প্রবীণ নাগরিকদের সম্মান জানিয়ে তাঁদের অভিজ্ঞতাকে সমাজের সম্পদ হিসেবে তুলে ধরার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ড. মানিক সাহা। “প্রবীণরা সমাজের বোঝা নন, তাঁরা পথপ্রদর্শক ও অনুপ্রেরণা”—এই ভাবনাকে সামনে রেখে দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস ও অরবিন্দ ক্লাবের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে বুধবার আয়োজন করা হয় প্রবীণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের।
আগরতলার অরবিন্দ ক্লাব প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে এলাকার প্রবীণ নাগরিকদের সম্মানিত করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ড. মানিক সাহা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার, কর্পোরেটর রত্না দত্ত-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
এদিন প্রবীণ নাগরিকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রবীণ নাগরিকরা সমাজের বোঝা নন। তাঁদের দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান নতুন প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। প্রবীণদের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে সমাজ ও দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আগরতলা শহরের উন্নয়ন ও সৌন্দর্যায়নের বিষয়টিও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার আগরতলাকে আরও পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তুলতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। স্বচ্ছতা শুধু বাহ্যিক বিষয় নয়, সরকারের কাজের মধ্যেও স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শহরের জল নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নের কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৃষ্টির সময় যাতে দ্রুত জল নেমে যায়, সেজন্য বিভিন্ন এলাকায় পাম্প বসানো হয়েছে বলে জানান তিনি। আগামী দিনে আরও দ্রুত জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য কাজ চলছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
তবে অনুষ্ঠানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় নেশার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিষয়টি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সমাজের অন্যতম বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে নেশা। এর কবলে পড়ে যুবসমাজের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই নেশা কারবারীদের চিহ্নিত করে প্রশাসনের নজরে আনার জন্য সাধারণ মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।
এলাকায় কোথাও নেশার কারবার বা সন্দেহজনক কার্যকলাপ নজরে এলে দ্রুত প্রশাসনকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি। প্রশাসনের কাছে খবর পৌঁছালেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। নেশা কারবারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি।
একইসঙ্গে শহরের উন্নয়ন ও সরকারি উদ্যোগ সফল করতে নাগরিকদের সক্রিয় সহযোগিতার ওপর জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, সরকার একা কোনও উন্নয়নমূলক কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারে না। প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।
স্বাধীনতা দিবস ও প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে অরবিন্দ ক্লাবের এই উদ্যোগে একদিকে যেমন প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শনের বার্তা উঠে এসেছে, তেমনই নেশামুক্ত সমাজ গঠন এবং আগরতলা শহরের উন্নয়নে সরকার ও নাগরিকদের যৌথ ভূমিকার কথাও সামনে এসেছে।



