Monday, September 7, 2026
বাড়িখবররাজ্যভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচনের আগে শালবাগানে অস্ত্র উদ্ধার, দুই যুবক গ্রেপ্তার

ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচনের আগে শালবাগানে অস্ত্র উদ্ধার, দুই যুবক গ্রেপ্তার

সামনেই রাজ্যের ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচন। নির্বাচনকে ঘিরে যখন রাজনৈতিক দলগুলির তৎপরতা ক্রমশ বাড়ছে, ঠিক সেই সময় রাজধানীর উপকণ্ঠে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সাম্প্রতিক সময়ে অস্ত্রের ঝলকানি নিয়ে যখন উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বিভিন্ন মহল, তখন খোয়াই থেকে আগরতলার দিকে আসার পথে শালবাগান বিএসএফ ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করল পুলিশ ও আসাম রাইফেলসের যৌথ বাহিনী। জানা গেছে, গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল রাতে শালবাগান বিএসএফ ক্যাম্প এলাকায় যৌথভাবে অভিযান চালায় নিউ ক্যাপিটাল কমপ্লেক্স থানার পুলিশ এবং আসাম রাইফেলস। অভিযানে দুই যুবককে আটক করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় দুটি নাইন এমএম পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন এবং গুলি। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত দুই যুবকই বিহারের বাসিন্দা। তাঁদের মধ্যে একজন বৈশাখী জেলার সরোজ কুমার এবং অপরজন রামচি জেলার শ্রীকান্ত কুমার বলে পুলিশ জানিয়েছে। খোয়াই থেকে আগরতলার দিকে আসার সময় তাঁদের গতিবিধির উপর নজর রেখে অভিযান চালানো হয় বলে জানা গেছে।

সোমবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ঘটনার বিস্তারিত জানান এনসিসি থানার এসডিপিও সুব্রত বর্মন। তিনি জানান, গোপন সূত্রে অস্ত্র নিয়ে দুই যুবক আগরতলার দিকে আসছে বলে খবর পাওয়া যায়। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ ও আসাম রাইফেলসের পক্ষ থেকে যৌথ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ধৃতদের কাছ থেকে দুটি নাইন এমএম পিস্তল এবং তিনটি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গুলিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ধৃত দুই যুবক কী উদ্দেশ্যে এই অস্ত্র নিয়ে রাজ্যে প্রবেশ করেছিল, কোথা থেকে অস্ত্রগুলি সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং এগুলি কোথায় সরবরাহ করার পরিকল্পনা ছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ধৃত দুই যুবক অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। তবে এই অনুমান এখনও তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে। তাঁদের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, অস্ত্র সরবরাহের পিছনে কোনও বড় চক্র কাজ করছে কি না, কিংবা রাজ্যের কোথাও এই অস্ত্র পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সামনে ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচন থাকায় এই অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলেও গুরুত্ব পাচ্ছে। নির্বাচনের আগে অস্ত্রের অবৈধ প্রবেশ বা সরবরাহের সঙ্গে এই ঘটনার কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেই বিষয়টিও তদন্তে উঠে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে, অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় ধৃত দুই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের উৎস এবং সম্ভাব্য গন্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে তদন্তকারীরা কাজ শুরু করেছেন। এসডিপিও সুব্রত বর্মন জানান, ধৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং সোমবার তাঁদের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পেশ করা হবে। পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হলে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচনের আগে এই অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়া যাতে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, তার আগে অবৈধ অস্ত্রের উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করা এখন পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

eighteen − 6 =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য