নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, বেকারদের কর্মসংস্থান, শ্রমজীবী মানুষের কাজের সংকট এবং রাজ্যের বেহাল রাস্তাঘাট—একাধিক বিষয়কে সামনে রেখে রবিবার আগরতলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করল আমরা বাঙালি দল। সরকারি ছুটির দিনে শিবনগর এলাকায় দলের রাজ্য কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। দলের দাবি, একদিকে বাজারে প্রতিদিনই বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম, অন্যদিকে কাজের অভাবে সমস্যায় পড়ছেন শ্রমজীবী মানুষের একটি অংশ। একইসঙ্গে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বহু বেকার যুবক-যুবতী কর্মসংস্থানের দাবিতে আন্দোলনে নামছেন। কিন্তু তাঁদের সমস্যার সমাধানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথেষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ দলটির। এদিনের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন আমরা বাঙালি দলের রাজ্য সচিব গৌরাঙ্গ রুদ্রপাল। কর্মসূচিতে দলের কর্মী-সমর্থকরা বিভিন্ন দাবির সমর্থনে স্লোগান দেন। আন্দোলন কর্মসূচির নেতৃত্ব দিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে গৌরাঙ্গ রুদ্রপাল রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, শ্রমজীবী মানুষ কাজের সন্ধানে দিশাহারা হয়ে পড়লেও তাঁদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে না। অন্যদিকে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে।
গৌরাঙ্গ রুদ্রপালের অভিযোগ, বাজারদর নিয়ন্ত্রণে রাখার দায়িত্ব সরকারের হলেও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধে প্রশাসনের তেমন কোনও কার্যকর তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। এর ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় চাপ বাড়ছে বলে দাবি করেন তিনি। বেকারত্বের বিষয়টিও এদিনের আন্দোলনে বিশেষ গুরুত্ব পায়। দলের রাজ্য সচিবের দাবি, চাকরির দাবিতে প্রতিদিনই বেকার যুবক-যুবতীদের রাস্তায় নামতে হচ্ছে। তাঁদের অভিযোগের সুরাহা না করে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে পিআরটিসি বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় রাজ্যের যুবক-যুবতীরা বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এর পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার বেহাল রাস্তাঘাট নিয়েও সরব হয় আমরা বাঙালি। দলের অভিযোগ, বহু রাস্তার অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে খারাপ। সরকার পুজোর আগেই বেহাল রাস্তাঘাট সংস্কারের কথা বললেও বাস্তবে তা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বলে মন্তব্য করেন গৌরাঙ্গ রুদ্রপাল। এদিনের বিক্ষোভ থেকে আমরা বাঙালির পক্ষ থেকে বেকারদের কর্মসংস্থান, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর মূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত বেহাল রাস্তাঘাট সংস্কার-সহ সাধারণ মানুষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দাবিতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। দলের বক্তব্য, মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা ও জরুরি দাবিগুলির সমাধানে প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনেও এই ধরনের আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।



