সংবিধানের অষ্টম তফসিলে মণিপুরী ভাষা অন্তর্ভুক্তির ঐতিহাসিক দিনটিকেই প্রতিবছর মণিপুরী ভাষা দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাজ্যে পালিত হল ৩৫তম মণিপুরী ভাষা দিবস। গত দু’বছরের মতো এবারও ত্রিপুরা সরকারের উদ্যোগে সরকারি মর্যাদায় দিনটি উদযাপন করা হয়। এবার রাজ্যভিত্তিক মণিপুরী ভাষা দিবসের মূল অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় আগরতলা টাউন হলে। দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মণিপুরী ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মণিপুরী সম্প্রদায়ের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। মূল অনুষ্ঠান শুরুর আগে টাউন হল প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। মণিপুরী ভাষা ও সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে শোভাযাত্রাটি আগরতলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ পথ পরিক্রমা করে পুনরায় টাউন হল প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।
এরপর টাউন হলে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ আলোচনা সভা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও মণিপুরী সমাজের প্রতিনিধিরা। এবারের অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল মণিপুরের তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রীর উপস্থিতি। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায় মণিপুরী ভাষা ও সংস্কৃতির ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভারতীয় সংস্কৃতির পরিমণ্ডলে নৃত্য ও সংগীতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে মণিপুরী নৃত্য দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে একটি স্বতন্ত্র স্থান দখল করে রয়েছে। মণিপুরী ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে তা আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে ভাষার মর্যাদা রক্ষা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে। মন্ত্রী আরও বলেন, সংবিধানের অষ্টম তফসিলে মণিপুরী ভাষার অন্তর্ভুক্তি ভাষাটিকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও মর্যাদা দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই স্বীকৃতির ঐতিহাসিক গুরুত্বকে সামনে রেখে ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশে সকলকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।
আলোচনা সভায় উপস্থিত অন্যান্য বক্তারাও মণিপুরী ভাষার প্রসার, সাহিত্যচর্চা, সংস্কৃতির সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে ভাষার প্রতি আগ্রহ তৈরির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। দিনভর আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মণিপুরী সমাজের মানুষের মধ্যে ছিল উৎসাহ ও উদ্দীপনা। ৩৫তম মণিপুরী ভাষা দিবসের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন মণিপুরী ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতির ইতিহাস স্মরণ করা হয়, তেমনই ভাষা ও সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বার্তাও উঠে আসে।



