ত্রিপুরার রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে পিকে চক্রবর্তীর গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ। এই নিয়োগকে ঘিরে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছে সিপিআই(এম)। পাশাপাশি নিট-সহ বিভিন্ন ভর্তি পরীক্ষার অনিয়ম, আইন-শৃঙ্খলা এবং রাজ্যের পরিকাঠামো নিয়েও সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছে বিরোধী শিবির।
সিপিআই(এম) রাজ্য নেতৃত্বের দাবি, অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক পিকে চক্রবর্তীকে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে বসানোর সিদ্ধান্ত প্রশ্নের মুখে পড়েছে। দলের অভিযোগ, পূর্ববর্তী রাজ্য নির্বাচন কমিশনার মনোজ কুমারকে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সরিয়ে এই নিয়োগ করা হয়েছে। তাদের দাবি, নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে সর্বজনগ্রাহ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত ছিল।
বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে সিপিআই(এম) জানায়, পিকে চক্রবর্তীর অতীত ভূমিকা ও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই নিয়োগ নিয়ে প্রশাসনের অন্দরেও প্রশ্ন উঠেছে বলে তারা দাবি করছে। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে কোনও প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি এবং সরকারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। দলের আরও অভিযোগ, রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। একই সঙ্গে আসন্ন বিভিন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখার দাবি জানিয়েছে তারা। এদিন সিপিআই(এম) নিট-সহ বিভিন্ন সর্বভারতীয় ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে ওঠা অনিয়মের অভিযোগেও কেন্দ্রের সমালোচনা করে। ছাত্র-যুবদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ২০ জুলাই রাজ্যজুড়ে কর্মসূচির ঘোষণা দেয় দল। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
এছাড়া সাম্প্রতিক এক ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সিপিআই(এম) দাবি করে, ডিজিপির মন্তব্যেই এসপির আচরণ নিয়ে অস্বস্তির ইঙ্গিত মিলেছে। বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তেরও দাবি জানানো হয়। রাজ্যের বিভিন্ন সড়কের বেহাল দশা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয় নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভারী বৃষ্টির সময় মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা কেন পরিস্থিতি পরিদর্শনে যাননি। তবে বিরোধীদের এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।



