দীর্ঘ ৪৮ বছরের পথচলা পেরিয়ে ৪৯তম প্রতিষ্ঠা দিবসে পা রাখল জনজাতি ছাত্র সংগঠন উপজাতি ছাত্র ইউনিয়ন। বুধবার আগরতলার মেলার মাঠস্থিত ছাত্র যুব ভবনে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় সংগঠনের প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করা হয়।
১৯৭৮ সালে খোয়াই শহরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা চার শতাধিক জনজাতি ছাত্রছাত্রীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত দুই দিনের সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছিল উপজাতি ছাত্র ইউনিয়ন। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই জনজাতি ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা, অধিকার এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যাকে সামনে রেখে সংগঠন আন্দোলন করে আসছে বলে জানান নেতৃত্ব।
প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানের শুরুতে সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুজিত ত্রিপুরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভ্রাতৃপ্রতিম ছাত্র সংগঠন এসএফআইয়ের রাজ্য নেতৃত্বসহ অন্যান্য কর্মী-সমর্থকরা। পতাকা উত্তোলনের পর শহীদ বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে আন্দোলনে প্রাণ হারানো ছাত্রছাত্রীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
এদিনের কর্মসূচিতে সংগঠনের দীর্ঘ আন্দোলনের ইতিহাস ও বিভিন্ন সময়ে ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে নেওয়া কর্মসূচির কথা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি বর্তমান সময়ে জনজাতি অধ্যুষিত এলাকার ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও সরব হন সংগঠনের নেতৃত্ব।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুজিত ত্রিপুরা অভিযোগ করেন, রাজ্যের জনজাতি অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে এখনও শিক্ষা পরিকাঠামো, পর্যাপ্ত শিক্ষক, ছাত্রছাত্রীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা এবং কর্মসংস্থান নিয়ে একাধিক সমস্যা রয়েছে। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অনেক মেধাবী ছাত্রছাত্রী উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।
জনজাতি ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার সুযোগ আরও বাড়ানো, বিদ্যালয়গুলিতে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান ছাত্রনেতা। তাঁর বক্তব্য, শুধু প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করলেই সংগঠনের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না; ছাত্রছাত্রীদের ন্যায্য অধিকার ও দাবির জন্য আগামী দিনেও আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
এদিনের কর্মসূচি থেকে জনজাতি ছাত্রছাত্রীদের নিজেদের অধিকার ও দাবি-দাওয়ার প্রশ্নে আরও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। সংগঠনের নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দেয়, জনজাতি অধ্যুষিত এলাকার ছাত্রছাত্রীদের সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবে উপজাতি ছাত্র ইউনিয়ন।



