সামাজিক মাধ্যমে রাজনৈতিক নেতাদের ছবি ব্যবহার করে আপত্তিকর মিম তৈরি এবং তা ছড়িয়ে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার, বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী এবং যুব আন্দোলনের নেতৃত্ব নবারুণ দেবকে এক মহিলার সঙ্গে জড়িয়ে বিভিন্ন ধরনের মিম সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নজরে আসার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে পুলিশের দ্বারস্থ হলেন বাম যুব আন্দোলনের নেতৃত্ব জয়দেব রাউত। সোমবার নিজের অনুগামীদের সঙ্গে নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে পশ্চিম আগরতলা থানায় গিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
জয়দেব রাউতের অভিযোগ, একটি মহিলার সঙ্গে বামপন্থী রাজনৈতিক নেতৃত্বের ছবি ব্যবহার করে অশ্লীল ও আপত্তিকর মিম তৈরি করা হচ্ছে। এরপর সেই মিম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতা ও যুব নেতৃত্বের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সোমবার থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিষয়টি নিয়ে সরব হন যুবনেতা জয়দেব রাউত। তাঁর দাবি, গত কয়েকদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে এই ধরনের মিম ও পোস্ট সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অভিযোগে জয়দেব রাউত উত্তর বল্লভপুরের রাহুল পাল, খোয়াই চেবরী বাজারের লিটন রায় এবং আমতলীর দীপঙ্কর চক্রবর্তীর নাম উল্লেখ করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের কাছে দাবি জানিয়েছেন তিনি।
যুবনেতার বক্তব্য, এই ধরনের কর্মকাণ্ড কোনও সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিচয় নয়। তাঁর মতে, ব্যক্তিগত আক্রমণ, কুৎসা ও সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচারের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হেয় করার চেষ্টা আসলে এক ধরনের অস্থির মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েই একাংশ ব্যক্তি ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অপপ্রচারের পথ বেছে নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন জয়দেব রাউত। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরোধিতা থাকতেই পারে, কিন্তু তার জন্য ব্যক্তিগত জীবনকে টেনে এনে অশ্লীলতা বা কুৎসা ছড়ানো কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এদিন তিনি আরও অভিযোগ করেন, সামাজিক মাধ্যমে এই ধরনের অপপ্রচারের সঙ্গে শাসক দলের ঘনিষ্ঠ মহলের যোগ থাকতে পারে। তাঁর দাবি, যারা এই ধরনের প্রচার চালাচ্ছে, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে সাধারণ মানুষের অজানা নয়। তবে এই অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এখনও নিশ্চিত হয়নি এবং বিষয়টি পুলিশের তদন্তের বিষয়। জয়দেব রাউতের দাবি, সামাজিক মাধ্যমকে ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক নেতাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে আপত্তিকর মিম তৈরি ও প্রচারের সঙ্গে কারা জড়িত, সেই বিষয়ে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্ট ও মিমগুলির উৎস, সেগুলি কারা তৈরি করেছে এবং কারা প্রচার করেছে—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আসতে পারে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে রাজনৈতিক মতবিরোধ প্রকাশের ক্ষেত্রে সীমারেখা কোথায় থাকা উচিত এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ ও কুৎসার বিরুদ্ধে আইন কতটা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যায়—সেই প্রশ্নও নতুন করে সামনে এসেছে।



