আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও রাজ্যের একমাত্র সরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠান জুট মিল কর্তৃপক্ষ শ্রমিক, কর্মচারী ও পেনশনারদের বিভিন্ন দাবি এখনও সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করেনি—এমন অভিযোগ তুলে ফের আন্দোলনে নামলেন জুট মিলের শ্রমিক-কর্মচারী ও পেনশনাররা। নিজেদের ন্যায্য প্রাপ্য আদায়ের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে আসছেন তাঁরা। এই দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে এরিয়ার প্রাপকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা অবিলম্বে প্রকাশ করা, এরিয়া পেমেন্টের পর প্রাপকদের নামের তালিকা প্রকাশ, সার্ভিস ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট বিতরণের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা এবং আদালতের রায় অনুযায়ী চতুর্থ পে কমিশনের ভিত্তিতে ছুটি বিক্রির প্রাপ্য অর্থ প্রদান। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী মঙ্গলবার আগরতলায় কেন্দ্রীয় পিএফ কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে গণধরনায় বসে ত্রিপুরা চটকল শ্রমিক ইউনিয়ন। জয়েন্ট মুভমেন্ট কমিটির সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সংগঠনের সদস্যদের পাশাপাশি জুট মিলের শ্রমিক, কর্মচারী ও পেনশনাররাও অংশ নেন।
ধরনা কর্মসূচি থেকে আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাঁদের বিভিন্ন পাওনা মিটিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও এখনও বহু শ্রমিক ও পেনশনার তাঁদের ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। বিষয়গুলি দ্রুত সমাধানের জন্য একাধিকবার স্মারকলিপি ও ডেপুটেশনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ তাঁদের। ধরনা চলাকালীন সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জুট মিল কর্তৃপক্ষ হলফনামা দাখিলের পর ‘ফার্স্ট কাম, ফার্স্ট সার্ভ’ পদ্ধতিতে প্রাপ্য অর্থ প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সংগঠনের দাবি, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৯০ শতাংশ প্রাপকের আংশিক পাওনা মেটানো হয়েছে। তবে এর পরেও অনেক শ্রমিক ও পেনশনার তাঁদের সম্পূর্ণ ন্যায্য পাওনা পাননি। এদিন ধরনা মঞ্চ থেকে সংগঠনের সম্পাদক তথা কনভেনার ধন মনি সিংহ এবং সভাপতি তরুণ চক্রবর্তী বক্তব্য রাখেন। তাঁরা অভিযোগ করেন, জুট মিল কর্তৃপক্ষ এবং ইপিএফ কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার বিষয়গুলি তুলে ধরা হলেও নানা কারণে তা দীর্ঘসূত্রিতার মধ্যে আটকে রয়েছে।
পরে সংগঠনের একটি প্রতিনিধি দল তাঁদের দাবিসংবলিত স্মারকলিপি নিয়ে পিএফ কমিশনারের কার্যালয়ে যায়। তবে আগাম কর্মসূচির কথা জানানো সত্ত্বেও প্রশাসনিক কাজে রাজ্যের বাইরে থাকায় পিএফ কমিশনারের সঙ্গে এদিন সাক্ষাৎ সম্ভব হয়নি বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এরপর আগামী ৩ সেপ্টেম্বর ডেপুটেশনের তারিখ উল্লেখ করে একটি পত্র ইপিএফ দপ্তরে জমা দেওয়া হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত দিনে আবারও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দাবিগুলি তুলে ধরা হবে। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, শ্রমিক-কর্মচারী ও পেনশনারদের ন্যায্য পাওনা এবং আদালতের নির্দেশ সম্পূর্ণভাবে কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন থামবে না। দাবি পূরণে দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।



