রোড পারমিটের নিয়ম দেখিয়ে আগরতলা শহরে ই-রিকশার বিরুদ্ধে ট্রাফিক পুলিশের বিশেষ অভিযান নিয়ে এবার সরব হল শাসকদল ঘনিষ্ঠ ই-রিকশা শ্রমিক সংগঠন। ট্রাফিক পুলিশের অভিযানে শ্রমিকদের হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ তুলে ১১ দফা দাবি সামনে রেখে সোমবার রাজপথে মিছিল করল ত্রিপুরা ইলেকট্রনিক রিকশা শ্রমিক সংঘের প্রদেশ কমিটি। গত বেশ কিছুদিন ধরেই আগরতলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় রোড পারমিটের বাইরে ই-রিকশা চলাচলের অভিযোগে অভিযান চালাচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ। অভিযানে একাধিক ই-রিকশা আটক করা হচ্ছে বলে অভিযোগ শ্রমিকদের। এর ফলে রুজি-রোজগার নিয়ে সমস্যায় পড়ছেন ই-রিকশা চালকরা। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে আন্দোলন ও ডেপুটেশন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
এবার একই ইস্যুতে পথে নামল ত্রিপুরা ইলেকট্রনিক রিকশা শ্রমিক সংঘ প্রদেশ কমিটি। সংগঠনের অভিযোগ, পরিবহন দপ্তর এবং বিভিন্ন শোরুম কর্তৃপক্ষের ভুল বা অসম্পূর্ণ নথিপত্রের কারণে ই-রিকশা চালকদের প্রতিনিয়ত সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। নথিপত্র সংক্রান্ত ত্রুটির দায় শ্রমিকদের ওপর চাপিয়ে ট্রাফিক পুলিশের হাতে তাঁদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ সংগঠনের। সোমবার আগরতলার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবন প্রাঙ্গণ থেকে ই-রিকশা শ্রমিকদের একটি মিছিল বের হয়। ১১ দফা দাবি সম্বলিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে সংগঠনের সদস্যরা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পরিক্রমা করেন। পরে মিছিলটি জেলাশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে জমায়েত হয়। এরপর সংগঠনের একটি প্রতিনিধি দল জেলাশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে জেলাশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। সেখানে ই-রিকশা শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির কথা তুলে ধরে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন সংগঠনের নেতা অসীম দত্ত।
মিছিল শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অসীম দত্ত অভিযোগ করেন, বিভিন্ন অজুহাতে ট্রাফিক পুলিশ ই-রিকশা চালকদের আটক করে হয়রানি করছে। বিশেষ করে পঞ্চায়েত এলাকার ই-রিকশা শহরে চলাচল করছে—এই অভিযোগে অনেক চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে শ্রমিকদের আয়-রোজগার ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তাঁরা আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়ছেন বলে দাবি করেন তিনি। সংগঠনের পক্ষ থেকে ই-রিকশা শ্রমিকদের নথিপত্র সংক্রান্ত সমস্যা দ্রুত সমাধান, অযথা হয়রানি বন্ধ, রোড পারমিটের বিষয়টি স্বচ্ছ করা এবং শ্রমিকদের স্বার্থে প্রশাসনিক জটিলতা দূর করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি শ্রমিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট আরও বেশ কয়েকটি দাবি স্মারকলিপিতে তুলে ধরা হয়েছে। সংগঠনের বক্তব্য, যানজট নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করতে তাঁরা প্রস্তুত। তবে নিয়মের নামে শ্রমিকদের অযথা হয়রানি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। প্রশাসন দ্রুত দাবিগুলি নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে আগামী দিনে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনের নেতৃত্ব।



