গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে জুডোতে স্বর্ণপদক জিতে দেশের পাশাপাশি ত্রিপুরার মুখ উজ্জ্বল করেছেন রাজ্যের ক্রীড়াবিদ অস্মিতা দে। তাঁর এই ঐতিহাসিক সাফল্যকে ঘিরে যেমন রাজ্যজুড়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে, তেমনি অস্মিতার কর্মসংস্থান ও সরকারি স্বীকৃতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিরোধীদের অভিযোগ, স্বর্ণজয়ী এই ক্রীড়াবিদকে এখনও যোগ্য সম্মান ও সুযোগ দিতে পারেনি রাজ্য সরকার।এই ইস্যুতে মঙ্গলবার মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহা। আগরতলা রাজবাড়িতে ঐতিহ্যবাহী কের পূজায় অংশ নেওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিরোধীদের অভিযোগের কড়া জবাব দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারই রাজ্যের ক্রীড়াবিদদের প্রকৃত সম্মান দিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও সেই ধারা বজায় থাকবে। তাঁর দাবি, অতীতে খেলাধুলার ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করত এবং যোগ্যতার পরিবর্তে দলীয় পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়া হতো। তিনি আরও বলেন, অতীতের সরকারে ক্রীড়াক্ষেত্রে রাজনীতি হয়েছে। ক্যাডারভিত্তিক সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, আগে অনেক ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের যোগ্যতার চেয়ে সুপারিশের ভিত্তিতে জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ মিলত। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে বর্তমান সরকার মেধা ও যোগ্যতাকে প্রাধান্য দিয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার বিভিন্ন ক্রীড়াবিদের নামে খেলার মাঠের নামকরণ করেছে, কোনো রাজনৈতিক নেতা বা নেত্রীর নামে নয়। এর মধ্য দিয়েই সরকার খেলোয়াড়দের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের নজির স্থাপন করেছে।
বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, বিরোধীদের কাজই হলো সরকারের বিরুদ্ধে দুর্বলতা খোঁজা। তবে রাজ্যের মানুষ সবকিছুই দেখছেন এবং জানেন। খেলোয়াড়দের কীভাবে সম্মান দিতে হয়, তা বর্তমান সরকার ভালোভাবেই জানে এবং আগামী দিনেও ক্রীড়াবিদদের পাশে থাকবে সরকার। অস্মিতা দে-র সাফল্যকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই রাজনৈতিক তরজা আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজ্যের ক্রীড়া ও রাজনৈতিক মহলের।



