রাজ্যে জেলাভিত্তিক “গার্ডিয়ান মিনিস্টার” নিয়োগের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে প্রদেশ কংগ্রেস। একইসঙ্গে মূল্যবৃদ্ধি, অনশনকারী ওয়াংচুকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা এবং মুখ্যমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে পি. কে. চক্রবর্তীর অপসারণ নিয়েও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছে দল। আন্দোলন আরও জোরদার করতে রবিবার প্রদেশ কংগ্রেসের বর্ধিত সভাও ডাকা হয়েছে।
রাজ্য সরকারের জেলাভিত্তিক “গার্ডিয়ান মিনিস্টার” নিয়োগের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে সরব হয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস। শনিবার আগরতলা কংগ্রেস ভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে দলের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী দাবি করেন, এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন তুলছে। প্রবীর চক্রবর্তী জানান, রবিবার প্রদেশ কংগ্রেসের বর্ধিত সভায় রাজ্যজুড়ে আন্দোলন কর্মসূচি আরও জোরদার করার কৌশল, জনস্বার্থের বিভিন্ন ইস্যু এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে অনশনরত ওয়াংচুকে পুলিশ যেভাবে অনশনস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়, তারও তীব্র সমালোচনা করে কংগ্রেস। দলের দাবি, অতীতের কংগ্রেস সরকারের সময় অনশনকারীদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়নি। বর্তমান সরকার বলপ্রয়োগ করে অনশন ভাঙিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন প্রবীর চক্রবর্তী। মূল্যবৃদ্ধির বিষয়েও কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সমালোচনা করে কংগ্রেস। দলের দাবি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, বিশেষ করে ডিমসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীর মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ বলেও অভিযোগ তাদের। মুখ্যমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে পি. কে. চক্রবর্তীর অপসারণের প্রসঙ্গ তুলে কংগ্রেসের অভিযোগ, এই ঘটনা দুর্নীতির ইঙ্গিত বহন করে। পাশাপাশি জিরানিয়ায় কর্মরত থাকাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ ছিল বলেও দাবি করেন দলের মুখপাত্র। এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে প্রবীর চক্রবর্তীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেসের ওবিসি বিভাগের চেয়ারম্যান মনোরঞ্জন দেবনাথ এবং এসসি বিভাগের চেয়ারম্যান নিরঞ্জন দাস। রবিবারের বর্ধিত সভার পর আন্দোলনের রূপরেখা আরও স্পষ্ট হবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।



