ত্রিপুরার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অন্যতম স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মাণিক্য বাহাদুরের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার আগরতলার প্রজ্ঞা ভবনে আয়োজন করা হয় এক বিশেষ অনুষ্ঠানের। মহারাজার জীবন, কর্ম ও ত্রিপুরার উন্নয়নে তাঁর অবদানকে স্মরণ করার পাশাপাশি এদিন উপজাতি ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাক্ষেত্রে উৎসাহিত করতে একাধিক কর্মসূচির সূচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের উপজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজাতি কল্যাণ দপ্তরের সচিব ড. কে. শশী কুমার সাহা, দপ্তরের অধিকর্তা সহ অন্যান্য আধিকারিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। এদিনের অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘সুপার ১০০’ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা। উপজাতি ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাক্ষেত্রে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং মেধাবী পড়ুয়াদের বিশেষ সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।
পাশাপাশি উপজাতি কল্যাণ দপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচির বিস্তারিত তথ্য নিয়ে একটি সমন্বিত পুস্তিকাও এদিন প্রকাশ করা হয়। এর মাধ্যমে দপ্তরের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও সরকারি প্রকল্প সম্পর্কে ছাত্রছাত্রী এবং সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে শিক্ষাক্ষেত্রে কৃতিত্ব অর্জনকারী বিভিন্ন উপজাতি ছাত্রছাত্রী এবং হোস্টেলগুলিকে পুরস্কৃত ও সম্মানিত করা হয়। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত উপজাতি ছাত্রাবাসের কৃতী ছাত্রছাত্রীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় পুরস্কার। পাশাপাশি মহকুমা স্তরের সেরা ছাত্রছাত্রী এবং সাব-ডিভিশনাল টপারদেরও সম্মানিত করা হয়। রাজ্য স্তরের মাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারী উপজাতি ছাত্রছাত্রীদেরও এদিন বিশেষভাবে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পড়াশোনায় ভালো ফল করে যারা নিজেদের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং রাজ্যের নাম উজ্জ্বল করেছে, তাদের উৎসাহিত করতেই এই সম্মাননা বলে জানানো হয়। শুধু ছাত্রছাত্রী নয়, ছাত্রাবাসগুলির সামগ্রিক পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতার উপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এদিনের অনুষ্ঠানে। ‘ক্লিন হোস্টেল, গ্রিন হোস্টেল’ কার্যক্রমের উপর একটি বিশেষ ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। এরপর এই উদ্যোগে ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে সেরা ছাত্রাবাসকে পুরস্কৃত করা হয়।
এদিন স্মার্ট ক্লাস প্রকল্পের আওতায় ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষা-সহায়ক সামগ্রীও বিতরণ করা হয়। প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের আরও উন্নত শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে জানা গেছে। অনুষ্ঠানকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মাণিক্যের জীবন, কর্ম ও ত্রিপুরার উন্নয়নে তাঁর অবদানকে কেন্দ্র করে একটি কুইজ প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়। ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে মহারাজার ইতিহাস ও অবদান সম্পর্কে আগ্রহ তৈরি করাই ছিল এই প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য। মহারাজা বীর বিক্রমের জন্মবার্ষিকীকে সামনে রেখে এদিনের এই অনুষ্ঠান একদিকে যেমন ত্রিপুরার ঐতিহাসিক ঐতিহ্যকে স্মরণ করার সুযোগ করে দেয়, অন্যদিকে উপজাতি ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা ও মেধার বিকাশে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগকেও সামনে তুলে ধরে।



