কচিকাঁচাদের প্রাথমিক শিক্ষা ও পুষ্টি পরিষেবা দেওয়ার পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কর্মী ও সহায়িকারা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কাজের তুলনায় তাঁদের পারিশ্রমিক অপ্রতুল এবং নানা সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে তাঁরা বঞ্চিত বলে অভিযোগ। একাধিকবার দাবি জানিয়ে আন্দোলনে নামলেও এখনও পর্যন্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে দাবি তাঁদের। সমকাজে সমবেতন, অন্যান্য সরকারি কর্মচারীদের মতো সুযোগ-সুবিধা প্রদান, চাকরিতে নিয়মিতকরণ-সহ একাধিক দাবিতে এবার ফের রাস্তায় নামলেন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকারা। বৃহস্পতিবার ত্রিপুরা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকা ঐক্য সমিতির উদ্যোগে আগরতলার অভয়নগরস্থিত সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে দপ্তর ও সরকারের কাছে জানানো হলেও কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বারবার আশ্বাস মিললেও বাস্তবে সেই অনুযায়ী কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়েই তাঁরা ফের আন্দোলনের পথে নেমেছেন। প্রথমে দপ্তরের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখান কর্মী ও সহায়িকারা। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ চললেও দপ্তরের পক্ষ থেকে তেমন কোনও সাড়া না মেলায় ক্ষোভ আরও বাড়তে থাকে। এরপর বাধ্য হয়ে অভয়নগর-জিবি সড়কে বসে পড়েন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের সড়ক অবরোধের জেরে কিছু সময়ের জন্য ব্যাহত হয় যান চলাচল। চরম দুর্ভোগে পড়েন যানচালক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকরা। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের দাবিগুলি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়। সেই আশ্বাসের পর আপাতত সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকারা। আন্দোলনকারীদের মূল দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে চাকরিতে নিয়মিতকরণ, অন্যান্য সরকারি কর্মচারীদের মতো সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রদান এবং সমকাজে সমবেতন নিশ্চিত করা। তাঁদের বক্তব্য, শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা, পুষ্টি ও বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকলেও তাঁদের প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। দাবিগুলি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকারের কাছে ফের আবেদন জানান আন্দোলনকারীরা। অন্যথায় আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন ত্রিপুরা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকা ঐক্য সমিতির কর্মী-সহায়িকারা।



