রাজধানী আগরতলায় যেন অব্যাহত রয়েছে চোর-পুলিশের লড়াই। একদিকে পুলিশের নজরদারি এড়িয়ে নির্জনতার সুযোগ নিয়ে একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে চোরচক্র। অন্যদিকে অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নেমে চুরি যাওয়া সামগ্রী উদ্ধার করে অভিযুক্তদের জালে তুলতে তৎপর পুলিশ। ফের এমনই সাফল্য মিলল পশ্চিম আগরতলা থানার পুলিশের অভিযানে। চুরির একাধিক অভিযোগের তদন্তে নেমে পশ্চিম আগরতলা থানা ও দুর্গা চৌমুহনী আউটপোস্টের পুলিশ চুরি যাওয়া সামগ্রীসহ তিনজনকে আটক করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি রাধানগর এলাকার একটি দোকান থেকে বেশ কিছু শাড়ি চুরি যায়। পাশাপাশি গত রবিবার রাতে বুদ্ধমন্দির সংলগ্ন এমএলএ হোস্টেল এলাকার বাসিন্দা মৃদুল মোদকের বাড়ির সামনে থাকা একটি দোকান থেকেও তেলসহ বিভিন্ন সামগ্রী এবং একটি স্কুটি চুরি করে নিয়ে যায় চোরের দল। পরপর চুরির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পশ্চিম আগরতলা থানার পুলিশ। বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে গিয়ে প্রথমে এক যুবককে আটক করা হয়।
পুলিশের দাবি, আটক যুবকের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে চুরি যাওয়া বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। এর পাশাপাশি তার কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন এবং দুটি গ্যাস সিলিন্ডারও উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীগুলি শহরের বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত চুরির ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এরপর আটক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ আরও দুজনের সন্ধান পায়। পরবর্তী সময়ে তাদেরও আটক করা হয়। ফলে এখনও পর্যন্ত এই চুরির ঘটনায় মোট তিনজনকে পুলিশের জালে তোলা সম্ভব হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে শহরে সংঘটিত আরও বেশ কয়েকটি চুরির ঘটনার কিনারা হতে পারে। চুরি চক্রের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কি না এবং তাদের কাছ থেকে আরও চুরি যাওয়া সামগ্রী উদ্ধার করা সম্ভব কি না, সেই বিষয়েও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। মঙ্গলবার প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তিন ধৃতকেই পুলিশ রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পেশ করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চুরি চক্রের অন্যান্য সদস্যদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর প্রকৃত মালিকদেরও শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের মুখোমুখি হয়ে পশ্চিম আগরতলা থানার ওসি সঞ্জিত সেন পুলিশের এই সাফল্যের কথা জানান। শহরে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক চুরির ঘটনা সামনে আসায় পুলিশের এই অভিযানকে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে শহরের আরও কতগুলি চুরির ঘটনার রহস্য সামনে আসে, সেদিকেই নজর।
Top of Form



