর থেকেই নাবালিকাকে উদ্ধার এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য তৎপর হয় আমতলী থানার পুলিশ।

এরই মধ্যে রবিবার বিকেলে গোপন সূত্রে অভিযুক্তের অবস্থান সম্পর্কে খবর পায় পুলিশ। সেই খবরের ভিত্তিতে আমতলী থানার পুলিশ তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশের সহযোগিতায় খাশিয়ামঙ্গল দয়ারামপাড়ায় অভিযুক্তের বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযোগ, পুলিশের গাড়ি দূর থেকে দেখতে পেয়েই জনি দেববর্মা নাবালিকা মেয়েটিকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গভীর জঙ্গলের দিকে পালিয়ে যায়। পুলিশও সঙ্গে সঙ্গে তাদের ধরতে এবং নাবালিকাকে উদ্ধারের জন্য আশপাশের এলাকায় তল্লাশি শুরু করে। দীর্ঘক্ষণ ধরে জঙ্গল ও সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালানো হলেও অভিযুক্ত যুবক ও নাবালিকার কোনও সন্ধান মেলেনি। ফলে শেষ পর্যন্ত তাদের উদ্ধার না করেই অভিযান শেষ করতে হয় পুলিশকে। এদিনের অভিযানে নেতৃত্ব দেন আমতলী থানার অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর গোপাল দাস। অভিযুক্ত ও নাবালিকার সন্ধান না পাওয়ার পর অভিযুক্তের মা-বাবার সঙ্গেও কথা বলে পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়, ছেলে নাবালিকাকে নিয়ে আত্মগোপনে রয়েছে বলে জানা সত্ত্বেও তাঁরা কেন বিষয়টি পুলিশকে জানাননি। তবে পুলিশের এই প্রশ্নের সন্তোষজনক কোনও জবাব দিতে পারেননি বলে জানা গেছে অভিযুক্ত জনি দেববর্মার মা-বাবা। এদিন সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে অভিযুক্তের মা ঘটনাটি সম্পর্কে কথা বলেন এবং ছেলের সঙ্গে নাবালিকা থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন বলে জানা গেছে। এদিকে ঘটনার পর নাবালিকার পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। দ্রুত নাবালিকাকে উদ্ধার এবং অভিযুক্ত জনি দেববর্মাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। একই দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও। নাবালিকার পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি, পুলিশ যেন দ্রুত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং নাবালিকাকে নিরাপদে উদ্ধার করে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করে। অন্যদিকে অভিযুক্ত ও নাবালিকার সন্ধানে পুলিশের তল্লাশি ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

eleven + twelve =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য